২২ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘মানহীন কাজ ভাল বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে’- অপর্ণা

  • রুহুল আমিন ভূঁইয়া

সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপর্ণা ঘোষ। বর্তমানে ঈদের নাটক নিয়ে ব্যস্ত আছেন। শীঘ্রই পত্রিকার সম্পাদক হয়ে হাজির হচ্ছেন অভিনেত্রী অপর্ণা ঘোষ। প্রাচীন উপখ্যানের চরিত্র ‘লিলিথ’কে নিয়ে নির্মিত হ চলচ্চিত্র। বাছাই চ্ছে করা চরিত্র ছাড়া পর্দায় হাজির হতে চান না এই অভিনেত্রী। ‘লিলিথ’ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অপর্ণা বলেন, ছবিতে সম্পাদক হিসেবে অভিনয় করছি। মূলত ছবিটি ফ্যাস্টিবলের জন্য নির্মিত হচ্ছে। প্রথমে এটি নাটক হিসেবেই নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তবে কাজটি করতে গিয়ে দেখা গেছে গল্পটি এমন একটা জায়গায় দাঁড়াচ্ছে যে এটি ফেস্টিভ্যালের জন্য উপযোগী। তখন পরিচালক বিষয়টি জানালেন আমি বললাম ঠিক আছে। একেক জনের এক ভাবনা সিনেমার পর্দায় লিলিথের মাধ্যমে দর্শক দেখতে পারবে। এখনকার সময়ে আমরা ভুল করছি তবে সেই ভুলগুলো চোখে দেখছি না। প্রতিটি সংলাপই মানুষকে ভাবাবে। আমাদের খারাপ ভাল দুটোই আছে। ‘লিলিথ’ সে রকম একটি বিষয় নিয়েই। এরই মধ্যে কিছু অংশের শূটিং শেষ হয়েছে। বাকি অংশ ঈদের পর শূটিং হবে। প্রথমে নাটকের গল্প হিসেবেই জানতেন। পরবর্তীতে চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচালক রিলিজ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করলেন। সে ক্ষেত্রে কী পরিচালক কোন কৌশল অবলম্বন করেছেন? না আমার সে রকম মনে হয়নি। প্রচ- ভাল মনে হয়েছে তাকে। কাজটি করতে গিয়েই ভাল হওয়াতে পরিচালক ভিন্ন চিন্তা-ভাবনা করেছেন। তবে এটি টেলিভিশনে রিলিজ হলে সেটি দর্শক নিবে কিনা সেটাও একটি ভাবনার বিষয়! ব্যক্তিগতভাবে আমার গল্পটি খুবই ভাল লেগেছে, যার কারণে কাজটি করা। এ রকম গল্প সহজে পাওয়া যায় না। -বললেন অপর্ণা।

ঈদের কাজ সম্পর্কে বলুন? অপর্ণা- এরই মধ্যে বেশকিছু কাজ শেষ করেছি। একাধিক কাজ ঈদে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষমেশ যায় না। তবে এবার প্রথমবারের মতো যমজ-১১ নাটকে আমি অভিনয় করেছি। দর্শক ঈদে দেখতে পাবে। এই নাটকের প্রতিটি পর্বই আমার কাছে ভাল লেগেছে। মোশাররফ ভাই নিঃসন্দেহ দুর্দান্ত অভিনেতা। এবার একসঙ্গে চারটি চরিত্রে তাকে দেখা যাবে। কাজটি সুন্দর হয়েছে। এ ছাড়াও সাজ্জাদ সুমনের ক্লাসলেস মোখলেস সিক্যুয়েন্স ক্লাসলেস মোখলেস-২ আসছে, আহত বেলী ফুলের সুগন্ধী কলী, সবার একটা গল্প থাকে, ব্যাড বয়সহ নেপালে ৬টি কাজ করেছি তার থেকে তিন-চারটি নাটক প্রচার হতে পারে। এ ছাড়াও বেশ কিছু নাটক প্রচার হবে। বিভিন্ন সময় ঈদ নাটকের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এ প্রসঙ্গে কি বলবেন? অবশ্যই ঈদ নাটকের মান হারাচ্ছে। আগেরকার সময় ঈদে যে সব নাটক চ্যানেলে প্রচার হতো সেগুলো দেখার জন্য আমরা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকতাম। কিন্তু এখন যে নাটকগুলো হচ্ছে সেগুলোতে সময়, বাজেট, চরিত্রের প্রস্তুতির এসবের সুযোগ থাকে না। এক দুই দিনে নাটক হয়ে যাচ্ছে। এখনকার নাটকে নামে মাত্র গল্প বলে হয়। এটার জন্য সবাই দায়ী।

