১৪ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গরমে ঈদের প্রস্তুতি

  • তৌফিক অপু

প্রকৃতির পালা বদলে বইছে তপ্ত হাওয়া। তাপমাত্রা যেন হু হু করে বাড়ছে। উষ্ণতা ছড়াচ্ছে চারদিক। আর এ সময়টাতে চলা ফেরা থেকে সব কিছুতেই চলে সাবধানতা। ষড় ঋতুর দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। ছয়টি ঋতুই পরিবর্তিত হয় আপন মহিমায়। তারই হাত ধরে প্রকৃতিতে খেলা করছে বৈশাখী তেজ। বৈশাখী ঝড়ের তীব্রতার মতই এর রোদ্রের তেজ। যে কারনে বাধ্য হয়েই পরিবর্তিত হয় দৈনন্দিন চলাফেরা এবং যাপিত জীবন। খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে সব কিছুতেই আবহাওয়ার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রস্তুতি নেয়া হয়। পরিবর্তনের এ তালিকায় পোশাক অন্যতম। অর্থাৎ সময়োপযুগী আরামদায়ক পোশাকের দিকে নজর সবার। কারন পোশাক যদি আরামদায়ক না হয় তাহলে ঘামে ভিজে একাকার হয়ে যেতে হবে। সৃষ্টি হবে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির। অতএব আবহাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পোশাক না পরলে অস্বস্থিকর অবস্থার মধ্যে পরতে হয়। যে কারনে ঋতু ভিত্তিক পোশাক মানুষের এখন প্রথম পছন্দ। ফ্যাশন হাউসগুলো এ ব্যাপারে অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে। বাঙ্গালী এখন ফ্যাশন সচেতন জাতি হিসেবে স্বীকৃত। ঋতু ভিত্তিক পোশাক এখন ফ্যাশন ট্রেন্ডের পরিচিত রুপ। কোন ঋতুর সঙ্গে কোন পোশাকটি মানানসই তা নিয়ে রীতিমতো গবেষনা করা হয়। আর হবেই বা না কেন। বিশ্ব ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে এদেশের ফ্যাশন জগত। আর এ পথ চলায় ফ্যাশন হাউসগুলোও অগ্রণী ভুমিকা পালন করছে। ফ্যাশন হাউস গুলো সবসময় সচেষ্ট থাকে ক্রেতাদের রুচি ও চাহিদা মোতাবেগ পোশাক সরবরাহ করতে। যখন যে ঋতু বা উপলক্ষ্য সামনে এসে দাড়ায় সে ঋতু কিংবা উপলক্ষ্য নিয়েই অগ্রিম প্রস্তুতি সেরে ফেলে তারা। যে কারনে সাধারন মানুষদেরও নিত্য নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গে পরিচিত হতে সময় লাগে না। ফ্যাশন হাউসের বদৌলতে ঋতু ভিত্তিক পোশাকের অগ্রিম খবর পেয়ে যায়। যার ফলে ঋতু ভিত্তিক পোশাকের প্রস্তুতি আগে থেকেই সেরে রাখা যায়।

