২৪ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্রাইস্টচার্চ হামলায় আহত শিশুর পাশে প্রিন্স উইলিয়াম

ব্রিটেনের প্রিন্স উইলিয়াম শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে এক হাসপাতালে ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলায় আহত এক শিশুর সঙ্গে দেখা করেছেন। এ্যালেন আলসাতি (৫) ক্রাইস্টচার্চে হামলার সময় গুরুতর আহত হয়েছিল। ১৫ মার্চ সংঘটিত ওই হামলায় ৫০ জন নিহত হন। গার্ডিয়ান।

ডাক্তার জানিয়েছেন, এ্যালেন চোখে দেখতে, হাঁটতে বা ভালভাবে চলাফেরা করতে পারে না। তার মস্তিষ্কের গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। এটা স্থায়ী হবে কিনা সে ব্যাপারে কিছু বলা যাচ্ছে না। অকল্যান্ডের স্টারশিপ হাসপাতালে তার এখন চিকিৎসা চলছে। এ সপ্তাহে সে কোমা থেকে জেগে ওঠে। প্রিন্স উইলিয়াম এ্যালেনের বিছানার এক প্রান্তে বসে তার কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দেন। কয়েকদিন আগেই এ্যালেন কথা শুরু করেন- ইংরেজী ও আরবীতে কথা বলতে পারে সে। এ্যালেন যখন উইলিয়ামের সঙ্গে কথা বলছিল তখন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নও শিশুটির পাশেই উপস্থিত ছিলেন। তিনি তখন বাদামি রঙের হিজাব পরেছিলেন। এ্যালেন উইলিয়ামকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনার কি কোন মেয়ে আছে? জবাবে উইলিয়াম বলেন, হ্যাঁ, তাকে সবাই শার্লট বলে ডাকে। এ্যালেন তারপর জিজ্ঞেস করে, তার নাম কি? উইলিয়াম বলেন, শার্লট। সে তোমার মতো একই বয়সের। এ্যালেন তখন শান্তভাবে শার্লট নামটি উচ্চারণ করে।

ডিউক অব ক্যাম্ব্রিজ প্রিন্স উইলিয়াম দুদিনের সফরে এখন নিউজিল্যান্ডে রয়েছেন। তিনি সেখানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি হামলায় বেঁচে যাওয়া আহতদের সঙ্গেও দেখা করেন। নিউজিল্যান্ডে সর্বোচ্চ সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকির কারণে উইলিয়ামের সফরের বিস্তারিত বিবরণ গোপন রাখা হয়েছে। শুক্রবার আরডার্ন ও ডিউক ক্রাইস্টচার্চের হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে আল নূর ও লিনউড মসজিদে হামলায় আহত কয়েক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন। পরে তারা মসজিদ দুটি পরিদর্শন করেন। সেখানে উইলিয়াম জড়ো হওয়া মুসল্লিদের বলেন, ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালবাসা জয়ী হয়েছে। বক্তব্যের শুরুতে তিনি তি রিও মাওরি বলে তার বক্তব্য শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি উপস্থিত জনতাকে আরবীতে আসসালামু আলাইকুম বলে সালাম দেন। তিনি বলেন, আমি এখানে এসেছি আপনাদের সহায়তা করতে যাতে বিশ্ববাসীকে দেখাতে পারি যে সে ব্যর্থ হয়েছে। নিউজিল্যান্ডে একটি অপ্রত্যাশিত ঘৃণিত কাজ সংঘটিত হয়েছে- এটি এমন একটি দেশ যেটি শান্তিপূর্ণ। এই মুহূর্তে আমি এখানে দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে দাঁড়িয়ে আপনাদের সঙ্গে বলতে চাই, ভয়াবহ হামলার প্রতিক্রিয়ায় আপনারা কিছু অসাধারণ বিষয় অর্জন করেছেন... নিউজিল্যান্ডে যে ধরনের সহিংসতামূলক কাজ করা হয়েছে সেজন্য অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশ্ববাসী ওই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা জানতে পেরেছে, আপনাদের সহানুভূতি, সমবেদনা, উষ্ণতা ও ভালবাসা কতটা গভীর। আপনারা পথ দেখিয়েছেন আমাদের ঘৃণার প্রতিক্রিয়া অবশ্যই জানাতে হবে ভালবাসার সঙ্গে।