২৬ এপ্রিল ২০১৯

অবসর ও কল্যাণ তহবিলে বর্ধিত চাঁদার আদেশ বাতিলে আল্টিমেটাম

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ ফান্ডে বর্ধিত ৪ শতাংশ চাঁদার আদেশ নিয়ে জটিলতা বাড়ছেই। আগামী ২ মে’র মধ্যে চাঁদা কর্তনের প্রজ্ঞাপন বাতিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আল্টিমেটাম দিয়েছে বেসরকারী শিক্ষকদের একটি জোট বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়ন। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এবং কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ড ঘেরাওয়ের কর্মসূচী ঘোষণা করেছেন শিক্ষকরা।

এর আগে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ৪ শতাংশ চাঁদার আদেশ বাতিল না হলে স্কুল-কলেজ বন্ধ করে আমরণ অনশনের হুমকি দেয় আরেকটি জোট বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি। এদিকে আগামী ২ মে’র মধ্যে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ চাঁদা কর্তনের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এবং কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ড ঘেরাওয়ের কর্মসূচী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়ন। শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন শিক্ষক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ আবুল বাশার হাওলাদার, মহাসচিব মোঃ জসিম উদ্দিন শিকদার, অতিরিক্ত মহাসচিব মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রিন্স, সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ কবির, সদস্য মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী প্রমুখ।

মোঃ আবুল বাশার হাওলাদার বলেন, দ্রুত সুবিধা দিতে বেতন থেকে টাকা কাটতে হলে অবশ্যই সংসদে পাস হতে হবে। একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন থেকে একটা টাকা কাটার এখতিয়ার কারও নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অন্যায় করেছে। এ প্রজ্ঞাপন অবৈধ। শিক্ষক নামধারী কিছু অসৎ নেতা আমলাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এটা করেছে। শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা নিয়ে অনেকে হেলিকপ্টারে বিভিন্ন এলাকা সফর করেন, গাড়ি-বাড়ি করেছেন। শিক্ষকদের একটি টাকাও আত্মসাত করার এখতিয়ার কারও নেই। যারা শিক্ষকদের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলে এদের চিহ্নিত করে আইনী প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে।

মহাসচিব মোঃ জসিম উদ্দিন শিকদার বলেন, দেশের শতকরা ৯৭ ভাগের বেশি শিক্ষক বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তারা সরকারের কাছ থেকে বেতনের একটি অংশ এমপিওর মাধ্যমে পেয়ে থাকেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের অর্জন কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ড। ১৯৯০ সালে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা প্রদান জাতীয় সংসদে পাস হয়। তখন থেকে শুধু কল্যাণ ট্রাস্টের ২ শতাংশ চাঁদা কর্তন হতো। পরবর্তী সময়ে ২০০২ সালে অবসর সুবিধা বোর্ডে ৪ শতাংশ কর্তন করা শুরু হয়। এই দুটি সংস্থার মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীরা অবসরে যাওয়ার পর এককালীন নির্দিষ্ট হিসাবনুযায়ী অর্থ পেয়ে থাকেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, শিক্ষক-কর্মচারীরা ৪-৫ বছর অপেক্ষা করে তাদের অবসরকালীন টাকা পান। এমনও দেখা গেছে জীবদ্দশায় অনেক শিক্ষক টাকা পাননি। এই দুটি বোর্ড গঠিত হওয়ার পর এ পর্যন্ত নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা শোনা যায়।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা বলেন, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে দীর্ঘ ২০ দিন আমরণ অনশনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতা প্রদান করায় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

বেসরকারী শিক্ষকদের অনেক দাবি পূরণ হয়েছে। আবার এখনও অনেক দাবি পূরণের আশায় আমরা প্রতীক্ষা করছি। এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের অতিরিক্ত ৪ শতাংশ চাঁদা কর্তনের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর ফলে শিক্ষকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগেও দুইবার প্রজ্ঞাপন জারি করে তা চরম অসন্তোষের মুখে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

প্রতিবাদে শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচী ॥ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচী ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম। তাদের দাবি, বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ হারে টাকা কেটে নেয়ার এই সিদ্ধান্ত স্থায়ীভাবে বাতিল করতে হবে।

বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি সাইদুল ইসলাম সেলিম জানান, অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কেটে নেয়ার এ সিদ্ধান্ত স্থায়ীভাবে বাতিল করা না হলে তারা আগামী ১ থেকে ৫ মে পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করবেন।

সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচীতে অংশ নেয়া শিক্ষক-কর্মচারীরা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের এমপিও থেকে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে প্রতি মাসে ৬ শতাংশ টাকা করে কেটে রাখে। কিন্তু গত ১৫ এপ্রিল তাদের সঙ্গে কোন আলোচনা ছাড়াই ৬ শতাংশের সঙ্গে আরও ৪ শতাংশ কর্তনের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অবিরাম ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির ॥ বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম রনি এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মোঃ মেসবাহুল ইসলাম প্রিন্স এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, প্রায় ৫ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডের নামে তাদের বেতন থেকে প্রতিমাসে ৬ শতাংশ কর্তন হচ্ছে। কিন্তু কর্তনের এ টাকা কোথায় রাখা হয় তা শিক্ষক-কর্মচারীগণ জানতে পারে না। কর্তনকৃত টাকার কোন স্বচ্ছতা নেই। কর্তনকৃত টাকার অবশ্যই জবাবদিহিতা বা ডকুমেন্টস থাকবে। যেমনটি সরকারী শিক্ষকদের বেলায় রয়েছে। ইতোমধ্যে আবার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তনের আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে শিক্ষক সমাজে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।