২১ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘অবিভক্ত পাকিস্তান রাষ্ট্র এখন মৃত’ ॥ ১৪ মে, ১৯৭১

  • শাহাব উদ্দিন মাহমুদ

১৯৭১ সালের ১৪ মে দিনটি ছিল শুক্রবার। বাঙালী জাতীয়তাবাদের মহানায়ক মুক্তিপাগল মানুষের মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত, তার অবিস্মরণীয় প্রেরণায় অনুপ্রাণিত ও তাঁর অমোঘ নির্দেশে পরিচালিত স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা পর্ব অতিক্রান্ত হয়েছে। এই সংগ্রামের সূচনালগ্নে বাংলায় নৃশংস আক্রমণের মুখে এক দুর্ভেদ্য প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। হত্যা, ব্যাভিচার, নৃশংসতা ও পাশবিকতার কাছে বাংলার গণদেবতা মাথা নত করেনি, আর তাই, আন্দোলন ক্রমেই প্রতিরোধের মোহনা হতে প্রতিঘাতের প্রচন্ড উন্মত্ততায় মোড় নেয়। বাংলার প্রতিটি তরুণ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সামনে রেখে মায়ের কোল ছেড়ে বেরিয়ে আসে বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। তাঁরা সামরিক শিক্ষা নিতে থাকে শত্রুর বিষদাঁতগুলো উপড়ে ফেলা আর মাতৃভূমি বাংলাকে মুক্ত করার মানসে। পাক হানাদারদের বাংলাকে পর্যুদস্ত করার দুঃস্বপ্ন ভেঙ্গে চৌচির হয়ে গেছে, মুক্তিসেনাদের তীক্ষè আঘাতে বিপর্যস্ত পশ্চিমা বাহিনী। ঐক্যবদ্ধ বাঙালীর সংগ্রামের ফলে শুধু পশ্চিমা ষড়যন্ত্রের প্রাসাদ প্রকম্পিত হয়ে উঠেনি, সারাবিশ্ব বুঝতে পেরেছে যে, বাঙালী নিঃস্ব নয়। বাঙালী পরাধীনতা মানে না। আজ সারা বাংলার একটি পথ- সে পথ মুক্তির, সে পথ স্বাধীনতার। এই দিন বরিশালের বাকাই গ্রামে পাকবাহিনীর সৈন্যরা প্রবেশ করলে গ্রামবাসীর সঙ্গে তাদের তুমুল সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে গ্রামবাসীর বল্লম ও রামদার আঘাতে চারজন পাকসেনা নিহত হয়। পাকবাহিনী বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নদীবেষ্টিত কলসকাঠি গ্রাম তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলে। সকাল ৯টায় অগ্নিসংযোগ, হত্যাকান্ড ও নারী নির্যাতন শুরু হয়। তারা কলসকাঠির চালবাজার সংলগ্ন খাল পারে লাইনে দাঁড় করিয়ে মোট ৮৭ জনকে হত্যা করে। কলসকাঠি বিএম একাডেমির ১১ জন কিশোর ছাত্রকে হত্যা করে তুলাতলা নদীতে ফেলে দেয়। বরিশালের প্রখ্যাত উকিল শ্যামাকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার ভাই বরিশাল মহিলা কলেজের কর্মচারী রমণীকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় কলসকাঠিতে আশ্রয় নিয়েছিল। অতি বৃদ্ধ দেখে দু’ভাইকে ছেড়ে দেয়। পাকবাহিনী জয়দেবপুরের অদূরে বেশ কয়েকটি হিন্দুপ্রধান এলাকা আক্রমণ করে শত শত নারী-পুরুষকে গুলি করে হত্যা করে এবং বাইরা-কয়েরসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম জ¦ালিয়ে দেয়। সন্ধ্যা নাগাদ প্রায় ছয় হাজার শরণার্থী এসে নাগরী মিশন ও সেন্ট নিকোলাস স্কুল প্রাঙ্গণে আশ্রয় নেয়। তাঁরা সঙ্গে বহন করে নিয়ে আসে তিনটি লাশ এবং ১৯জন আহত লোককে। মৃতদের নাগরী কবরস্থানে সমাধিস্থ করার পর আহত ছাত্রদের বর্ডিংয়ে রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাগদী গ্রামের ডাঃ বার্নাড রোজারিও এবং পাঞ্জোরা কনভেন্টের নার্স সিস্টার ডলোরেস তাদের চিকিৎসা