২০ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফেসবুক থেকে ‘বাজে কন্টেন্ট ফিল্টারিং’ শুরু

  • নজর রাখছে বিটিআরসি

ফিরোজ মান্না ॥ ফেসবুক থেকে ‘বাজে কন্টেন্ট ফিল্টারিং’ করার কাজ শুরু হয়েছে। গত মার্চ থেকে ফেসবুকের এ ধরনের কন্টেন্টের ওপর নজর রাখছে বিটিআরসি। যে সব বাজে কন্টেন্ট পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো সঙ্গে সঙ্গে ফিল্টারিং করা হচ্ছে। নিরাপদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিরাপদ না থাকলে সমাজও নিরাপদ থাকবে না। তাই এই মাধ্যমকে নিরাপদ করার জন্য নানা ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শুধু ফেসবুকের ওপরই নজর রাখা হচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সব শাখায় নজরদারি চলছে। কেউ কোন শাখা ব্যবহার করে দেশ ও ব্যক্তি এবং ধর্মবিরোধী কোন অপপ্রচার না চালাতে পারে। সম্প্রতি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এ কথা বলেন।

সূত্র জানিয়েছে, নিউজিল্যান্ডে দুই মসজিদে বর্বর হামলার পর নিজেদের ব্যবহারকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে হামলাটির ভিডিও মুছে ফেলাসহ বিভিন্ন পোস্টে সেন্সরের মাধ্যমে আংশিক কিছু নিয়ন্ত্রণ করেছে কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ শ্রীলঙ্কায় বর্বর হামলার ঘটার কারণে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ নিজেরাই কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। উস্কানিমূলক বা বর্বর কোন কিছু যাতে প্রচার না করা যায় তার জন্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উস্কানিমূলক বা বর্বর প্রচারের কারণে কোন রকম অশান্তি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখেই অচিরেই বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। লাইভ স্ট্রিমিংয়ের নতুন বিধিনিষেধ কি করা যেতে পারে, তা নিয়ে এ মাসের শেষের দিকে বৈঠকে বসবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার রোধে ‘কন্টেন্ট ফিল্টারিং’ করার কাজ শুরু হয়েছে। একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ চলছে। কোন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র ও জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে দেয়া হবে না। বৃহত্তর স্বার্থেই এ কাজটি করা হচ্ছে। রাষ্ট্র বাঁচাব না ফেসবুক বাঁচাব? আমাকে অবশ্যই রাষ্ট্র বাঁচাতে হবে। এতদিন ফেসবুক ফিল্টারিংয়ের কোন ব্যবস্থা ছিল না। এখন আমরা ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটা অবস্থানে এসেছি। যদিও ফেসবুক আমেরিকান আইন অনুযায়ী কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলে। কোন কন্টেন্ট বাদ দেয়া বা অন্য বিষয়ে ফেসবুককে শুধু অনুরোধ করা যায়। আমরা কেবল ফেসবুককে অনুরোধ করতে পারি। ফেসবুক তার স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী নিজেদের কাজগুলো করে। এখন ফেসবুকের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। ফেসবুক আমাদের সব কথা শোনে না, কিন্তু কিছু কথা শোনে। মোস্তাফা জব্বার বলেন, এ কারণে টেলিকম বিভাগের মাধ্যমে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ক। আশা করি এ প্রকল্প যদি শেষ করতে পারি তখন সম্পূর্ণভাবে আমরা আমাদের কন্টেন্ট ফিল্টারিং অথবা যে ধরনের বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা দরকার সেগুলো করতে সক্ষম হব। প্রকল্পটির কাজ আগামী মাস থেকেই বাস্তবায়ন শুরু হবে।

মন্ত্রী জানিয়েছেন, তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতির কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক শক্তিশালী মিডিয়া হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন হয়েছে। আইনটি প্রণয়নের পর থেকেই কিছুটা এই মাধ্যমে নিরাপত্তা এসেছে। ভবিষ্যতে মাধ্যমগুলো যাতে পুরোপুরি নিরাপদ হয় তার জন্য ‘ক্র্যাস প্রোগ্রাম’ বাস্তবায়ন করা হবে। এটা মার্চ মাস থেকেই শুরু করার ফিল্টারিংয়ের কাজ চলছে। তিনি প্রযুক্তির বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রযুক্তির অভাবনীয় উৎকর্ষের ফলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে পৃথিবীতে যা কিছু ঘটবে তা কোন মিডিয়া আন্দাজ করতে পারে না। আন্দাজ করাও যাবে না। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রোবটিক সভ্যতার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য তৈরি থাকতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা সবচেয়ে জরুরী হয়ে পড়েছে। মেধা কাজে লাগাতে না পারলে প্রযুক্তির সঙ্গে চলা যাবে না। এদিকে, বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে রাজধানীর মোট ব্যবহারকারীর জনসংখ্যা এক কোটি ৮০ লাখ। কিন্তু ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলছে রাজধানী ঢাকায় সামাজিক এই যোগাযোগ মাধ্যমে আইডি’র সংখ্যা আড়াই কোটির ওপরে। অর্থাৎ বসতির থেকে ৭০ লাখ আইডি বেশি! এই হিসেবে কমপক্ষে ৭০ লাখ ভুয়া ও একাধিক আইডি থাকার কথা বলছেন আইটি বিশেষজ্ঞরা। ভুয়া ফেসবুক এ্যাকাউন্ট বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন দেশের আইটি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এতে সাইবার অপরাধ কমবে। কমবে সামাজিক অস্থিরতাও। পাশাপাশি উগ্র মৌলবাদীদের অপপ্রচার ও নারীদের উত্ত্যক্ত করা অনেকাংশে বন্ধ হবে।

সেইসঙ্গে যারা ফেসবুক ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেবে তাদের দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। তাদের পরামর্শ যদি সম্ভব হয় সকল আইডির বিপরীতে মোবাইল নম্বর বা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর নিশ্চিত করা হোক। সূত্র জানিয়েছে, গত বছর ফেসবুক শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে ভুয়া এ্যাকাউন্ট সংখ্যা কমিয়ে ছিল। আবার এই এ্যাকাউন্টের সংখ্যা ব্যাঙের ছাতার মতো বেড়েই চলেছে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ফেক বা ভুয়া এ্যাকাউন্ট একে একে বাতিল করছে। এক হিসাবে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফেসবুক ব্যবহারকারীর শহর। ফেক আইডির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অন্যতম অবস্থানে রয়েছে।

বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ৩ কোটি ৪৩ লাখের বেশি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করছেন। দেশে যত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহৃত হচ্ছে, এর মধ্যে ৯৯ শতাংশই ফেসবুক ব্যবহার করছেন। এই মাধ্যমটি সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে।