২২ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জায়গা বদলালে ওজনও বদলায়!

নিজের বা অন্যের ওজন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকেরই রুচিতে বাধে। কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গিতে ওজন আপেক্ষিক বিষয়। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে একই ব্যক্তির ওজনের হেরফের ঘটে। মহাকাশে এই পার্থক্যের মাত্রা আরও বেশি।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গেলে আমাদের ওজন বদলে যায় কেন? মাধ্যাকর্ষণ শক্তি চুম্বকের মতো আমাদের পৃথিবীর বুকে ধরে রাখে। আমাদের ওজনের ক্ষেত্রে এই শক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

দেখলে নিখুঁত মনে হলেও আমাদের নীল গ্রহটি কিন্তু বাস্তবে পুরোপুরি গোল নয়। পৃথিবীর উপাদানগুলিও ভূ-পৃষ্ঠ ও মাটির নীচে সমানভাবে বিভক্ত নয়। যেখানে উপাদানগুলোর ঘনত্ব বেশি, সেখানে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির তীব্রতাও অন্য অঞ্চলের তুলনায় বেশি।

স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পৃথিবীতে পদার্থের বণ্টন অত্যন্ত নিপুণভাবে পরিমাপ করা যায় এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানের পার্থক্যও দৃশ্যমান করে তোলা যায়। তার ফলে দেখা যাচ্ছে, যে পৃথিবীর বুকে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ক্ষেত্র ঠিক নিখুঁত গোলকের মতো নয়, বরং তার আকার অনেকটা আলুর মতো। উপত্যকার তুলনায় উঁচু জায়গাগুলোতে তার টান বেশি। স্যাটেলাইট দক্ষিণ ভারতে সবচেয়ে গভীর গর্ত খুঁজে পেয়েছে।

পেটারের স্বাভাবিক ওজন যদি ৮০ কিলোগ্রাম হয়, সেখানে গেলে দুর্বল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির দৌলতে তার ওজন ২৪ গ্রাম কমে যাবে।

পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল থেকে দূরত্ব অনুযায়ীও মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে হেরফের ঘটে। তাই সমুদ্র সৈকতের নিচু জমিতে দাঁড়ালে পেটারের ওজন সামান্য কমে যায়। কয়েক হাজার মিটার উঁচু পাহাড়ে গেলে ওজন আবার বেড়ে যায়। তবে পেটার এত সূক্ষ্ম পার্থক্য টের পায় না।

গতিও ওজনের উপর প্রভাব ফেলে। নাগরদোলায় চাপলে আমাদের সেই অনুভূতি হয়। নাগরদোলা যত দ্রুত ঘোরে, আমরা তত বেশি বাতাসে ভাসতে থাকি। অপকেন্দ্র তখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিরুদ্ধে কাজ করে।

বিষুবরেখা পৃথিবী বাকি অংশের তুলনায় আরও দ্রুত আবর্তিত হয়। অপকেন্দ্র বলের কারণে সেখানে পোল্যান্ডের তুলনায় পেটারের ওজন ৪০০ গ্রাম কমে যায়।

মহাকাশে এমন পার্থক্য পৃথিবীর তুলনায় অনেক বেশি। চাঁদে গেলে পেটার লাফ মেরে বিশাল দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। সেখানে তার ওজন পৃথিবীর তুলনায় এক ষষ্ঠমাংশ হয়ে যায়। আবার জুপিটারের মতো বিশাল গ্রহে গেলে পেটারের ওজন পৃথিবীর তুলনায় আড়াই গুণ বেড়ে যায়।

সূত্র : ডয়েচ ভেলে, বিবিসি