২৫ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রোহিঙ্গাদের জীবনচিত্রের নাটক পলিথিন হাউজ

রোহিঙ্গাদের জীবনচিত্রের নাটক পলিথিন হাউজ
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাষ্ট্রহীন মানুষের বেদনাকে উপজীব্য করে নির্মিত হয়েছে নাটক। বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্দশাকে ঘিরে এগিয়ে যায় নাটকের কাহিনী। উঠে এসেছে জাতিগত নিধনের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবন যাতনা। চোখের সামনে স্বজনকে খুন ও ধর্ষণ হতে দেখা কিংবা ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার বীভৎসতায় বিহ্বল হয়ে গেল জীবন। আপন ভূমিহারা মানুষগুলো প্রাণ বাঁচাতে ভিন দেশে আশ্রয় নিয়ে পরিণত হয় শরণার্থীতে। অমানবিকতার দৃষ্টান্তময় এমন ঘটনাপ্রবাহকে মঞ্চে এনেছে তারুণ্যনির্ভর নাট্যদল প্রাচ্যনাট। মিয়ানমারের রাখাইনে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের ট্র্যাজেডিনির্ভর নতুন নাট্য প্রযোজনাটির শিরোনাম ‘পলিথিন হাউজ’। আজাদ আবুল কালামের রচনায় প্রযোজনাটির নির্দেশনা দিয়েছেন মোঃ সাইফুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়। এদিন দেশে নাটকটির প্রথম প্রদর্শনী হলেও ইতোমধ্যে বিদেশের মাটিতে প্রদর্শনীর মাধ্যমে আলোচিত হয়েছে প্রযোজনাটি। এর আগে সিঙ্গাপুরে এশিয়ান ইয়ুথ থিয়েটার ফেস্টিভ্যালে মঞ্চস্থ নাটকটি দর্শকদের কাছে বিপুলভাবে সমাদৃত হয়েছে।

প্রযোজনাটির মূল আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্কটময় জীবনচিত্র। যা বিশ্ব বিবেকের কাছে এখন পর্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে রয়েছে।

বৌদ্ধপ্রধান দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলিম জহির উদ্দিন বর্মী সামরিক অত্যাচারের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট পরবর্তী অবস্থায় সর্বস্ব হারিয়ে রিফ্যুজি হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। সে আশ্রয় শিবিরে তার পরিবার নিয়ে পলিথিনের তাঁবুর ভেতর থেকে সচরাচর বের হয় না। শুধু তিন বেলা সময়মতো খাবারের জন্য হাত পাতে। জহির উদ্দিন পরিবারের এমন আচরণের কারণ খুঁজে বের করার জন্য একজন স্বেচ্ছাসেবক এক রাতে জহির উদ্দিনের তাঁবুর সামনে এসে উপস্থিত হয়। সেখানে স্বেচ্ছাসেবক খুঁজে পায় সেই পরিবারের দুঃখ-দুর্দশার কথা, নিকট অতীতের কথা, বর্মী সৈনিকের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের কথা, বৌদ্ধভিক্ষুর মুখের হাসির খোরাকের কথা, ইজ্জত লুটের কথা ও মানুষ হিসেবে অমর্যাদার কথা। এসব গল্প শুনে সীমিত সামর্থ্যরে এই স্বেচ্ছাসেবক কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে এবং নিজেকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। রোহিঙ্গাদের ওপর বৌদ্ধ সৈনিকদের নৃশংসতার ঘটনায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে স্বেচ্ছাসেবক। তার ভেতরের মানুষটির হৃদয়ে দাগ কেটে যায়। এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকটির কাহিনী।

জাদুঘরে আলোচনা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী ॥ আলোচনা ও ‘স্কেচিং উইমেন ওয়ার্ল্ড অব ওয়ার্ক’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী হয় জাতীয় জাদুঘরের সিনেপ্লেক্স ও নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে মঙ্গলবার। কেয়ার আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর তুইমো পুতিয়েনেন, জাতিসংঘের নারী প্রতিনিধি শোকো ইশিকাওয়া ও বাংলাদেশের কেয়ার কান্ট্রি ডিরেক্টর জিয়া চৌধুরী। প্রদর্শনী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রথিতযশা চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম ও আলোকচিত্রী মোঃ রাকিবুল হাসানও উপস্থিত ছিলেন।