১৮ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইএসকে সামরিক রসদ সরবরাহে তুরস্কের পরই ভারতের নাম

আইএসকে সামরিক রসদ সরবরাহে তুরস্কের পরই ভারতের নাম

অনলাইন ডেস্ক ॥ জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের খেলাফতের অবসানের ঘোষণা যখন করা হচ্ছে, সেসময় শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ হামলার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়ে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে এই জঙ্গি সংগঠন।

স্মরণকালের এই ভয়াবহ হামলার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠছে যে, পরাজিত হওয়ার পরও কীভাবে আইএস আবারও সংগঠিত হলো? এছাড়া বিশ্ব মানবতার জন্য হুমকি হয়ে ওঠা এই জঙ্গিদের আর্থিক ও সামরিকভাবে কারা তাদের মদদ দিয়ে আসছে? আর এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে বেড়িয়ে এসেছে কিছু অবিশ্বাস্য তথ্য।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভিত্তিক স্টাডি গ্রুপ ‘কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চ (সিএআর)’ তাদের অনুসন্ধানে এই জঙ্গি গোষ্ঠীকে সহায়তা দেয়ার তালিকায় তুরস্কের পাশাপাশি ভারতসহ ২০ দেশের সম্পৃক্ততা পেয়েছে। আর এই খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ভারতে হইচই পড়ে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামিক স্টেট (আইএস)-কে ২০টি দেশের ৫১টি প্রতিষ্ঠান সামরিক রসদ সরবরাহ করে থাকে। আর এর মধ্যে ভারতের রয়েছে ৭টি প্রতিষ্ঠান।

তবে ইসলামিক স্টেটের কাছে বিস্ফোরক এবং নানা ধরনের সামরিক রসদ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি তুরস্কে। তারপরই রয়েছে ভারত। ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অবশ্য বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

সিএআর তার ২০ মাসের অনুসন্ধান ও গবেষণায় পাওয়া তথ্যে জানায়, সিরিয়া এবং ইরাকে আইএস যেসব অস্ত্র গোলাবারুদ নিয়ে যুদ্ধ করছে, তার মধ্যে বিশ্বের ২০টি দেশের ওই ৫১টি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা অন্তত ৭০০ এমন ধরণের উপাদান রয়েছে যেসব উপাদান ‘ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস’ বা আইইডি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

২০টি দেশের তালিকায় তুরস্ক, ভারত ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, রোমানিয়া, রাশিয়া, নেদারল্যান্ডস, চীন, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া আর চেক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশের নামও রয়েছে।

সিএআর জানিয়েছে, ২০টি দেশের ৫১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তুরস্কের প্রতিষ্ঠানই ১৩টি৷ সামরিক রসদগুলো লেবানন বা তুরস্ক হয়ে আইএস-এর কাছে পৌঁছায়।

ভারতীয় যে প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম এসেছে তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছেন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদক৷ এমন চারটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে।

তারা জানায়, লেবানন বা তুরস্কে তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো বিস্ফোরক বা বিস্ফোরক তৈরির উপযোগী দ্রব্য সরবরাহ করার তথ্যটি সম্পূর্ণ অসত্য৷ দুটি প্রতিষ্ঠান অবশ্য স্বীকার করেছে, তারা কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ‘ফিউজ’ বা ডেটোনেটিং কর্ড-এর মতো কিছু জিনিস সরবরাহ করে থাকে৷ তবে প্রতিষ্ঠান দু’টির দাবি, সরবরাহকৃত রসদ শেষ পর্যন্ত কোথায় যায়, কে বা কারা সেগুলো ব্যবহার করে তা তাদের জানা নেই।

ইরাক এবং সিরিয়ার কয়েকটি শহরে আইএস যোদ্ধাদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ২০টি দেশের ৫১টি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার কথা জানতে পেরেছে সিএআর।