২১ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রত্যাবাসন অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় ২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা লাপাত্তা

  • নেপিডোতে চতুর্থ প্রত্যাবাসন বৈঠক ২ মে

মোয়াজ্জেমুল হক/এইচএম এরশাদ ॥ প্রত্যাবাসন অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় উখিয়া টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা শিবির ছেড়ে পালিয়েছে। পলায়নের হার ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। নিজেদের মধ্যে হানাহানির ঘটনায় খুন হয়েছে ৩২ জন। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৫টি। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে ১২০টি। অপহরণ ও মুক্তিপণের ঘটনা ঘটেছে ১০টি। মানব পাচারের ঘটনা ঘটেছে ১০টি ও অস্ত্র অপরাধ হয়েছে ১৬টি। মোট কথা বেআইনী ও অপরাধমূলক তৎপরতা বাড়ছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাতে মিয়ানমারের রাখাইনে রাজ্যে বর্বরোচিত সেনা অভিযান শুরুর পর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে এসেছে আরও প্রায় সাড়ে ৫ লাখ। সবমিলে ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার অবস্থান কক্সবাজার অঞ্চলে। মিয়ানমার এদের ফিরিয়ে নেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেও তা কার্যকর করছে না। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে এ পর্যন্ত তিন দফা বৈঠক হয়েছে। চতুর্থ বৈঠক আগামী ২ থেকে ৪ মে নেপিডোতে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসি) আবুল কালাম শনিবার বিকেলে জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার এ পর্যন্ত মিয়ানমার পক্ষকে ৩০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা প্রেরণ করেছে। সেখান থেকে মাত্র ৭ হাজার রোহিঙ্গা সে দেশের বলে স্বীকার করে ফিরতি তালিকা প্রেরণ করেছে। বিষয়টি বিস্ময়কর মনে হয়েছে। রোহিঙ্গারা এদেশে আশ্রয় গ্রহণের পর প্রথমে সরকার ও ইউএনএইচসিআর এর যৌথ উদ্যোগে তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয় এবং তা এককভাবে নাম অন্তর্ভুক্তকরণ চলে। এক্ষেত্রে একেক পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান নেয়ায় পরবর্তীতে ইউএনএইচসিআর এর উদ্যোগে পরিবারভিত্তিক তালিকা প্রণয়নের কাজ চলে। এ অবস্থায় সরকারী উদ্যোগে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ১১ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৪। তবে বেসরকারী পরিসংখ্যানে তা সাড়ে ১২ লাখ। ইউএনএইচসিআর উদ্যোগে পরিচালিত গণনা প্রক্রিয়ায় এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ লাখে। সে হিসাবে ২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বর্তমানে আশ্রয় শিবিরে নেই। তারা ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে অন্যত্র অবস্থান নিয়ে আছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলগুলোর ধারণা। এ বিষয়ে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া টেকনাফের ত্রিশ আশ্রয় শিবির থেকে প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গারা বিভিন্নভাবে অন্যত্র পালিয়ে যাচ্ছে। এবং এ অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে মিশে যেতে তৎপর রয়েছে। কেউ কেউ মাঝে মধ্যে সাগর পথে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরা হাতিয়ার ভাসানচর যেতে যেমন রাজি নয়, তেমনি রাখাইনে পুনরায় প্রত্যাবাসনেও আগ্রহী নয়। এর পাশাপাশি আশ্রয় শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন গ্রুপ প্রত্যাবাসন ও ভাসানচরে স্থানান্তর বিরোধিতায় লিপ্ত রয়েছে। শিবিরগুলোতে নতুন সন্তান জন্ম নিচ্ছে। যার অধিকাংশ তালিকাভুক্তকরণের আওতার বাইরে রয়েছে। আরআরসি কমিশনার আবুল কালাম জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আশ্রিত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সরকার তৎপর।