১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গরমে চুল ও ত্বকের যত্ন

চলছে রমজান মাস। আর কয়েকদিন পরই ঈদ। এদিকে প্রকৃতিতে এখন গ্রীষ্মকাল। গরমে সবারই অবস্থা অনেকটা যায় যায়। তারপরও থেমে নেই কোন কিছু, চলছে নিজ নিজ গতিতে। প্রচন্ড গরমে ত্বক আর চুলের জন্য তাই নিতে হবে বাড়তি যত্ন।

হেয়ার স্পা

নারকেল, জলপাই ও কাঠবাদামের তেল সমান অনুপাতে নিয়ে হালকা গরম করুন। আঙুলের ডগায় তেল লাগিয়ে চুলের নিচ থেকে ওপরে ম্যাসাজ করুন। পুরো মাথায় ম্যাসাজ হয়ে গেলে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত তেল লাগান। এর পর ১০ মিনিট অপেক্ষা করে একটা তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে চুলসহ পুরো মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। এভাবে তিনবার চুলে গরম পানির ভাপ দিন। এবার চুলে লাগাতে হবে মানানসই হেয়ার প্যাক। হেয়ার প্যাক বানাতে লাগবে আধা কাপ টক দই অথবা তরল দুধ, একটা পাকা কলা, দুই টেবিল চামচ মধু। প্রথমে টক দই, কলা ও এ্যালোভেরার শাঁস ভাল করে মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এর পর মেশান মধু। রুক্ষ ও স্বাভাবিক চুলের জন্য এই প্যাক কার্যকর। তৈলাক্ত চুলে এই প্যাকে মধুর সঙ্গে ১ টেবিল চামচ আপেল সিডর ভিনেগার মেশাতে হবে। প্যাক তৈরি হয়ে গেলে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভাল করে লাগিয়ে শাওয়ার ক্যাপ পরে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এর পর প্রথমে পানি দিয়ে চুল ধুয়ে তারপর চুলে শ্যাম্পু করুন। শ্যাম্পুর পর চুল মুছে কন্ডিশনার লাগান। দুই মিনিট অপেক্ষা করে পরিষ্কার পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। ঈদের এক দিন আগে করুন হেয়ার স্পা।

ফেসিয়াল

আঁটসাঁট করে চুল বেঁধে তুলার বলে অলিভ অয়েল লাগিয়ে মুখমণ্ডলে বুলিয়ে নিন। ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এবার স্ক্রাবিং করতে হবে। ১ টেবিল চামচ চালের গুঁড়ার সঙ্গে আধা টেবিল চামচ মসুর ডালের গুঁড়া ও ১ টেবিল চামচ টক দই মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। হালকাভাবে সার্কুলার মুভমেন্টে ম্যাসাজ করুন। হয়ে গেলে কুসুম গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে মুখ মুছে ফেলুন। মাঝারি আকৃতির হাঁড়িতে ফুটন্ত গরম পানি ঢালুন। চাইলে পছন্দের এ্যাসেনশিয়াল অয়েল যোগ করতে পারেন। চোখ বন্ধ করে বড় তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে ওই হাঁড়ির পানির ভাপ নিন। এভাবে ৫ মিনিট ভাপ নিয়ে আলতো করে মুখ মুছে খুব সাবধানে রিমুভার স্টিক দিয়ে ব্ল্যাক ও হোয়াইট হেডস বের করুন। ব্ল্যাক ও হোয়াইট হেডস রিমুভ হয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিন। এবার ত্বকের ধরন অনুযায়ী বিউটি মাস্ক লাগাতে হবে। বাজারে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসিয়াল মাস্ক পাওয়া যায়। মাস্ক লাগানো হয়ে গেলে শসা গ্রেট করে দুই চোখের ওপর দিয়ে ২০ মিনিট চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকুন। সবশেষে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগান। ঘরে ফেসিয়ালের জন্য রাতে ঘুমানোর আগের সময়টা বেছে নিলে ভাল। এতে ফেসিয়ালের পরিপূর্ণ সুফল পাওয়া যাবে।

পেডিকিউর-ম্যানিকিউর

পছন্দমতো আকৃতিতে হাত ও পায়ের নখ কেটে নিন। ফাইলার দিয়ে ফাইল করুন। হালকা গরম পানিতে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, ১ চা চামচ লবণ ও সামান্য মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে হাত ৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। ব্রাশ দিয়ে ঘষে ঘষে আঙুলের নখ, নখের চারপাশ ও কনুইসহ পুরো হাত পরিষ্কার করুন। কিউটিক্যাল কাটার দিয়ে নখের পাশের কিউটিক্যাল ফেলে দিন। হাত ধুয়ে মুছে নিন। এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল বা আমন্ড অয়েলের সঙ্গে এক টেবিল চামচ চালের গুঁড়া, এক টেবিল চামচ বেসন ও দুই টেবিল চামচ টক দই মিশিয়ে স্ক্রাবার বানিয়ে হাতের নিচ থেকে ওপরে হালকাভাবে ম্যাসাজ করুন। ৫ মিনিট ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। একই পদ্ধতিতে পায়েও ক্লিনজিং ও স্ক্রাবিং করুন। পায়ের ক্ষেত্রে বাড়তি কাজ হলো, পামস্টোন দিয়ে ঘষে পায়ের ময়লা ও মরা কোষ পরিষ্কার করা। এবার হাত ও পায়ে প্যাক লাগানোর পালা। মুলতানি মাটি, চন্দন পাউডার, গোলাপজল, মধু ও এ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে নিন। অথবা পাতিলেবু, হলুদ, চন্দন, মধু, এ্যালোভেরা, শসা, টক দই ইত্যাদি দিয়ে নিজের ত্বক অনুযায়ী বানিয়ে নিন ইচ্ছামতো প্যাক। ব্রাশের সাহায্যে হাত ও পায়ে লাগান। ২০ মিনিট রেখে ভেজা হাতে ঘষে ঘষে তুলে ফেলুন। স্বাভাবিক পানি দিয়ে হাত ও পা ধুয়ে মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগান। ব্যস হয়ে গেল ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর। প্রতি সপ্তাহে এক দিন ঘরে বসেই এটি করতে পারেন।