১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব সংসদে নাকচ

 সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব সংসদে নাকচ

সংসদ রিপোর্টার ॥ সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স সীমা না বাড়ানোর ব্যাপারের সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেছেন, দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভাল। তাই ২২-২৩ বছরের মধ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করতে পারছে আমাদের তরুণরা। কাজেই তারা চাকরিতে প্রবেশে ৭ বছর সময় পাচ্ছে। চাকরিতে প্রবেশে এই ৭ বছরই যথেষ্ট।

বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের বিধিতে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রেজাউল করিম লাবলু’র আনীত একটি প্রস্তাবের জবাব দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া প্রস্তাবটি ভোটে দিলে না কন্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চাকরিতে প্রবেশের বয়স সীমার বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। যে নীতিগত সিদ্ধান্তটি এখন চলমান আছে, তা হচ্ছে সরকারি চাকরি ক্ষেত্রে স্বাধীনতা উত্তর চাকরিতে প্রবেশের বয়স সীমা ছিল মাত্র ২৫ বছর, পরবর্তীতে ২৭ বছর করা হয়। সবশেষ ৩০ বছর করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য বিসিএস পরীক্ষায় ৩০ বছর এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩২ বছর করা হয়েছে।

প্রবেশের বয়স সীমা না বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্তের ব্যাখা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, তখন বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে বয়স সীমা বাড়ানো হয়েছিল। তখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায়ই সেশন জট লেগে থাকত। সেই বিবেচনায় বয়স বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভাল। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন সেশন জট নেই, যেকারণে শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে অর্থাৎ ২৩ বছরেই স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করছে। কাজেই শিক্ষা জীবন শেষ করে ৭ বছর সময় পাচ্ছে। চাকরিতে প্রবেশে এই ৭ বছর সময়ই যথেষ্ট।

অন্য আরেকটি ব্যাখা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাব অনুযায়ী যদি ২৩ বছরে একজন শিক্ষার্থী লেখাপড়া শেষ করে চাকরিতে প্রবেশ করেন আর ৩৫ বছরে একজন চাকরিতে প্রবেশ করেন তাহলে দুই জনের মধ্যে বয়সের পার্থক্য দেখা দেবে। তাতে বয়সের অসামঞ্জস্যতা দেখা দেবে। বয়সের অসামঞ্জস্যতার কারণে একই পদে চাকরি করার ক্ষেত্রে মনস্তাত্বিক সমস্যা হতে পারে। তাই প্রস্তাবটা অতটা যৌক্তিক মনে হয় না।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়স সীমা ৫৯ বছর রয়েছে। সরকারি চাকরিতে পেনশনের ক্ষেত্রে একটা নীতিমালা রয়েছে। পেনশন পেতে হলে অন্তত ২৫ বছর চাকরি করতে হয়। সেক্ষেত্রে যদি ৩৫ করা হয় তাহলে দেখা যাবে চাকরিতে প্রবেশ করতে ৩৫ বা ৩৭ বছর লেগে যায় তাহলে ৫৯ বছর থেকে ৩৭ বছর বাদ দিলে মাত্র ২২ বছর হয়। সেক্ষেত্রে পেনশন পেতে ঝামেলা হবে। কাজেই সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে প্রবশের বয়স সীমা শৃঙ্খলায় রাখার জন্য বর্তমান নীতিই উপযুক্ত মনে করছে সরকার। তাছাড়া সরকার অনেক চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করছে।