১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যানজটের সময়টুকু উপভোগ করতে

  • শামসুল আলম

যারা ঢাকা শহরে বসবাস করেন তারা যানজট সম্পর্কে খুব ভালভাবে জানেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মূল্যবান সময় কেটে যায় যানজটে। বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় বলা হয়েছে, যানজটের জন্য ঢাকায় প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। আর এ জন্য প্রতিবছর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি টাকা।

যেহেতু আমরা ঢাকা শহরে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছি কাজের সুবাদে, তাই এই নিয়মিত যানজট আমাদের প্রতিদিন মোকাবেলা করতে হবেই। এখন আসুন কিছু উপায় শিখে নেই, যার মাধ্যমে আমরা এই যানজটে সময় নষ্ট না করে উল্টো এটাকে কাজে লাগাতে পারব। এতে মঙ্গল আমাদেরই হবে। আর আমাদের মঙ্গল মানেই দেশের মঙ্গল!

মুঠোফোনে কথা বলা

আমাদের এমন অনেক বন্ধু বা আত্মীয় আছেন, যাদের সঙ্গে অনেকদিন কথা বলা হয় না। প্রায়ই তাদের কথা মনে পড়ে। কিন্তু কথা বলা হয়ে ওঠে না আর। আসুন না, এই যানজটের সময়টাকেই আমরা কাজে লাগাই! হাতে লম্বা সময় পড়ে আছে, যানজটের কারণে গন্তব্যে পৌঁছতে অনেক সময় লাগবে, মুঠোফোনেও পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা আছে। আর কী লাগে! পরিচিত কাউকে ফোন করুন। তারও যদি আপনার মতো সময় থাকে, তবে তার সঙ্গে কথা বলেই সময়টা পার করে দিতে পারেন। এতে দুজনেরই মন ভাল হয়ে যাবে, আবার অনেকদিন পর খোঁজখবরও নেয়া হবে। কথা বলার মতো পরিস্থিতি না থাকলে ক্ষুদে বার্তা পাঠাতে পারেন। সেখানেও চাইলে যোগাযোগ করে এই সময়টা কাজে লাগাতে পারেন।

আশপাশের কার্যক্রম লক্ষ্য করে সময় কাটানো

আপনি বাসে একটি আসনে স্থির বসে আছেন অথবা দাঁড়িয়ে আছেন। এই সময় আপনার গাড়ি যানজটের মধ্যে আটকে গেল। আপনি হয়ত এক দৃষ্টিতে কোন দিকে তাকিয়ে আছেন। মানে বেকার মস্তিষ্ক নিয়ে বসে আছেন। বেকার বসে থাকার চেয়ে এক কাজ করুন, আশপাশের কে কী করছে তা লক্ষ্য করতে থাকুন। বাসের চালক বা সহকারী অথবা আপনার পাশেই যিনি বসে আছেন, তার কার্যক্রম লক্ষ্য করুন। গাড়ির বাহিরে কী হচ্ছে খেয়াল করুন। এভাবে দেখবেন আপনার সময় হুট করে কেটে গিয়েছে! এখানে বলে রাখা উচিত, ভুলেও সরাসরি কারও দিকে তাকাতে যাবেন না। এতে তারাই উল্টো আপনাকে সন্দেহ করতে থাকবে। বরং আড়চোখে তাকান। অন্যের কার্যক্রম লক্ষ্য করতে করতে অনেক সময় মজাদার কিছুও চোখে পড়ে যেতে পারে!

বই অথবা পত্রিকা পড়া

আপনি চাইলে আপনার সঙ্গে একটি বই অথবা পত্রিকা রাখতে পারেন। অলস সময়ে বসে না থেকে বই পড়ুন। বই পড়লে আপনারই সময়টা ভাল যাবে। আপনি ইচ্ছা করলে যানজটে প্রতিদিন যে পরিমাণ সময় বসে থাকেন, সেই সময়ে যদি নিয়মিত বই পড়েন, তাহলে প্রতি সপ্তাহে আপনি একটি করে বই পড়ে ফেলতে পারবেন! রাস্তায় প্রায়ই দেখা যায়, অনেকে পত্রিকা ফেরি করে বিক্রি করে। তাদের থেকে একটি পত্রিকা কিনে তা পড়তে পারেন। প্রতিদিনের খবরটিও তাহলে জেনে যেতে পারবেন।

অডিও বই শুনে সময় কাটানো

ছোটবেলায় কেউ গল্প পড়ে শোনালে খুব ভাল লাগত। কিন্তু বড় হয়ে যাবার পর কে আর গল্প পড়ে শোনায়! কেউ না থাকলেও, আপনার মুঠোফোন কিন্তু ঠিকই আপনার জন্য তৈরি আছে গল্প পড়ে শোনানোর জন্য। ইন্টারনেট ঘাটলেই অনেক ওয়েবসাইট অথবা এ্যাপ্লিকেশন পাবেন, যেগুলো বইয়ের কথাগুলো হুবহু পড়ে আপনাকে শোনাবে। যানজটে বসে যদি একটি বই শুনে শেষ করে ফেলতে পারেন, তবে খারাপ কী! অলস সময়টাকে চাইলে আপনি এভাবেও ব্যবহার করতে পারেন।

গান শোনা

গানের ছন্দ মানুষের মনকে পরিষ্কার করে তোলে। দুশ্চিন্তা অথবা মানসিক বিষণœতা থাকলে গান শুনুন। গানের ছন্দ দুশ্চিন্তা অথবা বিষণœতা কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে চিন্তাশক্তিও উন্মুক্ত করে দেয়। যানজটের মধ্যে চিন্তিত বসে থাকার চেয়ে গান শুনে মনকে শান্ত করতে পারেন। তাছাড়া গান আপনার প্রতিদিনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দিতেও সাহায্য করে। তাই গান শুনে অলস সময় কাটাতে পারেন।

তবে এখানে বলে রাখা ভাল, রাস্তা পার হবার সময় অথবা রেলের রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় গান শুনবেন না। আপনার মনোযোগ যদি অন্যদিকে থাকে, তবে আপনার সঙ্গে যে কোন দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে, যা মোটেও কাম্য নয়।