১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উত্তরায় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চ!

সাজু আহমেদ ॥ সংস্কৃতি চর্চা তথা নাটকের দর্শক কমে যাওয়ার নেপথ্যে উপযুক্ত মঞ্চ সঙ্কটকেও দায়ী করা হয়। জ্যামের শহর ঢাকায় সংস্কৃতি চর্চার জন্য মঞ্চ খুবই অপ্রতুল। বিশেষ করে বেইলি রোডের মহিলা সমিতি ভবনের নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তন এবং শিল্পকলা একাডেমির কয়েকটি মিলনায়তন ছাড়া আর কোথাও নিয়মিতভাবে নাটক তথা সংস্কৃতি চর্চার জন্য তেমন কোন মঞ্চ নেই। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে অনিয়মিতভাবে শুধু পথনাটকের উৎসব অথবা বিশেষ দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা যায়। এর বাইরে এখানে বেশিরভাগ সময় রাজনৈতিক কর্মসুচী পালিত হয়। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মুক্তমঞ্চ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছিলেন সংস্কৃতি কর্মীরা। এই দাবির প্রেক্ষিতে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলে আসছিলেন। কিন্তু অনেক কালক্ষেপণ হলেও এ বিষয়ে প্রত্যাশিত এবং যথাযথ উদ্যোগ চোখে পরেনি। এ অবস্থায় উত্তরার বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চ প্রতিষ্ঠাকে ঘিরে আশার আলো দেখছেন সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রবীন্দ্র সরণির পশ্চিমের শেষ প্রান্ত বটমূলে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চ। সাংস্কৃতিক অবকাঠামো শূন্য উত্তরাতে দীর্ঘদিন সাংস্কৃতিক কর্মীরা দাবি তুলে আসছিলেন একটি উন্মুক্ত মঞ্চের। যেখানে সারা বছরব্যাপী উত্তরা অঞ্চলের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের আয়োজনগুলো অব্যাহত রাখতে পারে। দাবি উত্তোলনের প্রধানতম সংগঠন গীতাঞ্জলি ললিতকলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাহবুব আমিন মিঠু গত ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত উক্ত স্থান বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শীর্ষক দশ দিনব্যাপী বইমেলা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করে। সেখানে গীতাঞ্জলির উপদেষ্টা রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, সরকারের উপদেষ্টা, এমপি, সচিবসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা ১৮ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি, সংস্কৃতি সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল, বাংলাদেশ পুলিশের ডি আই জি হাবিবুর রহমান বিপিএম (বার), উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার নাবিদ কামাল শৈবাল, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মফিদুল হক, ম হামিদ প্রমুখ।অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র সরণির বটমূলে একটি মুক্তমঞ্চ প্রতিষ্ঠার জোর দাবি করেন গীতাঞ্জলির পরিচালক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাহবুব আমিন মিঠু এবং গীতাঞ্জলির উপদেষ্টা জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম নাম ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চ। উপস্থিত সকলে তা সমর্থন করেন এবং দ্রুত গতিতে তা স্থাপনের আশ্বাস প্রদান করেন। গত ১৩ মে সোমবার মুক্ত মঞ্চের জন্য সেখানে পরিদর্শনে আাসেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন।গীতাঞ্জলির প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আমিন মিঠু এ প্রসঙ্গে জনকণ্ঠকে জানান, এটি একটি ঐতিহাসিক মুক্তমঞ্চ। দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল একটি মুক্তমঞ্চের। যেখানে সারা বছর সাংস্কৃতিক কর্মীরা তাদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন। আমরা এখন খুবই আনন্দিত যে মঞ্চটির নামকরণ ও করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চ। সারাদেশে এই নামে এটি প্রথম একটি মুক্তমঞ্চ। আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীতে এই মঞ্চে থাকবে বছরব্যাপী নানা আয়োজন। আমরা উত্তরা জনপদের সংস্কৃতি কর্মীরা বর্তমান সরকার ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।