১৯ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৫ উপজেলায় পরিবহন ভাডা নৈরাজ্য

বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৫ উপজেলায় পরিবহন ভাডা নৈরাজ্য
  • *নিয়ন্ত্রণে অসাধু মালিক ও শ্রমিক সংগঠন

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁশখালী ॥ দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাঁশখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া সহ কয়েকটি উপজেলার যাত্রীদের কাছ থেকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে গাড়ির চালক ও হেলপাররা। এ নিয়ে গাড়ির হেলপারদের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এ পথের যাত্রীদের। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সাথে প্রশাসনের বার বার আলোচনার পরও মিলছে না কোন সুফল।

শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীদের উপচে পড়া ভীড়কে কেন্দ্র করে কৃত্রিম পরিবহন সঙ্কট সৃষ্টি করে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে ভাড়া। চন্দনাইশ, বাঁশখালী, আনোয়ারা, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার আরকান সড়ক ও পিএবি রুটে যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হয় সবচেয়ে বেশি। বৃহস্পতিবার,শুক্রবার ও রোববার শাহ আমানত সেতু থেকে আনোয়ারা, বাঁশখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার যাত্রীদের দ্বিগুণ ও তিনগুণ ভাড়া নেয়।

বৃহস্পতিবার আসলেই শাহ আমানত সেতু থেকে আনোয়ারা বরকল বরমাগামী বাসগুলো ৫০-৮০টাকা নেয়। পটিয়াগামী যাত্রীদের কাছ থেকে ১৫-২০ টাকার ভাড়া ৫০-৮০ টাকা পর্যন্ত নেয়। চন্দনাইশের যাত্রীদের ৬০-১০০ টাকা, বাঁশখালীগামী ১০০-১৫০ টাকা, সাতকানিয়াগামী ৮০-১২০ টাকা এবং লোহাগাড়া উপজেলার যাত্রীদের কাছ থেকে ১০০-১৫০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে। বাড়তি ভাড়া আদায় করতে গাড়ির চালকরা রাত ৮টার পর গাড়ি বন্ধ করে দিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে।

যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনকে বারবার বলা হলেও নেয়া হয় না কোনো ব্যবস্থাাা। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে পরে চলে যায়। বর্ধিত ভাড়া নিশ্চিত করতে নেয়া হয় না প্রশাসনিক ব্যবস্থা। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই গাড়ির চালক ও হেলপাররা বাড়তি ভাড়া আদায় করে। আর এতে তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করে মালিক সমিতির নেতারা।

কথা হয় বাঁশখালী যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকা আজিম শাহরিয়ারের সাথে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার আসলেই যেন সড়ক হরতাল-অবরোধে পরিণত হয়। ভাড়া বেড়ে যায় দ্বিগুণের চেয়েও বেশি। বাঁশখালী যেতে লাগে সর্বো”চ ৬৫ টাকা। আর বৃহস্পতিবার সময়ের পাল্লার সাথে সাথে বেড়ে হয়ে যায় ১০০থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

তাওহীদ নামের এক চাকরিজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন বাড়িতে যাওয়া সম্ভব হয় না। শুক্রবার অফিস বন্ধ থাকে। তাই বৃহস্পতিবার অফিস শেষ করে বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়। আর গাড়ি ভাড়া বেড়ে যাওয়া দেখে মনটাই খারাপ হয়ে যায়। হ্যাঁ, ভাড়া একটু বাড়তে পারে। তাই বলে এমন নয় যে, দ্বিগুণ ছাড়িয়ে ভাড়া নিবে।

ব্যাংক এশিয়ার কর্মকর্তা আনিসুল হক বলেন, দ্বিগুণ ভাড়ার বিষয়টি এখন নিত্যনৈম্যতিক। কিছু করার নেই, বাড়ি যেতে হবে।

ভাড়া বেশি নেয়ার কারণ জানতে চাইলে মোক্তার হোসেন নামে একজন বাস ড্রাইভার জানান, বৃহস্পতিবার, শনিবার, রবিবার মালিককে অন্যান্য দিন থেকে ইনকাম বেশি দিতে হয়। বৃহস্পতিবার মানুষের উপচে পড়া ভীড় থাকে। রাস্তাঘাট জ্যামও থাকে অনেক। স্বাভাবিক ভাড়াতে যাওয়া-আসাতে অন্যান্য দিনের মত টাকা উঠেনা। তাই ভাড়া বাড়িয়ে নিতে হয়। তিনি বলেন, মালিককে ইনকাম কম দিতে হলে আমরাও ভাড়া কম নিতে পারি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ মুসা বলেন, অনেকে এ বিষয়ে জানিয়েছেন। আসলে দুর পাল্লার গাড়িগুলো ভাড়া বেশি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মূলত শহরের গাড়িগুলো বেশি ভাড়া নিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমরা এ বিষয়ে নোটিশ দিয়েছি। জেলা প্রশাসনকেও জানিয়েছি। আমরা চেষ্টা করছি যাতে গাড়ি চালকরা ভাড়া বাড়তি না নেয়। আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে। যাত্রীদের এ সমস্যা দুর হয়ে যাবে।