১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অভিমত ॥ লাউয়াছড়ায় হুমকিতে জীববৈচিত্র্য!

  • মতিলাল দেব রায়

লাউয়াছড়া বনাঞ্চলকে সরকার কর্তৃক ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্ক হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়। দেশী-বিদেশী টুরিস্ট আকৃষ্ট করার জন্য পার্কের ভেতরে ও বাইরে দৃষ্টিনন্দন এবং পরিবেশবান্ধব কিছু উন্নয়ন কাজ করা হয় যা বনবিভাগ অবগত। তার মধ্যে একটি তথ্যকেন্দ্র তৈরি, বনের ভেতর হাঁটার জন্য ছোট রাস্তা সৃষ্টি করা, একটি অফিস ঘর নির্মাণ, একটি নলকূপ বসানো হয়। প্রায় ১৩০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃৃত বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক বন লাউয়াছড়া পৃথিবীর বিলুপ্তপ্রায় এক জাতীয় উল্লুক আজও বেঁচে আছে। তাছাড়া মায়া হরিণ, উল্লুকসহ হাজার রকমের বন্য প্রাণীর প্রকৃতিক সংগ্রহশালা লাউয়াছড়া পাহাড়কে ধ্বংস করার জন্য একশ্রেণীর বিত্তবান মানুষ ও কোম্পানি যেন উঠেপড়ে লেগেছে। এই লাউয়াছড়ার বুকের ওপর দিয়ে দিন-রাত আন্তঃনগর জয়ন্তিকা, উপবন, পারাবত ট্রেনসহ কয়েকটি ট্রেন চলাচল করে পাহাড়কে কাঁপিয়ে দিয়ে যায় যা জীবজন্তুর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তাছাড়া শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ রাস্তা চলে গেছে এই বনের পেটের ওপর দিয়ে, কিছুদিন পরপর এখানে ট্রেনে কাটা পড়ে অনেক বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হয়। তাছাড়া মাগুরছড়া গ্যাস ফিল্ডে আগুন লেগে গাছগাছালি পুড়ে জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার লাউয়াছড়া বন একবার বিধ্বস্ত হয়। শেভরন নামক তেল কোম্পানি তেল অনুসন্ধানের জন্য সিসমিক জরিপ চালাতে ডিনামাইট ব্যবহার করে পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশকে ধ্বংস করে দিয়ে যায় এবং ওই পাহাড়ের ভৌগোলিক পরিবর্তন ঘটে। আপনারা জানেন যে লাউয়াছড়া এলাকায় গ্র্যান্ড সুলতান নামক একটি পাঁচতারা বিলাসবহুল হোটেল চালু হয়েছে যা ইতোমধ্যে দেশে এবং বিদেশে অনেক সুনাম কুড়িয়েছে। কিন্তু এই পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য আরেকটি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে, লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমানায় ফরেস্ট ভিলেজ ডলুছড়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম কোম্পানি টেলিটকের টাওয়ার বসানোর কাজ চলছে। এই টাওয়ার বসানোর ফলে লাউয়াছড়ার জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। প্রাকৃতিক বনের পরিবেশ নষ্ট হয় এই রকম কোন উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হবে। লাউয়াছড়া পার্কের ভেতরে অনুমতি ছাড়া বাইরের কোন আগন্তুক এখানে প্রবেশ নিষেধ। এই বন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন বিভাগের কর্মকর্তারা আছেন তাছাড়া সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্মানিত সদস্যরা আছেন। কার অনুমতি নিয়ে এই টাওয়ার বসাচ্ছে, তা জানার প্রয়োজন নেই। অবিলম্বে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

যে লাউয়াছড়া বনের প্রভাবে কমলগঞ্জ এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় আবার শীতকালে প্রচুর শীত অনুভূত হয়। লাউয়াছড়া বাঁচলে কমলগঞ্জ বাঁচবে। তাই লাউয়াছড়াকে বাঁচাতে সর্বস্তরের জনসাধারণকে সোচ্চার হওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। ইতোমধ্যে শ্রীমঙ্গলের সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের জনসাধারণ মোবাইল কোম্পানির টাওয়ার বসানো অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করা অব্যাহত রেখেছে।

জানা গেছে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুই কিলোমিটারের ভেতরে মোবাইল কোম্পানির টাওয়ার বসানোর কোন অনুমতি নেই। কোম্পানির টাওয়ারের রেডিয়েশনের প্রভাবে পাখির ডিম ও ব্রিডিং ক্ষমতা নষ্ট হয় এবং বন্যপ্রাণীর জীববৈচিত্র্যের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই এখানে কোন অবস্থাতেই টাওয়ার বসানো ঠিক হবে না। ওই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে টাওয়ার বসানো থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক, কমলগঞ্জ সোসাইটি ইউএসএ ইন্ক