১৫ মে ২০১৯

বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙ্গা নিয়ে উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ

প্রখ্যাত সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙ্গা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মঙ্গলবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ কলকাতায় নির্বাচনী রোড শো করার সময় রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙ্গা হয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেছে দেখা যায়, অমিত শাহর রোড শো থেকে কিছু বিজেপি সমর্থক হঠাৎ বিদ্যাসাগর কলেজে ঢুকে এই মূর্তি ভাঙ্গছে। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এ কথা শোনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। মূর্তি ভাঙ্গার দায় চাপান বিজেপি সমর্থকদের ওপর। শুরু হয় উত্তেজনা। এ বর্বরোচিত ঘটনার দায় বিজেপির ওপর চাপিয়ে মমতা বলেন, বিহার, রাজস্থান থেকে গুণ্ডা এনেছে বিজেপি। তাদের দিয়ে এই দাঙ্গা করিয়েছে মোদির দল। এই ধরনের ঘটনার জন্য আমরা লজ্জিত। ভোটে হারবে জেনেই বিজেপি এইসব করছে। মমতার প্রশ্ন যারা মনীষীদের সম্মান দিতে জানেন না তারা দেশ চালাবে কি করে। তিনি আরও বলেন, বিজেপি বাংলার হেরিটেজ, বাংলার মনীষীর গায়ে হাত দিয়েছে। আমার থেকে ভয়ঙ্কর কেউ হবে না। তোমাদের ঔদ্ধত্য খর্ব করবই। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত মোট ৫৮ জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। আরও বেশ কয়েক জনের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার অনলাইনের।

মমতার এই প্রশ্নের উত্তরে বুধবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় দিল্লীতে বিজেপির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন অমিত শাহ। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে সকল সহিংসতার মূলে রয়েছে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস। তারাই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙ্গে আমাদের ওপর দায় চাপাছে। তবে মমতা যতই আমার ওপর দায় চাপাক। আমি ভয় পাই না। আর মমতা পশ্চিমবঙ্গে যতই হিংসা ছড়াবেন ততই ওই রাজ্যে আমাদের ভিত মজবুত হবে। মমতা ব্যানার্জী পশ্চিমবঙ্গে আমাদের উত্থান দেখে ভোট পেতে এই কাজ করেছেন। আমাদের র‌্যালিতে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। আমার সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী না থাকলে জান নিয়ে ফিরতে পারতাম না। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙ্গা নিয়ে বুধবার প্রতিক্রিয়া জানায় সিপিএমসহ অন্য রাজনৈতিক দল। সিপিএম বুধবার কলকাতায় প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। পাশাপাশি রাজ্যটির লেখক, বুদ্ধিজীবীরা নিন্দা জানিয়েছে। কবি শঙ্খ ঘোষ বলেছেন, নিন্দার কোনও ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। অধঃপতনের আর কোন স্তর পর্যন্ত দেখতে হবে জানি না। বিশিষ্ট লেখক কৃষ্ণা বসু বলেছেন, বিদ্যাসাগর নারী কল্যাণে যা করেছেন, তার জন্য প্রতিদিন সকালে উঠে তাকে স্মরণ করা উচিত। তার মূর্তি ভাঙ্গা হলো! তবে আমি মনে করি, এতে বিদ্যাসাগরের কিছু যায় আসে না। এ ভাবে মনীষীদের সম্মানহানি করা যায় না।