১৯ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঘাম ঝরানো জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

রুমেল খান ॥ আগের ম্যাচের মতোই এই ম্যাচেও গোল মিসের মহড়া। তারপরও দুটো ‘সৌভাগ্যপ্রসূত’ গোলের সুবাদে জয়লাভ এবং অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়া। বলা হচ্ছে স্বাগতিক বাংলার বাঘিনীদের কথা। শুক্রবার ‘বঙ্গমাতা অনুর্ধ-১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ’ ফুটবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ২-১ গোলে হারিয়েছে কিরগিজস্তানকে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ড্র করলেই ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হতো তারা। তবে ড্র নয়, ঘাম ঝরানো

জয়েই সেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা। তবে জিতলেও তাদের খেলা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে ফুটবলবোদ্ধাদের দৃষ্টিতে। কেননা খেলায় প্রচুর গোলের সুযোগ নষ্ট করে লাল-সবুজরা। নইলে কমপক্ষে দুই হালি গোল করতে পারতো তারা। এমনকি যে দুটি গোল তারা করেছে তা তাদের কৃতিত্বে নয় বরং প্রতিপক্ষ দলের গোলরক্ষক তোলনভার ভুলে (প্রতিবারই বল হাত থেকে ফস্কে যায়)! এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল দুটি করেন যথাক্রমে সানজিদা আক্তার এবং কৃষ্ণা রানী সরকার। সানজিদার গোলটি ছিল মাত্র ৩০ সেকেন্ডে করা। যা এই আসরের সবচেয়ে দ্রুততম গোলের রেকর্ড। মজার ব্যাপার- দুটি গোলেই কৃষ্ণা-সানজিদা একে অপরকে সহায়তা করেন। ম্যাচসেরা হয়ে ৫০০ ডলার পুরস্কার পান সানজিদা আক্তার। ম্যাচে জোড়া গোল করার পাশাপাশি জোড়া দুঃসংবাদও পেয়েছে বাংলাদেশ। দলের দুই ফরোয়ার্ড সিরাত জাহান স্বপ্না এবং কৃষ্ণা রানী সরকার ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়েন। ফলে সেমিফাইনালের ম্যাচে তাদের খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়ের। ২ খেলায় ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ। সমান খেলায় ৩ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ কিরগিজস্তান। শূন্য পয়েন্ট নিয়ে আগেই বিদায় নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই ম্যাচের আগে উভয় দলই শেষ চারে নাম লেখানো নিশ্চিত করেছিল। বাংলাদেশ তাদের প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারায়। একই দলকে ২-১ গোলে হারায় কিরগিজস্তান। আজকের সন্ধ্যা ৬টায় লাওস বনাম তাজিকিস্তান ম্যাচটি আড়াই ঘণ্টা পিছিয়ে অনুষ্ঠিত হবে রাত সাড়ে ৮টায়। এই ম্যাচ শেষে নির্ধারিত হবে সেমিফাইনালে কাকে পাচ্ছে স্বাগতিকরা। এর আগেও কিরগিজদের সঙ্গে খেলেছে বাংলার বাঘিনীরা তবে সেটা অনুর্ধ-১৬ পর্যায়ে (এএফসি অনুর্ধ-১৬ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাইপর্ব আসরের ‘সি’ গ্রুপে)। ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট এই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে প্রতিপক্ষকে স্রেফ ‘কচুকাটা’ করেছিল লাল-সবুজরা। জিতেছিল ১০-০ গোলে। ওই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন দলের অধিনায়ক কৃষ্ণা রানী সরকার। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বলেন, দলের জয়ে আমি খুশি। কৃষ্ণা-স্বপ্নার চোট তেমন মারাত্মক নয়। আশাকরি তারা সেমিতে খেলতে পারবে। বিপক্ষ দল প্রচুর রক্ষণাত্মক খেলেছে, তাই আমরা তেমন বেশি গোল করতে পারিনি। আগের ম্যাচের চেয়ে এই ম্যাচে আমরা অনেক ভাল খেলেছি।