২৬ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তাহিরপুরে অবৈধভাবে চলছে পাথর ও বালু উত্তোলন

  তাহিরপুরে অবৈধভাবে চলছে পাথর ও বালু উত্তোলন

নিজস্ব সংবাদদাতা, সুনামগঞ্জ ॥ তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার ও বোমা মেশিনের মাধ্যমে দিনে রাতে বালু উত্তোলন করছে সিন্ডিকেট চক্রের লোকেরা। প্রতিদিন ১৫০/ ২০০ বোমা মেশিন দিয়ে এসব বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এবিষয়ে জেলা প্রশাসনের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসন অভিযান চালিয়েও বন্ধ করতে পারিনি বালু ও পাথর উত্তোলন। এই সিন্ডিকেট চক্রের লোকেরা বালু ও পাথর উত্তোলনে হিং¯্র রুপ ধারণ করছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ উপজেলা প্রশাসনের সাথে তাদের যোগসাজস রয়েছে। যার ফলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশকে কোনো তোয়াক্কা না করে অবাদে বালু ও পাথর উত্তোলন করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এই বালু ও পাথর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে লাউড়েরগড় বালুচরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ডালারপাড় গ্রামের মৃত ইউনুছ মিয়ার ছেলে মোঃ জামাল উদ্দিন গ্রুপের সাথে একই ইউনিয়নের ছড়ারপাড় গ্রামের মাদু মিয়ার ছেলে আক্কাছ আলী গ্রুপে লাউড়েরগড় এলাকায় বালুর কোয়ারীর দখল নিয়ে কথা কাটাাকটি হয়। এরই জের ধরে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অন্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ইউনুছ আলী(৩৫), ওহেদ আলী(২৫),জাহেদ আলী(২৫) মেদর আলী(৩৮) তার সহোদর আব্দুল কুদ্দুছ(৫৫) গুরুতর হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসনে দায়সাড়া ভাবে কাজ করার জন্যই এমন ঘটনা ঘটে। এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের দাবী প্রতিদিনই অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে অভিযান পরিচালনার আগেই বালু ও পাথর উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যায়। প্রশাসনের এই বক্তব্য মানতে নারাজ স্থানীয় লোকেরা। তাদের দাবী প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে এই সিন্ডিকেটের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে অভিযানের খবর পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, যাদুকাটা নদীতে প্রতিদিনই দেড়শ থেকে দুইশ বোমা ও ড্রেজার দিয়ে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন চলছে। এসব বোমা মেশিন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। পাথর উত্তোলনকারীদের সাথে যোগাযোগ করে লোক দেখানো অভিযান করা হয় বলে তারা জানান। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তাহিরপুর উপজেলা সহকারি ভূমি কমিশনার (এ্যাসিল্যান্ড) মনতাসির হাসান জানান, আমরা প্রতিদিনই অভিযান পরিচালনা করছি। গত বৃহস্পতিবারে অভিযান চালিয়েও ১৩টি বোমা মেশিন ভা্চংুর করা হয়েছে। এছাড়াও গত সোমবার এবং গতকাল অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এসময় কাউকে পাওয়া যায়নি। হয়তো অভিযানের খবর পেয়ে পালিয়ে গেছে।