এজন্য ক্রেতাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে ফ্যাশন হাউসগুলো নিয়ে এসেছে গরমে আরামদায়ক পোশাকের বিশাল আয়োজন। এর মাধ্যমে সহজেই মানিয়ে নেয়া যাবে এ ঋতুতে। বাংলাদেশে বেশ কয়েক বছর থেকেই ঋতুভিত্তিক ফ্যাশন আরও সমাদৃত হচ্ছে। ফলে ক্রেতাগণ অতি সহজেই তাদের চাহিদা ও পছন্দের পোশাক সংগ্রহ করতে পারে। এদেশের সকলেই প্রতিনিয়ত নিত্যনতুনের সন্ধানে অভ্যস্ত থাকে। ফ্যাশন হাউসগুলোও তাদের চাহিদা পূরণে চেষ্টা চালিয়ে যায়। তেমনি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এবারের গ্রীষ্ম ঋতুতেও তারা নিয়ে এসেছে নতুন ডিজাইন ও রংয়ের অসংখ্য পোশাক। গরম আবহাওয়ায় পরিধানে আরামদায়ক রং হিসেবে প্রতিটি পোশাকেই হালকা বর্ণের রং লক্ষ করা যায়। এ বর্ণের রংয়ের পোশাক পরিধানে গরম তুলনামূলক কম উপলব্ধি হয়। এ বিষয় লক্ষ্য রেখেই ফ্যাশন হাউস পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে সাদা, হলুদ, লাল, এ্যাশ, গোলাপিসহ অন্যান্য হালকা বর্ণের রংয়ের ফেব্রিকস দিয়ে বেশি সংখ্যক পোশাক তৈরি করে। শীত মৌসুমে সকলে ফুল স্লিভ পরিধান করলেও এ সময় হাফ-স্লিভ পোশাক ব্যবহার করলেও এ সব ফ্যাশন হাউসে এ আবহাওয়ায় হাফ স্লিভ ও শট আকারের ড্রেস শোভা পায়। গরম আবহাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে ছেলেদের হাফ-স্লিভ টি-শার্ট, পোলো টি-শার্ট, ভি-নেক টি-শার্ট, হাফ হাতা শার্ট, ফতুয়া, ব্যাপারি শার্ট, পাঞ্জাবি, মেয়েদের শর্ট ও লং থ্রি-পিস, টু- পিস, টপস্ কুর্তা, সালোয়ার, ওড়না, শাড়ি ইত্যাদি সকল ফ্যাশন হাউসে স্থান পেয়েছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষের জীবনযাত্রা সর্বদা পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তন হচ্ছে তাদের ফ্যাশন। ক্রেতারা অধিকহারে ফ্যাশন সচেতন হয়ে ওঠার কারণে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ফ্যাশন হাউস। এতে ক্রেতারা অতি সহজেই তাদের পছন্দের পোশাক গ্রহণ করছে। বাঙালীদের ঋতুভিত্তিক পোশাকের প্রতি দুর্বলতা লক্ষণীয়। প্রতিটি ঋতুতেই তা সাদরে গ্রহণ করে। গরম আবহাওয়ার সময় পোশাক ক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তাদের চাহিদাও পছন্দের সকল পোশাক সরবরাহের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টায় নিয়োজিত আড়ং, দেশাল, রং, কে-ক্রাফট, অন্যমেলা, সুইসুতা, লংলা সাদা-কালো, ইজি, নিত্য-উপহার, কাপড়ই বাংলাসহ দেশের সকল ফ্যাশন হাউস। এ সব হাউসে আবহাওয়া উপযোগী সবল ধরনের পোশাক বিদ্যমান।-যা এ আবহাওয়ার সঙ্গে বেশ মানানসই। মেয়েদের ড্রেসে কাপড় হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে কটন, এন্টি কটন, সিল্ক, খাদি, ডয়েল, অরবিন্দু লিনেন কটন, গুঁড়িচেক, সিনথেটিক ইতাদি। পাতলা, মসৃণ ও আরামদায়ক ফেব্রিকসে তৈরি ড্রেস দিনে ও রাতে অনায়াসে মানিয়ে যাবে। মেয়েদের পোশাকগুলোতে কাজের ভেরিয়েশন ব্যাপক হারে লক্ষণীয়। থ্রি-পিস, টু-পিস, টপস, কুর্তা রাখা হয়েছে এম্ব্রয়ডারি, এলিক, হাতের কাজ, পাতির কাজ, ব্লক পিন্ট, বাটিক প্রিন্ট, কারচুপি ইত্যাদি কাজের মিশ্রণ। মেয়েদের পছন্দের তালিকায় অবস্থান করছে এ সব ড্রেস। সহনীয় মূল্য নির্ধারণ করায় ক্রেতারা খুব সহজেই গ্রহণ করছে। তরুণীদের পছন্দের অন্যতম ফ্যাশন হাউস দেশালে তাঁতের কাপড় দিয়ে তৈরি লং ও শর্ট থ্রি-পিসের মূল্য ১২৫০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত, শাড়ি ৯৭০ থেকে ১০০১ টাকার মধ্যে। ফ্যাশন হাউস কাপড়-ই-বাংলায় খাদি, কটন, স্লাব ফেব্রিক্সে ব্লক, এম্ব্রয়ডারি, বাটিক, প্রিন্ট ও হাতের কাজ করা টপসের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫০ থেকে ৯৫০ টাকা। লং ও শর্ট থ্রি-পিস পাওয়া যাবে ১৬৯০ থেকে ২১৫০ টাকা পর্যন্ত, ওড়না ২০০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে। মেয়েদের পোশাকের পাশাপাশি ছেলেদের ড্রেসে এসেছে পরিবর্তন। উষ্ণ আবহাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার জন্য গরমের উপযোগী পোশাক নিয়ে এসেছে ফ্যাশন হাউস, যার মাধ্যমে তরুণদের ফ্যাশনে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। খ্যাতির শীর্ষে থাকা ব্র্যান্ড ইজি নিয়ে এসেছে গরমে স্বস্তিদায়ক ফেব্রিক্সে তৈরি অসংখ্য নতুন ডিজাইনে ও বিভিন্ন আকর্ষণীয় রংয়ের হাফ ও ফুলশার্ট, পলো টি-শার্ট, কটন সিনথেটিক ও আবহাওয়া উপযোগী কাপড় দিয়ে তৈরি হাফ ও ফুল শার্ট পাওয়া যাবে ৬৫০ থেকে ১২৫০ টাকায়। পলো টি-শার্ট ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে। আবহাওয়া গরম থাকায় বেশ সংখ্যক তরুণ শার্টের পরিবর্তে ফতুয়া পরিধান করে। ফ্যাশন হাউস সুইসুতার তৈরি খাদি স্লাব, এন্ডি কটন, ফেব্রিকসে তৈরি ফতুয়ার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে।

