১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাণীনগরে আধুনিক খাদ্যগুদাম তৈরীর দাবি স্থানীয়দের

রাণীনগরে আধুনিক খাদ্যগুদাম তৈরীর দাবি স্থানীয়দের

নিজস্ব সংবাদদাতা, নওগাঁ॥ সারা দেশের ন্যায় নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ধান ও গমের উৎপাদন। কিন্তু সেই তুলনায় নেই পর্যাপ্ত ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন আধুনিক মানসম্মত খাদ্যগুদাম। যার কারণে প্রতি মৌসুমে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান ও গম সংরক্ষনের ক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। উপজেলায় আর একটি নতুন খাদ্যগুদাম বর্তমানে সময়ের দাবি। আর পুরনো খাদ্যগুদামের সংস্কার করা বিশেষ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় উৎপাদিত ধান, গম, চাল সংরক্ষণ ও কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ভাবে ধান ও গম সংগ্রহ করার জন্য আশির দশকে রাণীনগর বাজারের অনুকুলে স্থাপন করা হয় রাণীনগর এলএসডি খাদ্যগুদাম। সেই সময় এর ধারন ক্ষমতা ছিল সাধারন ভাবে ১৫শ’ মেট্টিন টন এবং সর্বোচ্চ ভাবে ১৯শ’ মেট্টিক টন। যা বর্তমান চাহিদার তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে এই খাদ্যগুদাম অনেক সমস্যায় জর্জড়িত। খাদ্যগুদামের চারদিকে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় গুদামে প্রবেশ করার জন্য প্রশস্ত কোন রাস্তা নেই। যার কারণে একমাত্র সরু রাস্তা দিয়ে গুদামে মাল বোঝাই ট্রাক চলাচলের সময় সৃষ্টি হয় ব্যাপক যানজটের। তখন চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী সাধারন মানুষের। এছাড়া গুদাম ঘরগুলোর দীর্ঘদিন কোন সংস্কার না করায় বর্তমানে জরাজীর্ন অবস্থা। ঘরের ছাদ ও দেয়াল থেকে খসে পড়ছে পলেস্তার।

রাণীনগর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহা. শরিফুল ইসলাম (লিটন) বলেন, বর্তমানে এই উপজেলার জন্য প্রায় ৩ হাজার মেট্টিক টন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি আধুনিক মানসম্মত খাদ্যগুদাম খুবই প্রয়োজন। বর্তমান খাদ্যগুদামের ধারণ ক্ষমতা প্রয়োজনের চাইতে খুব কম হওয়ার কারণে এই অঞ্চলের কৃষক ও মিলাররা সরকারি বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন বছরের পর বছর। যার প্রভাবে উপজেলার ছোট-বড় অনেক চাতাল মিল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কৃষক ধান কিংবা গমের নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে চাষাবাদ থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। মাঝখান থেকে লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্বত্তভোগীরা। তিনি আরো বলেন, বর্তমান খাদ্যগুদামের অবস্থা খুবই নাজুক। নতুন করে এর ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য কোন জায়গা নেই। কারণ এর চারপাশে রয়েছে বিভিন্ন মার্কেট ও ভবন। তাই উপজেলার অন্য কোনো স্থানে যদি নতুন করে আধুনিক মানসম্মত একটি খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হয় তাহলে এই অঞ্চলের কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমন করে আবার চাঙ্গা হয়ে উঠবে এলাকার চাতাল মিলগুলো আর নতুন করে ঘুরতে শুরু করবে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চাকা।