১৪ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তিন দিনের মধ্যে ভাঙ্গা রাস্তা মেরামত

  • বর্ষা মৌসুমে খোঁড়াখুঁড়ি নয়

মশিউর রহমান খান ॥ এখন থেকে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে কাজ শেষ করার পর পরবর্তী তিন দিনের মধ্যেই ভাঙ্গা রাস্তা মেরামত ও সংস্কার করবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃপক্ষ। এছাড়া চলতি বর্ষা মৌসুমে জনভোগান্তি লাঘবে নতুন করে কোন রাস্তা খোঁড়ার অনুমতি দেবে না সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিশেষ কারণে তা কিছুটা শিথিল করা হবে। জনদুর্ভোগ কমাতে অতি দ্রুত নাগরিকদের কষ্ট লাঘবে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলামের যত্রতত্র খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধে ও জনদুর্ভোগের বিপরীতে উল্টো নাগরিক সেবা বৃদ্ধিকল্পে করণীয় বাড়াতে বেশ কিছু নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এর মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার তিনদিনের মধ্যেই রাস্তা মেরামতের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে ডিএনসিসির প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানা গেছে।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, এবার রাস্তা খোঁড়ার পর মাসের পর মাস বা কোন কোন ক্ষেত্রে বছরকাল রাস্তা মেরামত না করেই ভাঙ্গা অবস্থায় ফেলে রাখতে দেবে না ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ অতি দ্রুতই কিভাবে রাস্তা মেরামত করা যায় তার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ঢাকা মহানগরীতে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শেষ করতে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোন ঠিকাদারই ১৫ দিনের বেশি একটানা কোন রাস্তা খোঁড়ার কাজ করতে পারবেন না। প্রতিটি রাস্তার কাজ গুরুত্ব বুঝে ও দীর্ঘদিন রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখা বন্ধে ৫শ’ থেকে সর্বোচ্চ ৮শ’ মিটার রাস্তা খোঁড়ার অনুমতি দেবে। একইসঙ্গে এই রাস্তার কাজ শেষ করার পরই পরবর্তীতে নতুন করে রাস্তা খোঁড়ার জন্য অনুমতি দেবে সংস্থাটি। দশদিন থেকে সর্বোচ্চ ১৫ দিন একটানা কাজ করতে পারবে এমন পরিমাণ রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির অনুমতি দেবে ডিএনসিসি। এ ছাড়া এই রাস্তার কাজটি কতদিনের মধ্যে শেষ করতে হবে তাও নির্ধারণ করে দেয়া হবে।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী ইউটিলিটি সার্ভিসের জন্য কাজ শেষ করার পর ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষের কাছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক যতটুকু সেগমেন্ট) কাজ সম্পন্ন হয়েছে এমন ফাইনাল রিপোর্ট প্রদান করবেন। এরপরই কেবল নতুন করে পরবর্তী সেগমেন্টের কাজ শুরু করতে পারবেন। যে কোন ঠিকাদার একটি কাজ ফেলে রেখে কোনক্রমেই অন্য একটি সেগমেন্টের কাজ শুরু করতে পারবে না। বা একসঙ্গে সকল সেগমেন্টের কাজ করতে পারবেন না। পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে একসঙ্গে মাইলের পর মাইল রাস্তা খোঁড়ার পর কাজ না করেই মাসের পর মাস ফেলে রেখেছে। কোন কোন ক্ষেত্রে ঠিকাদারকে তার ইচ্ছেমতো কম লোক দিয়ে কাজ করতে দেখা গেছে। ফলে উক্ত এলাকায় বা মহল্লার রাস্তার কিংবা গলিতে চলাচলকারীদের জনদুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। আর বর্ষাকালে তো আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, রাস্তার ইউটিলিটি সার্ভিসের কাজ শেষ করার পর পরবর্তী তিন দিনের মধ্যেই ওয়াসা ডেসা তিতাস বা সংশ্লিষ্ট যে কোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে ডিএনসিসি ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে যৌথভাবে জরিপ করতে মাঠে নামবে একটি কমিটি। সরেজমিনে ডিএনসিসির অনুমতি অনুযায়ী রোড কাটা হয়েছে কি না বা কাটা হলে তা নির্ধারণ করবে একইসঙ্গে নিয়ম ভঙ্গ করে রোড কাটা হলে তার ক্ষতিপূরণ ধার্য করবে কমিটি। কমিটির রিপোর্ট প্রাপ্তির পরপরই ডিএনসিসির পূর্বে নিয়োগ করা ঠিকাদার দিয়ে উক্ত সড়ক মেরামত করবেন। ফলে অনেক কম সময়ের মধ্যেই খোঁড়াখুঁড়ি হওয়া রাস্তা সংস্কার বা মেরামত করে নাগরিকদের দুর্ভোগ লাঘব করা সম্ভব হবে। অপরদিকে কোন কোন সময় অনুমতির বাইরে নিয়ম ভঙ্গ করে বা কাজ করতে গিয়ে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিরা ইউটিলিটি সার্ভিসের ব্যাপক ক্ষতি