১৪ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্যান্ডি-চুইংগাম

  • সুমন্ত গুপ্ত

চকোলেট একটি লোভনীয় খাবার। সব বয়সের মানুষের কাছেই সমাদৃত এটি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সুইজারল্যান্ডে চকোলেটের মাথাপিছু বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৯ কেজি। যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে ৫ কেজি। ক্যান্ডি বা লজেন্স পছন্দ করে না এমন শিশু খুঁজে পাওয়া মুশকিল। শুধু শিশুরাই নয়, কিশোর-তরুণ এমনকি বড়দেরও অনেকেই চিনি দিয়ে তৈরি এই খাদ্যপণ্য বেশ পছন্দ করেন। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে অনেকে চুইংগাম চিবান। আবার অনেক সময় দোকানে কিছু কিনতে গেলে ১-২ টাকা ভাংতি না থাকলে দোকানিরাও ধরিয়ে দেন একটি-দুটি ক্যান্ডি অথবা লজেন্স। ছোট-বড় সব বয়সী মানুষের কাছেই ক্যান্ডি, লজেন্স, চুইংগামের মতো পণ্যগুলো কমবেশি প্রিয়। দেশের চকোলেট শিল্পে মূলত ক্যান্ডি ও লজেন্স বেশি তৈরি হয়। চিনি, গ্লুকোজ ও গুঁড়াদুধ দিয়ে সেগুলো প্রস্তুত করা হয়। চকোলেট তৈরি হয় কোকোয়া পাউডার দিয়ে। কোকোয়া পাউডার বাইরে থেকে আমদানি করে চকোলেটে তৈরি হচ্ছে দেশে। চিনি গলিয়ে কাঠিতে এমন চকোলেট ও লজেন্স তৈরির স্থানীয় প্রচলন অনেক আগে থেকেই। এখনও সেই বাজার ধরে রেখেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সময়ের বিবর্তনে ও প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এসব হাতে তৈরি লজেন্স নগরের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের মাঝে বাজার হারাতে বসলেও, গ্রামে-গঞ্জে এখনও এর চাহিদা প্রচুর। আবার সময়ের বিবর্তনে ও প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন শিল্পকারখানায় বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হচ্ছে এসব পণ্য। তবে বেশ কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠী এখন দেশে বাণিজ্যিকভাবে ক্যান্ডি, লজেন্স, ললিপপ, চুইংগাম ইত্যাদি উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। এর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ড্যানিশ প্রভৃতি কোম্পানি উল্লেখযোগ্য।

নব্বই দশকের শেষের দিকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদেশী চকোলেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামে দেশীয় কিছু কোম্পানি। তার ধারাবাহিকতায় প্রাণ, অলিম্পিক, কোকোলা ফুড, এলসন ফুডসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানি চকোলেট তৈরি করছে। ঢাকার বাজারে এখন বিদেশী চকোলেটের পাশাপাশি দেশীয় চকোলেটেরও সরব উপস্থিতি দেখা যায়। দেশীয় শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল ২০০০ সাল থেকে ক্যান্ডি, ললিপপ ও বাবল গাম বাজারজাত করে আসছে। কাঁচা আমের স্বাদযুক্ত মিস্টার ম্যাংগো প্রাণের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্যান্ডি ব্র্যান্ড। প্রতিষ্ঠানটির আরও আছে হজম ক্যান্ডি, প্রাণ ললিপপ, মিন্ট ফ্লেভার ক্যান্ডি ইত্যাদি। প্রাণ ললিপপ পাওয়া যায় পাঁচটি ফলের স্বাদে। তাদের গাজীপুরের কালীগঞ্জ ও নরসিংদীর পলাশে দুটি স্বয়ংক্রিয় কারখানায় এসব ক্যান্ডি উৎপাদিত হয়। হার্ড ক্যান্ডির বাজারে আরেকটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হলো পারফেটি ভ্যান মেল। এ ব্র্যান্ডের জনপ্রিয় পণ্যের মধ্যে রয়েছে অ্যালপেনলিবে, মেন্টস, সেন্টার ফ্রুট, সেন্টার ফ্রেশ, জাস্ট জেলি ইত্যাদি। এর মধ্যে এ্যালপেনলিবে ক্যান্ডি ও ললিপপ দুভাবে বাজারে পাওয়া হয়। এসব ক্যান্ডি ক্যারামেল, স্ট্রবেরি, কফির মতো নানা স্বাদে পাওয়া যায়। পারফেটির জনপ্রিয় চুইংগাম ব্র্যান্ড হলো মেন্টস ও সেন্টার ফ্রেশ। এসব ব্র্যান্ডের অধীনে আবার নানা ধরনের পণ্য আছে। সুগার কনফেকশনারি পণ্য উৎপাদনে পারফেটি ভ্যান মেল (পিভিএম) বিশ্বের শীর্ষ তিনটি কোম্পানির একটি। পিভিএম বাংলাদেশ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ দেশে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসার শুরু ১৯৯০-এর দশকে। তখন আমদানি করে এ দেশে পণ্য বিক্রি করত তারা। ২০০৬ সালে গাজীপুরে নিজস্ব কারখানা স্থাপন করে পিভিএম বাংলাদেশ। ওই কারখানাসহ পিভিএম বাংলাদেশে বর্তমানে সরাসরি কর্মরত আছেন ৫০০ জন। এছাড়া পরোক্ষভাবে আরও দুই হাজার মানুষ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত।

ক্যান্ডির বাজারে আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান হলো অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। দেশীয় এ প্রতিষ্ঠানের তৈরি নানা স্বাদের ক্যান্ডি বাজারে পাওয়া যায়। এর মধ্য উল্লেখযোগ্য হলো জুসি লিচি, গ্রিন ম্যাঙ্গো, পাইনএ্যাপল, রাইপ ম্যাঙ্গো, জুসি অরেঞ্জ, তেঁতুল, ঝাল তেঁতুল, টেস্টি মিল্ক, ক্রিমি ক্যারামেল, কুল ইত্যাদি। তাদের কাঁচা আম ও তেঁতুলের স্বাদে অলিম্পিক পালস ক্যান্ডিও বাজারে জনপ্রিয়। আরেক দেশীয় শিল্পগোষ্ঠী পারটেক্স গ্রুপের ক্যান্ডি ব্র্যান্ড ড্যানিশের নানা স্বাদের ক্যান্ডি বাজারে আছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ড্যানিশ গ্রিন ম্যাংগো, ড্যানিশ লিচু, ড্যানিশ রিচ মিল্কি ক্যারামেল, ড্যানিশ মিল্ক ক্যান্ডি, ড্যানিশ পাইনএ্যাপল ক্যান্ডি প্রভৃতি।