২৪ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ওয়াসার পানির শরবত

ঢাকা ওয়াসার পানি কতখানি নিরাপদ, বিশুদ্ধ কিংবা সুপেয় কিনা তা জানতে সর্বসাধারণের ভেতর একটি জরিপের মাধ্যমে বের করে আনা তেমন কোন বিষয় নয়। ওয়াসার গ্রাহক মাত্রই জানেন পানি না ফুটিয়ে খাওয়া মানেই জীবাণুবাহিত কোন অস্বাস্থ্যকর তরল পান করা। এ নিয়ে টিআইবির একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমন জরিপের ব্যাপারে মতানৈক্য পেশ করতে গিয়ে সংস্থাটির প্রধান তাকসিম এ খান এই কথাও বলতে দ্বিধা করেননি যে, সাধারণ মানুষের জন্য ওয়াসার পানি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং ঝুঁকিমুক্ত। তবে অসাধারণ কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অন্য রকম ব্যবস্থা তো থাকেই। সেই কারণে ওয়াসার পানি বিশুদ্ধ হলেও আপেক্ষিক। ‘শতভাগ নিরাপদ’ এই সুপেয় পানি ঢাকার সাধারণ নাগরিকদের জন্য খাওয়ার উপযোগী।

ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানকে এমন সুপেয় পানির শরবত খাওয়াতে ওয়াসা ভবনের সামনে সপরিবারে চলে আসেন জুরাইনের বাসিন্দা মিজানুর রহমান। তিনি এমডির কার্যালয়ে এসে তাকে ওয়াসার পানির শরবত পান করাতে ইচ্ছে করলেও তাকে ঢুকতেই দেয়া হয়নি। তিনি জুরাইনের নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক। জ্বালাও-পোড়াও-অবরোধের পরিবর্তে তিনি প্রতিবাদের এক নতুন ভাষা খুঁজে নিয়েছেন। ১৭ এপ্রিল টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অপরিশুদ্ধ ওয়াসার পানি ফুটানো ছাড়া পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সুতরাং এই পানি ফুটিয়ে বিশুদ্ধ করা ছাড়া খাওয়ার অযোগ্য। জরিপে আরও উঠে আসে পানি ফোটাতে বিশেষ করে বাসাবাড়িতে ৩৬ কোটি ৫৭ লাখ ৩৭ হাজার ঘনমিটার গ্যাস জ্বালাতে হয়, যার আর্থিক মূল্য ৩৩২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ৯১% বাসাবাড়ির এমন গ্রাহক সব সময়ই পানি ফুটিয়ে খেতে অভ্যস্ত। কিন্তু ওয়াসার এমডি এমন তথ্যে সম্পূর্ণ অনাস্থা প্রকাশ করে বলেছেনÑ প্রতিবেদনটি ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার মতে, ওয়াসার শতভাগ সুপেয় পানি ফোটাতে গ্যাস পোড়ানোর কোন মানে আছে কিনা তিনি জানেন না। শুধু তাই নয়, তিনি আরও একটি সম্ভাবনার কথা জানান যে, এমন একটি বিরাট কর্মপরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে ওয়াসার পাইপ লাইনগুলো বদলানোর যাতে ট্যাপের পানিও বিশুদ্ধ হয়ে যাবে ২০২১ সালে।

মানুষের জীবন ধারণের প্রাণশক্তি পানির মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে এমন কথা বলা কোন প্রতিষ্ঠানের প্রধানের পক্ষে, তিনি যদি আবার হন সেই পানিরই হর্তাকর্তা বিধাতা, তাহলে তাকে সত্য বলে ধরে নিতে আপত্তি থাকে না। বিপত্তি ঘটে তখনই এমডি যখন সেই বিশুদ্ধ পানি পান করতে নারাজ হন। তখন জনসমক্ষে তার নিজের বাণী ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হয়ে তার ওপরই আছড়ে পড়ে। ফলে জুরাইনবাসী মিজানুর ওয়াসার পানিই শুধু নয়, এমডির মতে বিশুদ্ধ ৩০ টাকার পানির বোতল নিয়ে ওয়াসা অফিসে আসেন প্রধান কর্মকর্তাকে পানি খাওয়ানোর উদ্দেশ্য নিয়ে। কিন্তু এই পানিও এমডিকে খাওয়ানো যায়নি। উপরন্তু তাকে হেনস্থা করা হচ্ছে নানাভাবে। এ ব্যাপারে তার নিজেরও কিছু মত আছেÑ তিনি শতভাগ নিরাপদ হওয়া সত্ত্বেও ওয়াসার পানি খেতে চান না। বাসার ফোটানো পানিই খেতে অভ্যস্ত। এসব বলতে গিয়ে এমনও মুখ ফসকে বের হয়ে যায় ওয়াসার শান্তি বোতলের পানি খেতে তার কোন আপত্তি থাকে না। মাঝে মধ্যে ট্যাপের পানিও খান। তবে মিজানুর রহমানের নেয়া পানি খেতে তিনি অনীহা প্রকাশ করেন। যার তার হাতে পানি খান না বলে বিরক্তিও ফুটে ওঠে তার কণ্ঠে।

তবে যাই হোক ব্যাপারটা এমডি সাহেবের পানি খাওয়া নিয়ে নয়। নিরাপদ এবং বিশুদ্ধ পানি পান করা জনকল্যাণে একান্ত জরুরী। এই পর্যন্ত চলে আসা নিয়মে পানি ফুটিয়ে বিশুদ্ধ করে খাওয়াটাই স্বাস্থ্যসম্মত। তা না হলে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। ব্যক্তি সচেতনতায় ওয়াসার পানিকে নিরাময় করতে যা যা করার সবটাই করতে হবে। পানির পাইপকে নিয়মিত নজরদারিতে রেখে লিকেজ শনাক্ত করাও আবশ্যক। কারণ এসব ছিদ্র নিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত অপরিষ্কার পানি ঢুকে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। সাবধানের কোন মার নেই। তাই প্রতিটি ভবনের পানির ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করার নিয়ম চালু রাখা বাঞ্ছনীয়। বর্তমানে বিশুদ্ধকরণ পানির মেশিন বাজারে সহজলভ্য। তেমন যন্ত্রও ঘরে বসানো যায়। সব দিক বিবেচনায় এনে বিশুদ্ধ, নিরাপদ এবং সুপেয় পানির জন্য জনসচেতনতা সব থেকে বেশি প্রয়োজন। খাবার পানিকে জনবান্ধব এবং সবার জন্য উপযোগী করে তুলতে হবে।