২১ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘আমিরকে হিসেবে রাখুন’

‘আমিরকে হিসেবে রাখুন’
  • বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ মোহাম্মদ আমির যেন থ্রিলার সিনেমার এক চরিত্র। ২৭ বছরে জীবনে ১০ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। কত কি যে দেখলেন, কত কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন। হ্যাঁ, সম্প্রতিক ফর্ম প্রত্যাশিত নয়, তাই বলে ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ আর আমির নেই এটা মানা যায়? ১৭ বছরের অবুঝ বয়সে অন্যের প্ররোচনায় ভুল করেছিলেন। নিষেধাজ্ঞার পাঁচ বছর পুরোটই এই ইংল্যান্ডে কেটেছে। প্রত্যাবর্তনে ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের অন্যতম নায়ক তিনি। অথচ মাথামোটা ম্যানেজমেন্ট ফর্মের ধুুয়ো তুলে বিশ্বকাপের দলে রাখেনি। যদিও ৫ মে ইংল্যান্ডেই স্বাগতিকদের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া এক টি২০ ও পাঁচ ওয়ানডের সিরিজে আছেন। নির্বাচক ইনজামাম উল হক এবং কোচ মিকি আর্থার জানিয়েছেন, এখানে ভাল করে ফেরার সুযোগ রয়েছে। ওয়াসিম আকরাম তো আরও একধাপ এগিয়ে। পাকিস্তান গ্রেটের মতে, ‘আমির ঠিকই বিশ্বকাপের দলে ফিরবে এবং আপনি ওকে হিসেবের বাইরে রাখলে ভুল করবেন।’

ওয়াসিম আকরাম বলেন, ‘বিশ্বকাপে আমরা আমিরকে হিসেবের বাইরে রাখতে পারি না। ইংলিশ কন্ডিশনে সে ভাল খেলে থাকে। সেই বিবেচনায় আমার প্রথম পছন্দ আমির। আমি নিশ্চিত একবার ছন্দ ফিরে পেলে সে ভাল করবে।’ জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেট দুইদিক থেকেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমিরের অভিজ্ঞতা আছে বলে উল্লেখ করেন পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সাবেক এই অধিনায়ক। সরফরাজ আহমেদের দলটি এবার অনেকটাই তারুণ্যনির্ভর। কেবল হারিস সোহেল ও অধিনায়ক সরফরাজ ২০১৫, শোয়েব মালিক ২০০৭ এবং মোহাম্মদ হাফিজের ২০০৭ এবং ২০১১ বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ওয়াসিম আকরাম আরও বলেন ,‘তারুণ্য এবং অভিজ্ঞতার মিশ্রণেই বড় বড় ইভেন্টগুলো জেতা যায়।’ বছরের শুরুর দিকে পাকিস্তান সুপার লীগে (পিএসএল) আমিরকে নিয়ে কাজ করা ওয়াসিম আকরামের মূল্যায়ন, ‘আমি সবসময়ই তারুণ্যের পক্ষে। তবে অভিজ্ঞতারও কোন বিকল্প নেই। সুতরাং আমাদের উচিত অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের সংমিশ্রন ঘটানো। আমির মেধাবী পেস বোলার। ও সবসময় শিখতে চায়। সুতরাং আমি আশা করছি খুব শীঘ্রই ভাল করে সে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ফিরে আসবে। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে পাকিস্তান দলের ওকে ভীষণ প্রয়োজন।’

স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ভাল করতে পারলে ফেরার সুযোগ আছে আমিরের। আগামী ২৩ মে পর্যন্ত দলগুলো তাদের স্কোয়াডে পরিবর্তন আনতে পারবে। ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে পাওয়া পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০১১ ও ২০১৫ বিশ্বকাপ মিস করার পর এবারও খেলতে না পারলে তরুণ আমিরের জন্য সেটি হবে আরও একটি দুঃখজনক ব্যাপার। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর বেশ ভাল পরফরর্মেন্স করছিলেন। পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেট, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) ও পাকিস্তান সুপার লীগে (পিএসএল) দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ফিরেছিলেন জাতীয় দলে। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ১৪ রানে তার ৪ উইকেট শিকারের সুবাদে নাটকীয়ভাবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল পাকিস্তান। কিন্তু তারপরই যেন খেই হারিয়ে ফেলেন।

৩১ মে নটিংহ্যামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে ২৪ মে আফগানিস্তান এবং ২৬ মে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে সরফরাজ আহমেদের দল। আর তার আগে ইংল্যান্ডের সঙ্গে পাঁচ ওয়ানডের সিরিজ বিশ্বকাপ স্বপ্নপূরণে আমিরের জন্য এ্যাসিড টেস্ট। গ্রেট ওয়াসিম আকরামের প্রত্যাশা, ঠিকই ফিরবে সে।