১৮ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সতর্ক থাকতে হবে

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় আত্মঘাতী সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী বিপন্নতা বাড়ার আশঙ্কা অমূলক নয়। যে কোন দেশে যে কোন সময়েই এ ধরনের জঙ্গী হামলা ঘটতে পারে এমনটা ভেবে নিয়েই স্ব-স্ব দেশের শাসকদের সতর্কতামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশে জঙ্গী উত্থানের বিষয়টি নানাভাবেই আলোচিত। ইতোমধ্যে দেশবাসী তা প্রত্যক্ষও করেছে। যদিও সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি এবং পুলিশের ব্যাপক তৎপরতার কারণে জঙ্গী তৎপরতার ব্যাপকতা কমেছে। তবে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটলে জঙ্গীদের অপতৎপরতারও যে বৃদ্ধি ঘটে- তা দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা, হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হত্যাকান্ড ছাড়াও দেশের বিভিন্ন মন্দির-মসজিদ, মাজার, ধর্মীয় স্থাপনা ও অনুষ্ঠানের হামলার যেসব ঘটনা ইতোপূর্বে ঘটেছে, ব্লগার ও মুক্তমনাদের হত্যা করেছে, পুলিশের ওপরও আক্রমণ করেছে; সর্বোপরি আইএসের নামে দায় স্বীকারের বার্তাও দিয়েছে- এসব ঘটনা বিশ্লেষণ করে জঙ্গীদের শক্তিহীন ভাবার কোন সুযোগ থাকে না। আমরা লক্ষ্য করেছি, মাঝেমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জঙ্গীরা বাসা ভাড়া নিয়ে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রধান প্রতিবন্ধক এই জঙ্গীবাদ রোধে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জঙ্গী-সংশ্লিষ্টরা যে কোন দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক দলে প্রবেশের মাধ্যমে জঙ্গী ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দিতে না পারে সে ব্যাপারেও রাজনীতিকদের সতর্ক থাকা দরকার। জঙ্গীবাদের নির্মূলই সবার প্রত্যাশা, যা নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রকেই।

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গেই গ্রহণ করতে হবে। দেশের কোথাও কোন অস্বাভাবিক কিছুর ইঙ্গিত পেলে সঙ্গে সঙ্গে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবগত করানোর সঙ্গত তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা ঠিক যে, বর্তমান সরকার জঙ্গীবাদ কঠোর হস্তে দমন করেছে। তার মানে এই নয় যে- আমাদের আত্মতুষ্টিতে ভুগতে হবে। জঙ্গীরা নতুন কৌশল অবলস্বন করবে- এটা স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেয়া যায়। জঙ্গীদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত পরিষ্কার। তিনি বলিষ্ঠকণ্ঠেই উচ্চারণ করেছেন, সন্ত্রাসী-জঙ্গীদের কোন ধর্ম নেই, দেশকালপাত্র নেই। জঙ্গী জঙ্গীই, সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই। যদি তা না হতো তাহলে ধর্মের দোহাই দিয়ে তারা হত্যাযজ্ঞ চালাত না। কারণ প্রতিটি ধর্মেরই মূল কথা শান্তি; হানাহানি নয়। পরধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতার কথাও বলা আছে ধর্মগ্রন্থসমূহে। ফলে বিধর্মীদের ওপর যারা চড়াও হয় তারা অধর্মই করে। এদের তাই কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। দুঃখের বিষয় হলো, দেশের কিছু বিপথগামী ব্যক্তি ইসলামিক স্টেটে যোগ দিয়েছে। এদের ভেতর কেউ কেউ দেশে ফিরে সন্ত্রাস চালাতে পারে- এমন একটি সতর্কবার্তা ইতোমধ্যে প্রচারিত। সে ব্যাপারে সরকার যথাযথ ব্যবস্থাও নিয়েছে। দেশে কোন ধরনের জঙ্গী হামলার ব্যাপারে জনসাধারণেরও সতর্কতা বাঞ্ছনীয়। এ ক্ষেত্রে ঢিলেমি বা গাফিলতির কোন সুযোগ নেই।

ক্ষুদ্র বা বৃহৎ- যে পর্যায়েই সন্ত্রাস পরিচালিত হোক না কেন তার চূড়ান্ত মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকেই। মানুষ জীবন পায় একবারের জন্যই, সেই জীবন সন্ত্রাসের শিকার হয়ে অকালে যাতে ঝরে না যায় বিশ্ববাসীর সেটাই প্রত্যাশা। সন্ত্রাসবাদ মানবতার শত্রু হিসেবেই শনাক্ত হয়। বিশ্বের শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ সব সময়েই সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে। বিশ্বনেতাদের কর্তব্য হচ্ছে এই গ্রহ থেকে সন্ত্রাস নির্মূল করার জন্য সম্মিলিতভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া, সন্ত্রাস উস্কে দেয়া নয়। ধর্মের নামে দেশে দেশে সন্ত্রাস সংঘটনকারীদের যে কোন মূল্যে থামাতে হবে।