১৯ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হ্যানয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য সৎ ছিল না ॥ অভিযোগ উনের

কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন অভিযোগ করেছেন, এ বছরের শুরুতে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হওয়া শীর্ষ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘উদ্দেশ্য সৎ ছিল না’। কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি পুরোপুরিই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। বিবিসি।

কেসিএনএ জানিয়েছে, ভ্লাদিভস্তকের রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বৃহস্পতিবার তিনি এ মন্তব্য করেন। ২০১১ সালের পর উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে এটিই প্রথম শীর্ষ বৈঠক। এর আগে ২০০২ সালে পুতিন কিমের বাবা, উত্তর কোরিয়ার তখনকার শাসক কিম জং ইলের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। ইল সর্বশেষ ২০১১ সালে রাশিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে পুতিন উত্তর কোরিয়া সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। ‘সুবিধামতো কোন এক সময়ে’ ওই সফর হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

কেসিএনএর ভাষ্য, কোরীয় উপদ্বীপ ও ওই অঞ্চলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে এবং এটি একটি জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছে, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কিম পুতিনকে এমনটাই জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র যে একতরফা অবিশ্বাস ও সন্দেহ বাতিকগ্রস্ততা দেখিয়েছে তাতে পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফেরত যেতে পারে বলেও কিম সতর্ক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটনকেই দায়ী করছে পিয়ংইয়ং।

পারমাণবিক কর্মসূচীতে লাগাম টানার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে মতবিরোধে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার ওই শীর্ষ বৈঠক কোন সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। ভ্লাদিভস্তকের বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্টের অবস্থান ছিল ‘বিরোধ নিষ্পত্তিকারীর’ মতো। পারমাণবিক কর্মসূচী বন্ধের বিনিময়ে উত্তর কোরিয়ার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রয়োজন, বলেছেন পুতিন। কিমকে এ প্রস্তাব ‘বহুজাতিক কাঠামোর’ মাধ্যমে দিতে হবে বলেও মত তার। তিনি বলেছেন, আমাদের ওই পরিস্থিতিতে ফেরা দরকার, যেখানে আন্তর্জাতিক আইনই বিশ্ব পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রক হবে; শক্তিমানের আইন নয়। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন শুক্রবার রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তক নগরী ছেড়ে গেছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সম্মেলনের পর তিনি এ নগরী ছাড়লেন। সেখানে এ দুই নেতা দু’দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। উনের সাঁজোয়া ট্রেন গ্রিনিচ মান সময় ৫টা ৩০ মিনিটে ভ্লাদিভস্তক নগরী ছেড়ে যায়। এর আগে তিনি সেখানে এক বিদায়ী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উন ও পুতিন রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ভ্লাদিভস্তক নগরীতে বৃহস্পতিবার সম্মেলন করেন।