২১ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দিন বদলের গান গাইছে যারা

ওরা কিছু দুঃসাহসী তরুণ, অদম্য প্রাণশক্তি নিয়ে বদলে দিতে চাইছে আমাদের পরিচিত পৃথিবী। সবারই বয়স ত্রিশের নিচে, এ বয়সেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্য ছুঁয়ে তারা এখন প্রস্তুত আরও বড় লড়াইয়ের জন্য। তাদের এই লড়াই কতটা বদলে দেবে আমাদের জীবন সে উত্তর থাকুক সময়ের হাতে, আপাতত আমরা জেনে নেই এমন কিছু তরুণের গল্প। ধারাবাহিকের তৃতীয় পর্ব, লিখেছেনÑ পপি দেবী থাপা

হেনরিক ডুবার্গ-পেড্রো ফ্রেনসেসি

দুই ব্রাজিলিয়ার তরুণ হেনরিক ডুবার্গ ও পেড্রো ফ্রেনসেসির প্রথম দেখা যখন তাদের বয়স ষোলো। কোডিং-এর প্রতি ভালবাসা আর বাড়াবাড়ি বকম ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে মায়েদের কড়া শাসনে রীতিমতো হতাশা নিয়ে কাটছিল জীবন। মায়েরা কখনও তাদের জাকারবার্গ হওয়ার স্বপ্নটাকে পাত্তা দিতেন না। হ্যাকিংয়ের স্বভাবের কারণে আইনের নজরে এসেছেন সে বয়সেই। বাবা মায়ের নিষেধ, আইনের নজরদারী কোন কিছুই তাদের বিরত রাখতে পারেনি ইন্টারনেটে অদ্ভুত সব কা- ঘটানো থেকে। আর এখন মাত্র ২২ বছর বয়সে তাদের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি ব্রেক্স এর জন্য তারা বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে ২১৩ মিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠার মাত্র দু’বছরের মাথায় তাদের কোম্পানির মূল্যমান দাঁড়িয়েছে ১.১ বিলিয়ন ডলার। এটিই তাদের নাম তুলেছে স্টার্টআপ নিয়ে সবচেয়ে কমবয়সী বিলিনিয়রদের তালিকায়। ব্রেক্স এর শুরুটা ২০১৭ তে হলেও আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু জুন ২০১৮।

তবে তাদের সাফল্যের পথ এতটা মসৃণ ছিল না। হেনরিকের ভাষায় আমার প্রথম দুটি উদ্যোগ ছিল ব্যর্থ আর এখনও যে আমি সফল তাও ভাবছি না। কেবল সাফল্যের পথে হাঁটছি। মাত্র ১৪ বছর বয়সে সবাই যখন হাই স্কুলে প্রথম বর্ষে তাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে এমন ভাবনায় ব্যস্ত হেনরিক তখন ভাবছেন তার পরবর্তী ব্যবসায়িক উদ্যোগের কথা। সে বয়সেই একটি সফল গেমের প্রচলন করলেও আইন লঙ্ঘনের কারনে তা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। সে গেম থেকে উপার্জিত অর্থে গড়ে তুলেন নতুন আর একটি কোম্পনি ‘এডটেক’। যার কাজ ছিল ব্রাজিলিয়ান ছাত্রদের আমেরিকায় ভর্তি হতে অ্যাপের মাধ্যমে সাহায্য করা। সদস্য সংখ্যা আট লাখ ছাড়িয়ে গেলেও আর্থিক বিচারে খুব সফলতা পাননি। সে কারনে এডটেক বন্ধ করে নতুন কিছু করার চিন্তা করেন। এমন সময় তার পরিচয় হয় পেড্রোর সঙ্গে। দু’জনেরই ছিল সাফল্যের অফুরন্ত ক্ষুধা। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দু’জনে মিলে গড়ে তোলেন নিরাপদ ও সহজে লেনদেনযোগ্য একটি এ্যাপ নাম পাগার. মি। এটি বিক্রি করে দেওয়ার আগে তারা পুঁজি সংগ্রহ করেছিলেন ৩০ মিলিয়ন ডলার, তাদের অধীনস্ত কর্মচারীর সংখ্যা ছিল ১ শত আর তাদের এ্যাপস্রে মাধ্যমে লেনদেন হয়েছিল ১.৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু তাদের উচ্চাশার কাছে তা যথেষ্ট ছিল না মোটেও। আরও বড় কিছু করার আশায় তারা চলে আসেন তাদের স্বপ্নের ঠিকানা সিলিকন ভেলিতে। পাশাপাশি নাম লেখান স্ট্যানফোর্ডে। সে সময়ই তারা একটি বিষয় লক্ষ্য করেন ঋণ প্রদানে ছোট ব্যাবসায়ীদের ক্ষেত্রে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর অনীহা এবং হাজার রকম শর্ত। ঋণ দান প্রক্রিয়াকে সহজ করতে এপ্রিল ২০১৭ সালে তারা গড়ে তোলেন ব্রেক্স। খুব অল্প দিনেই তাদের প্রতিষ্ঠান বিশালাকার ধারণ করায় দু’জনেই স্ট্যানফোর্ড ত্যাগ করে ব্যবসায় মনোযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ব্রেক্স এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে ঋন দানের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জামানত বা তৃতীয় পক্ষের নিশ্চয়তার প্রয়োজন হয় না। খুবই অল্প সময়ে ঋন দেয়া না দেয়ার বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়। হেনরিকের ভাষায়, আমরা আসলে আমাদের পূর্বের কোম্পানির পদ্ধতিই এখানে ব্যবহার করছি, শুধু কাজের গতি বেশি। কারণ এটা সিলিকন ভেলি; এথানে টাকা খরচ করা সোজা কিন্তু উপার্জন করা কঠিন। হেনরিক আরও বলেন, আমরা কর্পোরেট ক্রেডিট কার্ডে এক চেটিয়া প্রভাব বিস্তার করতে চাই। আমরা চাই পৃথিবীর প্রতিটি কোম্পানি ব্যবসায়িক লেনদেন করবেন ব্রেক্স কার্ডের মাধ্যমে। এই জুটির স্বপ্ন সফল হলে পরিচিত ব্যসায়িক জগত বদলে যাবে অনেকটাই।