ব্যতিক্রমধর্মী ব্যাপারি শার্ট মিলবে ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকায়। পাঞ্জাবি রয়েছে ৬৫০ থেকে ১৩৫০ টাকার মধ্যে। বেশ কয়েক বছর ধরে টি-শার্ট তরুণদের অন্যতম ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পোশাকটির প্রতি তাদের উৎসাহ লক্ষ করা যায়। অন্যান্য পোশাকের তুলনায় ডিজাইনের সমাগমের দেখা মেলে।

নিত্য-উপহার, আরশি, নালন্দা, ঐতিহ্য, মেঘ, সুইসুতা এ সব ফ্যাশন হাউসে বিভিন্ন রংয়ের অসংখ্য ডিজাইনের টি- শার্টের উপস্থিতি রয়েছে। গোল গলা টি-শার্ট মিলবে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। ভি-নেক টি-শার্ট পাওয়া যাবে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। প্রতিটি টি-শার্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয় কটন ফেব্রিক্স। যা গরমে সবাইকে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে বেশ সাহায্যে করে। উষ্ণ আবহাওয়ায় আরামদায়ক পোশাক পরিধান না করলে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করাই কষ্টকর। স্বাচ্ছন্দ্যে প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকার মাধ্যমে আমাদের নিকট পৌঁছে দিতে দেশের সকল ফ্যাশন হাউজ বদ্ধপরিকর। ক্রেতাদের চাহিদা, রুচি ও পছন্দ অনুসারে পোশাক তৈরি করে ক্রেতাদের প্রতি দায়িত্ববোধ রক্ষা করে আসছে।

পোশাক : ইজি

মডেল : সুজন ও আলভি

ছবি : টুটুল