দেন। এরপর হতে প্রায় প্রতিদিনই আরও বেশি করে শরণার্থীদের সমাগম হতে থাকে কেননা পাক-মিলিটারী বাহিনী একের পর এক গ্রামগুলো পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছিল। খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার আঠারবাকি নদীর তীরবর্তী গ্রাম সাচিয়াদহ। গ্রামের নদীপারের বাজারটির নাম সাচিয়াদহ বাজার। পাকিস্তানী সেনারা এই গ্রাম ও বাজারে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ করে এবং লুটপাট করে। পাকিস্তানী সেনাদের নির্বিচারে চালানো গুলিতে এদিন ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী পাবনার ফরিদপুর উপজেলা সদরের ডেমরা ও সাঁথিয়া উপজেলার বাউশগাড়ী গ্রামের প্রায় সাড়ে ৪০০ নিরস্ত্র মানুষকে হত্যার পর গণকবর দেয়। একই দিন এই এলাকার ৩০-৪০ জন নারীকে ধর্ষণ করা হয়। কুমিল্লার ডাকাতিয়া নদীর পারে পরিকোট নামক জায়গায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরক্ষা ব্যুহের ওপর নদীর পাড় থেকে পাকসেনাবাহিনী গোলন্দাজ বাহিনীর সহায়তায় প্রচন্ড আক্রমণ চালায়। আক্রমণের মুখে মুক্তিযোদ্ধারা টিকতে না পেরে ব্যুহ ত্যাগ করে পিছু হটে যায়। দুপুরে পাকবাহিনী গোলন্দাজ বাহিনীর সহায়তায় চৌদ্দগ্রাম আক্রমণ করে। ৪-৫ ঘণ্টা যুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধারা চৌদ্দগ্রামের বিপরীতে ভারত সীমান্তের রাঙ্গামুড়া এলাকায় আশ্রয় গ্রহণ করে। হেমায়েত উদ্দিনের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনীর একটি দল গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থানা আক্রমণ করে। এই অভিযানে ৫৪ জন পুলিশ আত্মসমর্পণ করে। মুক্তিযোদ্ধারা হেমায়েতপুর গ্রামে আওয়ামী লীগ কর্মী লক্ষ্মীকান্ত বলের অনুরোধে ঘাঁটি স্থাপন করে। লে. জেনারেল এ. এ. কে নিয়াজী বাংলাদেশের সহকারী সামরিক শাসক নিযুক্ত হন। জাতিসংঘ পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আগা শাহী বাংলাদেশ পরিস্থিতি সম্পর্কে সামাজিক কমিটিতে বলেন, পূর্ব পাকিস্তান প্রশ্নে কোন আন্তর্জাতিক বিরোধ নেই। পিডিপির সহ-সভাপতি মৌলভী ফরিদ আহমদ বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ভারত ও অন্যান্য বিদেশী রাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রের শেষ পরিণতি। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী খালিদ-বিন-ওয়ালিদের সত্যিকার বংশধর। সেনাবাহিনী শুধু দেশকে নয়, পূর্ব পাকিস্তানীদের রক্ষা করার জন্য এগিয়ে এসেছে। শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চ বাংলাদেশ ঘোষণার কর্মসূচী নিয়েছিলেন। খুলনা ও ময়মনসিংহে আলবদর বাহিনী দু’জন মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে নিয়ে গিয়ে তাঁদের ওপর পৈশাচিক অত্যাচার চালায় এবং তাঁরা শহীদ হন। কক্সবাজার মহকুমা ন্যাপের আহ্বায়ক মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘যে দল পাকিস্তানের আদর্শ ও সংহতিতে বিশ্বাস করে না তার সঙ্গে যুক্ত থাকা সমীচীন নয়’- এই বক্তব্য দিয়ে কক্সবাজার ভাসানী ন্যাপের বিলুপ্তি ঘোষণা করেন। সাবেক এমএনএ আবদুর রব এবং খান চৌধুরী ফজলে রবের নেতৃত্বে বরিশাল জেলা শান্তি কমিটি গঠিত হয়। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে প্রেরিত ব্রিটিশ পণ্যসামগ্রীর বীমা সুবিধা বিলোপ করে হাউস অব কমনস সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব পাস করে। প্রস্তাবনায় জনাব ব্রুস ডগলাস-ম্যান এমপি বলেন, ‘এই হাউস পূর্ব পাকিস্তানে ঘটতে থাকা হত্যা ও বিনাশ এবং খাদ্যঘাটতির হুমকি নিয়ে উদ্বিগ্ন। শত্রুদের কাছ থেকে রক্ষা করার জন্য সরকারের যথাযথ প্রভাব, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তজার্তিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর স্বীকৃতি এবং রাজনৈতিক মীমাংসা অর্জন পাকিস্তানিদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। পূর্ব বাংলায় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ ও মানবেতর অবস্থার সংবাদ পেয়ে ব্রিটিশ কিছু এমপি তাঁদের নিজেদের উদ্যোগে পশ্চিম বাংলায় শরণার্থী শিবির ও পূর্ব পাকিস্তানে বাংলাদেশ সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভ্রমণ করেছিলেন। ভ্রমণকারী এমপিদের একজন, ব্রুস ডগলাস, ১৯৭১ সালের ১৪ মে হাউস অব কমন্স সভার একটি আলোচনায় তাঁর অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছিলেন। ব্রুস ডগলাস তাঁর বক্তব্যে বলেছিলেন পূর্ব বাংলায় কী ঘটছে এবং কেন ঘটেছে, তা সবাই কমবেশি ভাল জানেন। পাকিস্তান সরকারের তথ্য অনুযায়ী নিহত হওয়া মানুষের সংখ্য ১৫,০০০ কিন্তু স্বাধীন হিসাব অনুসারে নিহত হওয়া মানুষের সংখ্যা সর্বনিম্ন হলেও ১,০০,০০০। অনেকে ধারণা করেন, ইতোমধ্যে নিহত মানুষের সংখ্যা এক মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা যা-ই হোক না কেন পূর্ব বাংলার মানুষ মনে করছে তাদের দেশে যে অবস্থা বিরাজ করছে তা খুবই আতঙ্কজনক। এ কারণেই তারা দেশ ছেড়ে ভারতে শরণার্থী শিবিরে মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছে।’ এই দিনে ইউএনআই এর বরাতে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘মুক্তিফৌজ এখনও প্রচন্ড লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব রণাঙ্গনে কুষ্টিয়া জেলার দামুড়হুদা থানার অন্তর্গত কুতুবপুরে মুক্তিফৌজ ও পাক-সৈন্যের মধ্যে প্রচন্ড লড়াই হয়েছে। মুক্তিফৌজের আক্রমণের বহু পাক সৈন্য নিহত হয়। কিছু স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রশস্ত্র ও মুক্তিফৌজের দখলে এসেছে। পাক সৈন্যরা বহু গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। ইউএনআইর সংবাদে প্রকাশ, মেঘালয়ে মুক্তপুরের বিপরীত দিকে অবস্থিত জয়ন্তিপুরে পাকসৈন্য ও মুক্তিফৌজের মধ্যে আজ আবার প্রবল গোলাগুলি বিনিময় হয়েছে। দি বালটিমোর সান এর সম্পাদকীয় নিবন্ধে বলা হয়, মার্চ মাসে পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া শোকাবহ ঘটনার ব্যাপ্তি, যখন দেশটির দুটি অংশকে পাশবিকভাবে ছিড়ে দু’টুকরো করে ফেলা হয়, একটু একটু করে জানা যাচ্ছে, পূর্ব পাকিস্তানে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধানে নিয়োজিত ছয়জন বিদেশী সাংবাদিকের একটি দলের পাঠানো এ যাবতকালে প্রাপ্ত প্রকৃত তথ্য থেকে। এখন পর্যন্ত এই পর্যবেক্ষকরা সতর্ক নিরীক্ষণের মধ্যে সাবধানে লেখালেখি করেছেন, কিন্তু তাদের মধ্যে একজন, এ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এর