করে ফেলে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোন প্রকার ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেই অর্থ গ্রহণ করবে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ। তাই কাজ শেষ হওয়ার তিনদিনের মধ্যেই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না তা জরিপ করে রিপোর্ট করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে ডিএনসিসি। সংস্থাটির প্রকৌশল শাখা সূত্র জানায়, কোন কোন ক্ষেত্রে অনুমতির বাইরে কাজ করে রাস্তার ধস নামিয়ে আনে। ফলে এই ভাঙ্গা অংশের কাজ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারগণ করতে তেমন একটা আগ্রহ দেখায় না। ফলে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ নিজের খরচেই মেরামত করতে বাধ্য হন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোন রাস্তা কাটার জন্য ডিএনসিসির অনুমতি ও কতদিনের মধ্যে এই কাজটি শেষ করা হবে ঠিকাদারকে তার সকল তথ্য সম্বলিত তথ্য সাইনবোর্ড আকারে খোঁড়া রাস্তায় প্রদর্শন করতে হবে। নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না করলে সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ও কাজের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় এই নিয়ম চালু করা হবে বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, দিনের চেয়ে রাতে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতে ঠিকাদারদের উৎসাহ প্রদান করা হবে। নাগরিকদের চলাচলের পথ মসৃণ করতেই রাতে কাজ করাকে উৎসাহ প্রদান করা হবে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে ও কাজের গুরুত্ব বুঝে দিনে কাজ করবেন ঠিকাদাররা। প্রতিটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারগণ নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চলতে বাধ্য করা হবে। রাস্তা খোঁড়ার কোন শর্ত না মানলে পরবর্তীতে তার জামানত থেকে যৌথভাবে ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ সাপেক্ষে জরিমানা হিসেবে অর্থ কাটা হবে। এছাড়া যেসব রাস্তা সংস্কার করার পরও পরবর্তী এক বছরের মধ্যে পুনরায় গর্তের সৃষ্টি হবে নিয়মানুযায়ী সেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়েই উক্ত রাস্তা সংস্কার করাবে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ। কেউ এ নিয়ম না মনলে ঠিকাদারের জামানত থেকে কর্তন করে রাস্তা পুনরায় সংস্কার করা হবে বলে প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানা গেছে। মূলত জনদুর্ভোগ কমাতে ও নাগরিক সেবা বাড়াতেই ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে নেয়া ডিএনসিসির নিয়মানুযায়ী এসব সেবার সঠিক বাস্তবায়ন দেখার অপেক্ষায় নগরবাসী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সালেহীন জনকণ্ঠকে বলেন, নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে রাস্তা খোঁড়াখুঁঁড়ি করে কাজ শেষ করার পর পরবর্তী তিন দিনের মধ্যেই ভাঙ্গা রাস্তা মেরামত ও সংস্কার করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কাজ শেষে রাস্তা খোঁড়ার অনুমতি প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের লোকজন ও ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ যৌথ পরিমাপ করবে। রিপোর্ট প্রাপ্তির পরপরই রাস্তার মেরামত কাজ শুরু করা হবে। একইসঙ্গে চলতি বর্ষা মৌসুমে জনভোগান্তি লাঘবে নতুন করে কোন রাস্তা খোঁড়ার অনুমতি দেয়া হবে না। আমরা চাই বর্ষায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ থাকুক। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা হঠাৎ সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে তা কিছুটা শিথিল করা হবে। মূলত জনদুর্ভোগ কমাতে অতি দ্রুততম সময়ে নাগরিকদের কষ্ট লাঘবের জন্য এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কতদিনের মধ্যে রাস্তা খোঁড়ার কাজ শেষ হবে তা সাইনবোর্ড আকারে খোঁড়ার স্থানে প্রদর্শন করবেন কাজের অনুমতিপ্রাপ্ত ঠিকাদার বা ডিএনসিসির ঠিকাদারগণ। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সকল কাজ শেষ করতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের নির্দিষ্ট লোকজন মাঠ পর্যায়ের খোঁড়াখুঁড়ি সংশ্লিষ্ট সার্বিক কাজ তদারকি করবেন। এতে করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে ও একইসঙ্গে কাজের গতি অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।