২৪ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইঁদুরের যম মাগুরার আব্দুল হান্নান

ইঁদুরের যম মাগুরার আব্দুল হান্নান। শুধু মাগুরা নয় গোটা দেশকে ইঁদুরমুক্ত করার ইচ্ছে তার। এ লক্ষ্যেই ২০০৭ সালে তার যাত্রা শুরু মাগুরা জেলার বড়খড়ি গ্রাম থেকে। মিলেছে দুটি জাতীয় পুরস্কার। হান্নানের দাবি গত ১২ বছরে কমপক্ষে ২০ লাখ ইঁদুর মেরেছে সে।

মাগুরা সদর উপজেলার বড়খড়ি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নান জানান, ২০০৭ সালে মাঠ থেকে ধান কেটে বাড়ির ওঠানে রাখার ৭ দিন পর মাড়াই করার সময় দেখেন ইঁদুরে ধান কেটে নষ্ট করে ফেলেছে। এ সময় ভীষণ কষ্ট পায় হান্নান। সেই সঙ্গে মনে আসে ভয়ানক জেদ। যা থেকেই ইঁদুর নিধন অভিযানে নামা তার। বাড়ি, দোকানঘর, ফসলী মাঠ ইঁদুরমুক্ত করতে হান্নানের সহযোগিতা নিতে থাকে সবাই। ইঁদুর নিধনের নানা রকমের ফাঁদ সরবরাহ করতে থাকে সে সর্বত্র। যেখানেই ইঁদুর নিধনের প্রয়োজন সেখানেই ডাক পড়ে হান্নানের। সে মধু, গুড়, জিংক ফসফেট দিয়ে তৈরি করেছে তরল বিষ টোপ। এই টোপগুলো হান্নান হাটেবাজারে লোক মারফত বিক্রি করে। যার দাম ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা। যার প্রয়োজন হয় তিনি হান্নানের দোকান থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে যান। ইদুর নিধন শেষে যন্ত্রগুলো আবার ফেরত দিয়ে যান তারা। ১ লাখ ৮৮ হাজার ৪০টি ইঁদুরের লেজ দেখিয়ে ২০০৯ সালে ইঁদুর নিধনের জন্য জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে হান্নান। ২ লাখ ৩০ হাজার ১০২টি ইঁদুর নিধনের জন্য ২০১৩ সালে পেয়েছে জাতীয় পর্যায়ের প্রথম পুরস্কার। আব্দুল হান্নান জানায়, লিকুইড জাতীয় বিষ টোপ দিয়ে ইঁদুর নিধন সবচেয়ে সহজ। জিংক ফসফেট, মধু ,গুড় মিশ্রিত এই লিকুইড বেগুন, আলু জাতীয় সবজির সঙ্গে মিশিয়ে রাখলে ইঁদুর খেয়ে দ্রুত মারা যায়। ব্যক্তিগত জীবনে হান্নান ২ পুত্র, ১ মেয়ের জনক। ভ্যান রিক্সার বডি মিস্ত্রির কাজে যে আয় হয় তা দিয়ে সংসারের সব ব্যয় নির্বাহ করে হান্নান। হান্নানের দাবি গত ১২ বছরে কমপক্ষে ২০ লাখ ইঁদুর মেরেছে সে।

-সঞ্জয় রায় চৌধুরী, মাগুরা থেকে