২৬ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফুটপাথ তুমি কার

ফুটপাথের সহজ মানেই সড়কের পাশে পথচারী চলাচলের একটি নির্দিষ্ট পরিসীমার নিরাপদ স্থান, যা মূল সড়ক থেকে নিরাপদ দূরত্বে পথচারীদের চলাচল ব্যবস্থাপনার একটি আইনগত পর্যায়। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেক কিছু পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে ফুটপাথ ব্যবহারের ওপরও ভিন্ন পরিস্থিতি এখন দৃশ্যমান। হকার, ক্ষুদে ব্যবসায়ী কিংবা অস্থায়ী কোন বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ফুটপাথ নামক সড়কের এই নিরাপদ জায়গাটি প্রায় দখল করে নিয়েছে। বিস্ময়করভাবে এটাই সত্য যে, পথচারীরা এখন আর ফুটপাথের ওপর দিয়ে হাঁটে না বরং তারা রাস্তার মাঝখানে, গণপরিবহনের আশপাশে কিংবা নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো হাঁটা শুরু করে। তাই বলে ফুটপাথ কিন্তু খালি পড়ে থাকে না। হকাররা প্রতিদিনের খবরের কাগজ বিক্রি করতে কিছুটা অংশজুড়ে জায়গা করে নেয়। অন্যান্য ছোট ব্যবসায়ী যেমন জুতা, গামছা, গেঞ্জি, ছোটদের জামা-কাপড়, মেয়েদের হরেকরকম অলঙ্কারসহ কিছু সওদা নিয়ে ফুটপাথে তাদের পশরা সাজিয়ে বসে। একেবারে বিনে পয়সার নয়। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, মস্তান, পুলিশ, হোমরা-চোমরা ব্যবসায়ী সবার খপ্পরে পড়ে ফুটপাথ প্রায় বেদখল। হকার থেকে শুরু করে অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নির্দিষ্ট টাকা জমা দিয়ে ফুটপাথে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে পণ্য বেচা-বিক্রির জন্য। এছাড়াও আছে প্রতিদিন চাঁদা দেয়ার ব্যাপার। নিয়মিত টাকা দিতে হয় এসব রাঘববোয়ালকে। এতে হকাররা ক্ষুব্ধ। হকার সংগঠন থেকে জানানো হয় তাদের এককালীন ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা দিতে। এতেও ফুটপাথ দখলকারী চক্র সন্তুষ্ট হয় না। অথচ দেয়া-নেয়া দুটোই অবৈধ। সংগঠন দাবি তোলে বৈধভাবে সরকারকে রাজস্ব দিয়ে যদি তারা ফুটপাথে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারে এর চেয়ে ভাল আর কিছু হয় না। পাশাপাশি সরকারও রাজস্ব বাবদ শুধু রাজধানীতেই ৬০ লাখ টাকা পেতে পারে। ঢাকার ১ লাখ হকার যদি প্রতিদিন ৬০ টাকা করে দেয় তাহলে সরকারও লাভবান হতে পারে। অনৈতিক কার্যকলাপ থেকেও তারা মুক্তি পেতে চায়। সরকারই পারে তাদের আইনগত অধিকার দিয়ে ব্যবসার নৈতিক দিকটাকে জনবান্ধব করে তুলতে। এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। অনেক বাদপ্রতিবাদেও লাভ হয়নি। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হকারদের এমন পুরনো সঙ্কটকে নতুন কর্মপরিকল্পনার আওতায় এনে একনেকে প্রকল্প পাস করেছেন। বাস্তবে সে কর্মযোগের কোন সুফল আজ অবধি দৃশ্যমান হয়নি। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী হকারদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যবসার সুযোগ দিতে হলিডে মার্কেটের প্রস্তাব করেছেন। যেখানে স্থায়ী দোকান বরাদ্দ থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্টদের আইডি কার্ড প্রদানসহ বেশ কিছু উদ্যোগের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু কোন প্রকল্প বাস্তবায়নের নিশানা এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত পথে হকারদের জীবন ও জীবিকাকে সামনে এনে নতুন করে তাদের কর্মজীবনকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে হকারদের বাণিজ্যিক ব্যবস্থা তাদের অনুকূলে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে কোন নির্দিষ্ট স্থানে নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে ৮-১০ ঘণ্টা টোকেনের মাধ্যমে হকাররা জায়গা ভাড়া নিতে পারে। বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির বক্তব্য অনুযায়ী ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট স্থানকে নির্ধারিত অর্থে বরাদ্দ দিয়ে হকারদের আইনী অধিকার দিলে জবরদখলকারীদের দাপট কমে যাবে। যখন-তখন উচ্ছেদ অভিযানের নামে তাদের নিপীড়ন করতে বিশেষ চক্রটি বাধার সম্মুখীন হবে। বাণিজ্যিক ফুটপাথগুলোতে যে সব ক্ষুদে ব্যবসায়ী তাদের প্রতিদিনের জীবিকা নির্বাহের আস্তানা গেড়েছে তাদের ন্যূনতম আইনী অধিকার দেয়া এই মুহূর্তে বিশেষ জরুরী। এর পাশাপাশি পথচারীদের অবাধ চলাচলের জন্য ফুটপাথও উন্মুক্ত রাখতে হবে বৈকি।