২৬ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্র্যাক ভার্সিটি ছাত্রী নিহতের ঘটনায় পাঠাও চালক গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পাঠাও মোটরবাইকে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নিহতের ঘটনায় সেই পাঠাও চালককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। জব্দ করা হয়েছে যে মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে, সেই মোটরসাইকেলটি। তবে মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে চাপা দেয়া সেই কাভার্ডভ্যানের চালক গ্রেফতার হয়নি। তাকে গ্রেফতার করতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ডিএমপির

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ মোহাম্মদপুর থানাধীন নবীনগর হাউজিংয়ের ২ নম্বর সড়কের ২৫ নম্বর বাড়ির ছয়তলা থেকে পাঠাও চালক সুমনকে আটক করে। পাঠাও চালক সুমন সড়ক দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য বেঁচে যান। নিহত হন লাবণ্য। আটকের পর সুমনকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুমনকে আটকের সঙ্গে সঙ্গে তার হেফাজতে থাকা দুর্ঘটনা কবলিত ঢাকা মেট্রো হ ৩৬-২৩৫৮ নম্বরের মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। তবে ঘাতক কাভার্ডভ্যানের সন্ধান মেলেনি। কাভার্ডভ্যানের চালককেও আটক করা যায়নি। তাকে আটক করার চেষ্টা চলছে। ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার চালক সুমনের বরাত দিয়ে জানান, ঘটনার দিন সকালে রাজধানীর কলেজ গেটে ছিলেন সুমন। পাঠাও কল পেয়ে লাবণ্যের সঙ্গে মোবাইল ফোনে সকাল সাড়ে দশটার দিকে সুমনের কথা হয়। লাবণ্য খিলগাঁও ছায়াবীথি মসজিদের সামনে যাবেন বলে সুমনকে জানান। সুমনকে লাবণ্য তাদের বাসা শ্যামলী ৩ নম্বর সড়কের ৩১ নম্বর বাসার সামনে আসতে বলেন।

যথারীতি লাবণ্যকে নিয়ে রওনা হন সুমন। তারা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কাছাকাছি পৌঁছামাত্র একজন লোক তাদের মোটরসাইকেলের সামনে দিয়ে আচমকা দৌড় দেয়। সুমন দ্রুত মোটরসাইকেল ব্রেক করেন। এ সময় পেছন থেকে একটি কাভার্ডভ্যান সুমনের মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। মাথায় মারাত্মক আহত হন লাবণ্য। সুমনও আহত হন। পরে লাবণ্য হাসপাতালে মারা যান। সুমন চিকিৎসা নিয়ে বাসায় যান। এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা হয়েছে (মামলা নম্বর- ৫০ তারিখ-২৫-০৪-২০১৯ইং)।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার দুপুর বারোটার দিকে শেরেবাংলা নগর থানাধীন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সামনে মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহমিদা হক লাবণ্যের মৃত্যু হয়। তার পিতা এমদাদুল হক ব্যবসায়ী। লাবণ্যের একমাত্র ছোট ভাই ফারানুল হক। লাবণ্য বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায়।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরেবাংলানগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম জানান, চালক হিসেবে সুমনের কোন অবহেলা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুমন পুলিশ হেফাজতে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।