২৫ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষা খাতে জিডিপি বরাদ্দ এখনও ২ শতাংশে আটকে আছে ॥ দীপু মনি

  • শিক্ষক সম্মেলন উদ্বোধন

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ বঙ্গবন্ধু ৭০ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে বলেছিলেন, অন্ততপক্ষে জিডিপির শতকরা ৪ ভাগ এ খাতে বিনিয়োগ করা দরকার। কিন্তু আমরা এখনও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রায় ৫০ বছরেও জিডিপির ২ শতাংশের কাছাকাছি থেকে গেছি বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত শিক্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম দিনব্যাপী এই কর্মসূচীর আয়োজন করে। ‘আমার গ্রাম-আমার শহর-আমার শিক্ষা’ শীর্ষক এই প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ সোহরাব হোসাইন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোহেল আহমেদ, এটুআই প্রোগ্রামের পলিসি এ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী প্রমুখ। অন্যদিকে ‘ভবিষ্যৎ শিক্ষাÑ ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি’ শীর্ষক এই পর্বে বক্তব্য রাখেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম, এটুআই প্রকল্প পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

দীপু মনি বলেন, আমাদের দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সারাদেশেই এখন মেগা প্রজেক্টের কাজ চলছে। সেগুলোর একটা বড় প্রয়োজন আছে। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের শিক্ষাও, কারণ এখন আর ২০৪১ সাল থেকে আমরা খুব বেশি দূরে নেই। মাত্র ২১-২২ বছর দূরে। সেই সময়টাকে সত্যিকার অর্থে কাজে লাগিয়ে যদি আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে হয়, আমাদের বাজেটে নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে। আমাদের শিক্ষা খাতকে কোথায় নিয়ে যেতে হবে, তার জন্য আমাদের কি কি করতে হবে, এসবের জন্য আমার কত টাকা দরকার সেই হিসেবে বরাদ্দটি হতে হবে।

শিক্ষাক্ষেত্রে সৃজনশীলতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা পদ্ধতিগত পরিবর্তন এনেছি কিন্তু সেই পরিবর্তন আরও কিভাবে ভাল করা যায় সেই চেষ্টাই আমরা করতেছি। যেই মূল্যায়ন দ্বারা আমরা আসলেই কতটুকু জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জন করেছি সেটাই আমরা জানতে পারি না, সেই মূল্যায়ন তো তাহলে সঠিক মূল্যায়ন নয়। কাজেই আমাদের অনেক কিছু করতে হবে।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, আমি মনে করি, আমাদের বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি যেগুলো আছে, সেখানে আমাদের বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটাতে হবে।

সেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, শিক্ষক যারা আছেন, শিক্ষকদের চাইতেও বেশি সেখানে কর্তৃত্ব ফলানোর জন্য আমরা যাদের নিয়োগ দেই, অনেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকে না। কিন্তু আমরা শুধু নিজের কতৃত্ব বজায় থাকার জন্য শিক্ষিত নন এমন ব্যক্তিদের সেই ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নিয়োগ দেই। এটা আমাদের আসলে সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যথতা। আমাদের আদর্শিক জায়গা থেকে জনগণের প্রতি একটা দায়বদ্ধতা আছে। সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমাদের উচিত শিক্ষাগত যোগ্যতা নিশ্চিত করেই এবং শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদেরই স্কুল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংযুক্ত করা।

বিকেলে সমাপনী পর্বে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে যে, আমরা পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল দেশ। আমাদের শতকরা ৬৫ ভাগ মানুষ ৩৫ বছর বয়সের মধ্যে। এখন আমরা যাই কিছু ভাবি, এখন এটা প্রায়ই আমি বলে থাকি আমাদের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থা, এই শিক্ষাব্যবস্থাটা একদম ধইরা নিয়া বঙ্গোপসারে ফেলে দেয়া উচিত। কারণ এটা প্রথম শিল্পযুগের শিক্ষাব্যবস্থা।