২১ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সঙ্কটে মঙ্গলতরী প্রকল্প

লাল গ্রহে অনুসন্ধানের স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল মঙ্গলতরী। স্বপ্নবাজরা আশায় বুক বেঁধেছিল একদিন মঙ্গল গ্রহে উড়বে বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা। নাসার ইউএসএ মার্স সোসাইটি আয়োজিত রোবটিক প্রতিযোগিতা থেকে ১৩তম স্থান অর্জন করে ফেরার পর সেই স্বপ্ন যেন ভালভাবেই ডানা মেলেছিল।

ফিরে যেতে হবে ২০১৫ সালে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর মাথায় যেন ভূত চেপে বসল। দুঃসাহসিক এক স্বপ্ন দেখল তারা। মঙ্গল গ্রহে অনুসন্ধান করবে বাংলাদেশে নির্মিত কোন রোবট। ছুটির দিন, উৎসব, নিজেদের সব কাজ ফেলে অক্লান্ত পরিশ্রমে মাথা তুলে দাঁড়াল এক রোভার। পরে নানা রকমের উন্নয়নের মধ্যে দিয়ে যায় রোভারটি। তাদের নির্মিত রোভারটিকে নভোচারীরা বেসে বসে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে রোবট নিজেই একটির পর আরেকটি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। মাটির নমুনা সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করার ব্যবস্থাও আছে এতে। অণুজীবের অস্তিত্ব থেকে প্রাণের স্পন্দন খুঁজে বের করতে পারবে এটি। ৫ কেজি নমুনা নিয়ে রোবটটি নিজেই বেসে ফিরতে পারবে এবং ৩ ফুট পর্যন্ত উঁচু ঢাল বেয়ে নামতে পারবে। গত বছর ৯৬টি দলের মধ্যে থেকে ১৩তম হওয়ার পর এবার নিজেদের জায়গা আরও শক্ত করতে আবারও সেই প্রতিযোগিতায় রেজিস্ট্রেশন করেছিল মঙ্গলতরী। প্রতিযোগিতার বাছাইকরণ প্রক্রিয়া বেশ জটিল। “কয়েকটি ধাপ এর মধ্যে সব থেকে জটিল ধাপটি হচ্ছে ‘সিস্টেম এক্সেপ্টেন্স রিভিউ’। এইখানে সবগুলো দলের পাঠানো ভিডিও ও রিপোর্ট অনুযায়ী মার্কিং করা হয়। এরপরে শুধুমাত্র বিশ্বসেরা ৩৬টি দলকে সুযোগ দেয়া হয় ইউআরসিএর চূড়ান্ত পর্বে লড়াই করে বিজয়ী হওয়ার। আর বাংলাদেশ থেকে আমরা ১০০ তে ৮৮.৩১ স্কোর করে স্থান করে নিয়েছি প্রতিযোগিতার মূল ও সর্বশেষ পর্বে।”- জানান মঙ্গলতরী দলের সদস্য শোয়েব। তাহলে কি এবার বাজিমাত করবে তারা? কিন্তু না, এবার যেন ডুবতে বসেছে মঙ্গল তরী!

মে মাসের ২৯ তারিখ থেকে প্রতিযোগিতার মূল পর্ব শুরু হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহের মার্স ডেসার্ট রিসার্চ স্টেশনে। ইতোমধ্যে সব কাগজপত্র চলে আসলেও শেষ পর্যন্ত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থায়ন। বিগত ২ বছর প্রতিযোগিতায় যাবার অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেয়া হলেও এবার সেটা সম্ভব হচ্ছে না। দলের আরেক সদস্য রাজিন জানান অর্থায়নের জন্য বহুজাতিক কোম্পানি থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও স্পন্সর জোগাড় করতে পারছেন না তারা। অর্থদাতারা বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্পে অর্থায়নে খুব একটা আগ্রহী নয়। ওয়ার্কশপে নিজেদের রোভার আরও উন্নত করে তোলার বদলে দলের সব সদস্যকেই ঘুরতে হচ্ছে অর্থায়নের উৎস খেঁাঁজার জন্য। গবেষকরা বিজ্ঞানে অর্থ ব্যয় করাকে খরচ না বলে বিনিয়োগ বলে থাকেন। কিন্তু সামান্য কিছু বিনিয়োগের অভাবেই মুখ থুবড়ে পড়ছে মঙ্গলতরী। ইউটাহের মরুভূমিতে এবার আর দেখা যাবে না লাল সবুজের পতাকা। তারপরও যেন মঙ্গলতরীর সদস্যরা আশায় বুক বেঁধে আছেন। শেষ মুহূর্তে কেউ যদি এগিয়ে আসেন!

ডিপ্রজন্ম ডেস্ক