১৪ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মাটির পাত্র থেকে জানা যাবে পূর্বপুরুষদের খাদ্যাভাস!

  • বিচিত্র তথ্য

শংকর লাল দাশ ॥ ভারতীয় উপমহাদেশে ধানের চাষ বহু পুরনো, তা নতুন কোন জানার বিষয় নয়। তবে কত পুরনো এ নিয়ে অনেকের মাঝেই দ্বিমত রয়েছে। এমনকি প্রাচীন ভারতীয় সমাজের খাদ্যাভাস নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সম্প্রতি ভারতীয় গবেষকদের গবেষণায় উঠে এসেছে বেশকিছু অজানা তথ্য। যার অন্যতম হচ্ছে-আট হাজার বছর আগেও ভারতীয় উপমহাদেশে ধানের চাষ হতো। এছাড়া, ওই সময়ে ভারতের কোন কোন অঞ্চলের মানুষ ছিল মাংসাশী। ভারতের উত্তরপ্রদেশের লাহুরাদেওয়ার নামের হ্রদ থেকে উদ্ধার হওয়া প্রাচীন আমলের মাটির পাত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গবেষকরা ধান চাষ ও খাদ্যাভাসের এসব তথ্য আবিষ্কার করেছেন।

ভারতের উত্তরপ্রদেশের প্রাচীন আমলের অধিবাসীরা কী খেতেন, এর উত্তর জানতে সম্প্রতি পুরাতত্ত্ববিদদের সঙ্গে একজোট হয়েছিলেন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিদ্যার গবেষকরা। আর এজন্য গবেষকরা ‘জৈব অবশিষ্টের বিশ্লেষণ’ অর্থাৎ অরগ্যানিক রেসিডিউ এ্যানালিসিস পদ্ধতির ব্যবহার করেন। যা সাধারণত পুরাতত্ত্বের ক্ষেত্রে খুব একটা ব্যবহার হয় না বলেই দাবি গবেষকদের।

ভারতীয় আদি পুরুষদের খাবার তালিকার এ খোঁজ পেতে গবেষণার জন্য প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিদ্যার গবেষকদের সঙ্গে কাজ করেছেন সুইডেনের স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। সম্প্রতি সে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে ‘কারেন্ট সায়েন্স’ জার্নালে। গবেষকদের এক জন, প্রেসিডেন্সির ভূবিদ্যার শিক্ষক সুপ্রিয় দাস বলেন, লাহুরাদেওয়ার হ্রদ খনন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন ধরনের মাটির পাত্রের ভগ্নাংশে লুকিয়ে রয়েছে সেই সময়ের খাবারের কণা। গবেষণাগারে সেই কণা উদ্ধার করে তা নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছেন তারা, যাকে বলে ‘অরগ্যানিক রেসিডিউ এ্যানালিসিস’। বিষয়টির ব্যাখ্যা করে সুপ্রিয়বাবু বলেন, মাটির পাত্রে অসংখ্য ছিদ্র থাকে। তার মধ্যে খাবার রাখলে সেই ছিদ্রে প্রোটিন বা ফ্যাটজাতীয় খাবারের কণা ঢুকে যায়, যা হাজার হাজার বছর ধরে সেখানেই রয়ে যায়। কারণ, পাত্রে ছিদ্র থাকে বলে কোন ধরনের ব্যাকটেরিয়া ওই কণাকে নষ্ট করতে পারে না।

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে উত্তরপ্রদেশ থেকে উদ্ধার হওয়া প্রাচীন আমলের মাটির পাত্রের অংশ থেকে বিশেষ উপায়ে গবেষকরা সেই খাদ্যকণা বের করেছেন। যার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা জানাচ্ছেন, ৮ হাজার বছর পূর্বেও ভারতীয় ওই অঞ্চলে ধানের চাষ হতো। তবে ধান চাষ করলেও পূর্বপুরুষদের পাতে ভাত পড়ত, তেমন কোন প্রমাণ এখন পর্যন্ত মেলেনি। কারণ, স্টার্চ জাতীয় কোন খাবারের অস্তিত্ব গবেষণায় ধরা পড়েনি। বরং তারা যে বড় প্রাণীর মাংস বিশেষ করে অরণ্যের প্রাণীর মাংস খেত, তার প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকরা। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল গৌতম সেনগুপ্ত মনে করেন, এ মাংস নীলগাই বা বুনো শুয়োরের হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তার মতে, এতে প্রমাণ হয় যে, ভারতীয় তৎকালীন সমাজের কোন কোন অংশে মাংস খাওয়ার প্রচলন ছিল।

বিভিন্ন জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য রাখা প্রাচীন আমলের মাটির পাত্র পরীক্ষা করে ওই অঞ্চলের আদিবাসীদের খাদ্যাভাস ও চাষাবাদ পদ্ধতি যে জানা যেতে পারে, তা এ গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। এতে করে গবেষণা কাজে যুক্ত হয়েছে নতুন একটি মাত্রা। যা আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে জ্ঞান লাভে অনেক সহায়তা করবে।

আনন্দবাজার অবলম্বনে