মোস্ট রোসেনব্লম, এর বিকল্প হিসেবে দেশত্যাগ করেন এবং ব্যাংকক থেকে তাঁর বার্তাগুলো পাঠান। তাঁর প্রতিবেদনে এমন এক ঘৃণা ও বিভীষিকার কথা জানায়, যা কিনা এক গৃহযুদ্ধের অবিশ্বাস্য গণহত্যা, ধ্বংসের কিনারায় পৌঁছে যাওয়া জাতীয় অর্থনীতির এবং রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার। মৃতের সংখ্যা, মিঃ রোসেনব্লমের আনুমানিক হিসেবে, পাঁচ লাখ হতে পারে। যে ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে, তিনি জানান, তা অবিশ্বাস্য ধরনের। দুর্ভিক্ষ, ত্রাণ স্বল্পতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লাখ লাখ মানুষ ক্ষুধাপীড়িত। পরিস্থিতি এর চেয়ে খারাপ আর হতে পারে না। গার্ডিয়ান পত্রিকায় রয়টারের সংবাদদাতা মরিস কুয়াইন্ট্যান্স একটি রিপোর্ট করেছেন। তিনি জানান, বিদেশী সংবাদদাতাদের পাকিস্তান আর্মি সার্বক্ষণিক পাহারায় রেখেছিল এবং তাদের প্রতিবাদের পর তাদেরকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিনা নজরদারিতে কথা বলতে দেয়া হয়। রয়টার প্রতিনিধি জানান যে সাধারণ মানুষের মধ্যে মুখ খুলতে ভীত দেখা যাচ্ছিল। তিনি বলেন, সরকার স্বীকার করেছে যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ৩ মাস আগে যেমন ছিল তেমনটা হতে এক বছর সময় লেগে যাবে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিনিধি হার্ভে স্টকুইনের একটি প্রতিবেদন আজ প্রকাশিত হয়। তিনি সেখানে গেরিলা কার্যক্রমের কথা বলেন। আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট বলা হয়, পূর্বাঞ্চলের শরণার্থী শিবিরগুলো ঘুরে ঘুরে দেখবেন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী। এই শিবিরগুলোতে ইতোমধ্যেই ত্রিশ লাখ আতঙ্কিত মানুষ জড়ো হয়েছেন। শরণার্থীর ভারে নুইয়ে পড়ছে পশ্চিম বাংলা। নয়াদিল্লী ধীরে ধীরে বুঝতে পারছেন বাস্তব অবস্থা। শত শত জনপদ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বাংলাদেশে। দশ লাখ নরনারীর রক্তে ভেসে গেছে পথঘাট। হাজার হাজার নারী হচ্ছেন ধর্ষিতা। তিরিশ লাখ শরণার্থীর বোঝা নিয়ে ধুঁকছে পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো। ভারতের আকাশসীমা এবং সীমান্তরেখা লঙ্ঘিত হচ্ছে বার বার। ভারতীয় কূটনৈতিকরা ঢাকায় আটক। তা সত্ত্বেও ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গেনি নয়াদিল্লীর। সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী ঝটিকা অভিযানে হারের পর পাকিস্তানী সৈন্যরা অবস্থান হারতে শুরু করেছে। মুক্তিসেনারা উক্ত এলাকাগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাচ্ছে। পাকিস্তানী সৈন্যরা সরঞ্জাম এবং লোকবলের অভাবে খুব বাজেভাবে ভুগছে। সাধারণ লোকের সমর্থনের অভাবে তারা দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির অভাবে ভুগছে। তারা দল দলে শহর থেকে চলে যেতে পারে এবং তাদের বহরগুলোতে স্বাধীনতাকামী গেরিলা যোদ্ধারা সাধারণ মানুষের সাহায্য নিয়ে ওঁৎ পাতছে। সময় এখন বাংলাদেশের পক্ষে এবং পাকিস্তানী সৈন্যরা বাংলাদেশের ওপর হস্তক্ষেপের প্রতিদান হিসেবে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাবে।

লেখক : শিক্ষাবিদ ও গবেষক

sumahmud78@gmail.com