উওরণের উপায়? এ থেকে উওরণের একটিই উপায় প্রথমে সবাইকে সৎ হতে হবে। দর্শকের কোন দোষ নেই। ভাল কাজ দিলে দর্শক অবশই গ্রহণ করবেন। আমরাই দর্শককে ভাল কাজ দিতে পারছি না। স্বাভাবিকভাবে ভাল পণ্য তৈরি করলে সেটা মানুষ গ্রহণ করবেই। মিডিয়ায় নাটকের জায়গায় একটা রোগ হয়েছে। বর্তমানে মানহীন কাজ ভাল বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। আসলেই কি সেগুলো ভাল কাজ! সবার মধ্যে রোগ বাসা বেঁধেছে সিনেমা তো... ধ্বংস হয়েছে। এখন নাটকও ধ্বংসের পথে। আমরা যে কাজগুলো করছি, সেগুলো কেউই উপভোগ করছি না। চরিত্রের জন্য ভাবার সময় দেয়া হচ্ছে না। চরিত্রের জন্য প্রস্তুতি নিতে সময় না দিলে সেটা কিভাবে ভাল করবে একজন শিল্পী? সময় নেই বাজেটের কারণে। টাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে চ্যানেল পরিচালককে পরিমাণমতো বাজেট দিলেও সেটি পরিচালক আত্মসাত করে। সবার মধ্যে লোভ তৈরি হয়েছে। ৭ লাখ টাকা বাজেট দিলে ৫ লাখ টাকা মেরে বাকি দুই লাখ দিয়ে এক-দুই দিনে নাটক বানিয়ে দিচ্ছে। বাকিটা পরিচালক খেয়ে ফেলছে। তার মধ্যে কোন প্রচেষ্ট নেই যে পুরো টাকাটাই খরচ করে একটি ভাল কাজ দর্শককে উপহার দেই। এটি একটি রোগ হিসেবে সবার মধ্যে বাসা বেঁধেছে। আমার চাহিদা থাকলেও চরিত্রের জন্য সময় পাই না। চরিত্র পছন্দ না হলেও বাধ্য হয়ে কাজ করতে হচ্ছে। সামাগ্রিক ব্যাপার চিন্তা করে কাজটি করতে হচ্ছে। ওয়েব সিরিজে অনীহা নেই অপর্ণার। গত বছর একটি ওয়েব সিরিজে তাকে দেখা গেছে। তারপর আর ভালো গল্প পাইনি বলে কাজ করেননি। ভাল গল্প পেলে ফের ওয়েব সিরিজে কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে। বলেন, প্রতিটি প্লাটফর্মে কাজ করা একজন অভিনয়শিল্পীর কাজ। সেটা যে মাধ্যমই হোক না কেন। বিজ্ঞাপন, নাটক, নাকি চলচ্চিত্র কোন মাধ্যমে অভিনয় বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন? সব মিলিয়ে নিজেকে একজন অভিনেত্রী ভাবতেই ভাল লাগে। নাটকে অভিনয় করেই বেশি আনন্দ পাই। আর চলচ্চিত্রে অভিনয় করাটা স্বপ্নের মতো। নিজেকে বড় পর্দায় দেখার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।