০৯ মে ২০১৯

শেষ মুহূর্তের গোলে ফাইনালে টটেনহ্যাম

শেষ মুহূর্তের গোলে ফাইনালে টটেনহ্যাম

অনলাইন ডেস্ক ॥ মঙ্গলবার রাতে অবিশ্বাস্য এক ফুটবল ম্যাচ উপহার দিয়েছিল লিভারপুল। বার্সেলোনার বিপক্ষে সেমিফাইনাল প্রথম লেগে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নিয়েছিল ৪-৩ ব্যবধানে। নিশ্চিত করেছিল ফাইনাল।

বুধবার রাতে আরো একটি অবিশ্বাস্য ম্যাচ উপহার দিয়েছে আরেক ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পার। নেদারল্যান্ডসের ক্লাব আয়াক্সের মাঠে ৯০+৫ মিনিট পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল তারা। ৯০+৬ মিনিটের মাথায় তৃতীয় গোলটি করে ৩-৩ গোলে ড্র করে। কিন্তু অ্যাওয়ে গোলের সুবাদে আয়াক্স রূপকথা থামিয়ে তারা পৌঁছে যায় ফাইনালে।

হ্যাটট্রিক করে এমন অবিশ্বাস্য জয় এনে দিয়েছেন টটেনহ্যামের ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার লুকাস মোরা। জুনে অল ইংল্যান্ড ফাইনালে মাদ্রিদে মুখোমুখি হবে লিভারপুল ও টটেনহ্যাম।

অবশ্য প্রথমার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে আয়াক্স। আদায় করে নেয় দুটি গোলও। তাতে তারা এগিয়ে যায় ৩-০ ব্যবধানে (প্রথম লেগে ১ গোল)। ইয়োহান ক্রুইফ স্টেডিয়ামে টটেনহ্যামের বিপক্ষে লিড নিতে বেশি সময় নেয়নি আয়াক্স। ম্যাচের ৫ মিনিটেই তারা এগিয়ে যায়। এ সময় কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে মাথা লাগিয়ে জালে পাঠান আয়াক্সের অধিনায়ক ডি লিট।

৩৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রোজা রেখে খেলতে নামা হাকিম জিয়েচ। এ সময় ডি বক্সের বামপ্রান্ত থেকে দাসুন তাদিচের বাড়িয়ে দেওয়া বলে বাম পায়ে জোরালো শট নেন। টটেনহ্যামের গোলরক্ষক হুগো লরিস বলের নাগাল পাওয়ার আগেই জাল কাঁপে। তাতে প্রথমার্ধে ২-০ গোলে (সমন্বিত ৩-০) এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আয়াক্স।অবশ্য বিরতির পর তারা কিছুটা রক্ষণাত্মক পন্থা অবলম্বন করে। অন্যদিকে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে খেলে টটেনহ্যাম। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে তারা একটি গোল শোধ দেয়। এ সময় দেলে আলী বল নিয়ে আয়াক্সের ডি বক্সের দিকে দ্রুতবেগে যেতে থাকেন। হঠাৎ তিনি ডানদিকে বল বাড়িয়ে দেন লুকাস মোরাকে। তিনি বল নিয়েই ক্ষীপ্রগতিতে ডি বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়ে শট নেন। আয়াক্সের গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল চলে যায় জালে।

চার মিনিটের মাথায় জটলার মধ্যে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে ব্যবধান ২-২ করে ফেলেন মোরা। এ সময় আয়াক্সের গোলরক্ষক আন্দ্রে ওনানা টটেনহ্যামের দেলে আলীর শট রুখে দেন। কিন্তু বল গ্লাভসবন্দি করতে পারেননি। সামনে ঝাপিয়ে পরে আবার চেষ্টা করেন বল আয়ত্বে নিতে। কিন্তু পারেননি। তার হাত ফসকে বল চলে আসে কিছুটা সামনে। সেখানে আয়াক্সের একজন রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ও ছিলেন। কিন্তু ক্ষীপ্রগতির মোরা তার কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে কিছুটা পেছনে গিয়ে তিনজন রক্ষণভাগের খেলোয়াড়কে বোকা বানিয়ে বাম পায়ে শট নেন। বল তার গন্তব্যে প্রবেশ করে।২-২ গোলের সমতা (সমন্বিত ৩-২) নিয়ে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে অতিরিক্ত ৫ মিনিটের খেলা চলতে থাকে। কিন্তু যোগ করা সময়ও যখন শেষ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে তখনই অঘটন ঘটে। এ সময় আয়াক্সের ডি বক্সের সামনে দেলে আলীর কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকেই বাম পায়ে শট নেন। ওনানা ডানদিকে ঝাপিয়ে পড়েনও। কিন্তু নাগাল পাওয়ার আগেই বল গোললাইন অতিক্রম করে। উল্লাসে মেতে ওঠে টটেনহ্যামের সমর্থকরা। টটেনহ্যামের কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তিনিও যে বিশ্বাস করতে পারছেন না যে কী হল!

অবশ্য দুর্দান্ত ফুটবল খেলা আয়াক্সের কিছু খেলোয়াড় ম্যাচ শেষে কাঁদলেও সমর্থকরা ছিলেন বেশ উচ্ছ্বসিত। তাদের দল এতোটা পথ আসতে পেরেছে তাতেই তারা খুশি। আয়াক্সের হয়তো ফাইনালে যাওয়া হয়নি। কিন্তু কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগের এবারের আসরে টোটাল ফুটবল খেলে তারা দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে।