২৩ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানের নয়টির বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ

  • সিআইডিতে ডাকার প্রস্তুতি চলছে

গাফফার খান চৌধুরী ॥ প্রযুক্তিনির্ভর বারোটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পর এবার নয়টি চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্রিসেন্ট লেদার কোম্পানির পাশাপাশি বারোটি চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ ওঠে। প্রাথমিক তদন্তে বারোটির মধ্যে নয়টি কোম্পানির বিরুদ্ধে অর্থপাচারের প্রাথমিক সত্যতা মিলে। কোম্পানি নয়টি ওভার ইনভয়েসিং করে রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংকের শাখার মাধ্যমে অর্থপাচার করেছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য মিলেছে। অর্থপাচারের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কোম্পানি নয়টির মালিকসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সিআইডিতে ডাকার প্রস্তুতি চলছে।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগ সূত্র বলছে, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে। এ সংক্রান্ত তারা ১৪২টি অর্থপাচার মামলা তদন্ত করছে। ব্যাংকের এলসির মাধ্যমে অর্থপাচারের ঘটনা বেশি ঘটে। আমদানি-রফতানিতে পণ্য ও সেবায় ওভার এবং আন্ডার ইনভয়েসিং, আমদানি-রফতানিতে বহুমাত্রিক ইনভয়েসিং, পণ্য ও সেবা সম্পর্কে মিথ্যা বর্ণনা দিয়ে অর্থপাচার হয়ে থাকে। একইভাবে শিপমেন্টের ক্ষেত্রেও ওভার ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্থপাচারের ঘটনাগুলো ঘটে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংকের এলসির ওপর বিশেষ নজরদারি ও মনিটরিং করছে। অর্থপাচার ঠেকাতে চলমান ধারাবাহিক মনিটরিংয়ে ক্রিসেন্ট লেদারের মতো আরও ১২টি চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ ওঠে। সব অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্তে ক্রিসেন্ট গ্রুপের প্রায় ৯শ’ ২০ কোটি টাকা পাচারের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। তারই প্রেক্ষিতে ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ কাদেরকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্রেফতার করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। সিআইডির এক উর্ধতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অর্থপাচারের অভিযোগ থাকা আরও বারোটি কোম্পানির মধ্যে আইয়ুব বাদ্রার্স, এ্যাসেঞ্জার ও ঢাকা হাইডস্কিন কোম্পানির প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দুইশ’ কোটি টাকা করে, আল মদিনার ট্যানারির বিরুদ্ধে ৪৩ কোটি টাকা, অ্যানগণ লেদারের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা, আঞ্জুমান ও মিল্লাত ট্যানারির বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকা করে এবং বিএলসি কোম্পানি ও ইব্রাহিম লেদারের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ১৫ কোটি টাকা করে অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্ত চলমান আছে। এখন পর্যন্ত তদন্তে এই নয়টি কোম্পানির বিরুদ্ধে অর্থপাচারের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। এই নয়টি কোম্পানি রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থপাচার করেছে। কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কোন কোন শাখার মাধ্যমে অর্থপাচার হয়েছে তা জানা গেছে। কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অর্থপাচারের ক্ষেত্রে আমদানি-রফতানিতে সুবিধামত দাম কোন কোন সময় বেশি আবার কোন সময় কম দেখানো হয়েছে। এছাড়া আমদানিকৃত পণ্যের দাম বেশি দেখিয়ে বিদেশে টাকা পাঠানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমদানি করা ওইসব পণ্য দেশেই আনা হয়নি। মালামাল দেশে আসার এবং তা ছাড় করার প্রমাণ হিসেবে ভূয়া কাগজপত্র দেখানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগ ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত আছে। তারা অনেক তথ্য ব্যাংক মনিটরিং করার যথাযথ কর্তৃপক্ষ ছাড়াও বিভিন্ন মাধ্যমে পেয়েছেন। সেসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কোম্পানিগুলোর যথাযথ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করার জন্য ডাকা হবে। এ সংক্রান্ত প্রস্তুতি চলছে।

এছাড়া বাংলাদেশে ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ কিভাবে বিদেশ যাচ্ছে সে বিষয়টিরও তদন্ত অব্যাহত আছে। অনলাইনভিত্তিক ব্যবসায় জড়িত চাল ডাল ডট কম, বিক্রয় ডট কম, রকমারি ডট কম, আজকের ডিল, ফুড পান্ডা, দারাজ, খাজ ফুড, অথবা ডট কম, পিকাব ও সেবা এক্সওয়াইজেড নামের দশটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি অব্যাহত আছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ডেকে তাদের কাছে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট দালিলিক তথ্য প্রমাণ চাওয়া হয়েছে। কিছু কাগজপত্র দাখিল হয়েছে, বাকিগুলো দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে কোম্পানিগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর ও ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান জানিয়েছেন, অর্থপাচার প্রতিরোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে। এতে করে অর্থপাচার ও পাচারকারীদের সর্ম্পকে সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলছে। অর্থপাচারকারীদের আইনের আওতায় আনতে সহজ হচ্ছে।