১৪ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সেরা অভিনেতা রওনক রিপন ॥ দাদা সাহেব ফালকে ফিল্ম ফ্যাস্টিভ্যালের নবম আসরে

  • সব্যসাচী দাশ

বানের পানি। নদীর ভাঙ্গন। শিরা, উপ-শিরারমত বিস্তৃত অজ¯্র নদ-নদীর এই জনপদে বহু মানুষের সর্বস্ব নদীর গর্ভে দিনে দুপুরে বিলীন হচ্ছে। তিল তিল করে গড়ে তোলা সংসার, সাত পুরুষের ভিটা কিংবা শতবর্ষী বটবৃক্ষ যুগ যুগ ধরে নদীবক্ষে নীরবে আমরা জলাঞ্জলি দিয়ে আসছি। আবার জীবন বাঁচাতে বারং বার সংগ্রামে নামছি। এমন জীবন এই বঙ্গ দেশে আজও বহমান।

হাসেম। উত্তরবঙ্গের তুলনামূলক দারিদ্র্যপীড়িত এলাকা গাইবান্ধার অধিবাসী। নিজেদের চোখের সামনে নদী গর্ভে সব বিলীন হতে দেখেছে। পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার মতো সম্বল বলতে তার কিছুই নেই। জীবন বাঁচাতে হাসেম শহর চলে আসে। অর্থ উপার্জনের সম্বল তার একটি ‘কোদাল।’ নিষ্ঠুর প্রকৃতি এবং নির্দয় শহুরে জীবনের কাছে হাসেম অসহায়। জীবনের এমন নিদারুণ রূপ নিয়ে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘এই শহরে’। এই সিনেমার অর্জন আকাশচুম্বী। অভিনেতা রওনক রিপন হাসেমের চরিত্রে অভিনয় করে নবম ‘দাদাসাহেব ফালকে’ ফিল্ম ফ্যাস্টিভ্যালে স্টুডেন্ট ক্যাটাগরিতে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন।

রওনক রিপন বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনের একজন নিভৃতচারী প্রতিভাবান শিল্পী। অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক পরিচালনা করেন। তার পরিচালিত নাটক নিয়মিতই টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয় এবং ব্যক্তিগত অভিলাষ নিয়ে আলোচন হয় এই অভিনেতা-পরিচালকের সঙ্গে। আলোচনার প্রাকপর্বে রিপনের কাছে জানতে চাই, কাছের মানুষ আপনাকে একজন নির্মাতা হিসেবে জানেন সেখান থেকে সেরা অভিনেতার পুরস্কার- বিষয়টা কিভাবে উপলব্ধি করছেন। রিপন, বিষয়টা আমি আলাদা করে দেখছি না। কারণ অভিনয় এবং পরিচলানা দুটোই আমি নিজের জন্য করি এবং ভালবেসে করি। ‘এই শহরে’ সিনেমার টাইম ডিউরেশন কত? পঁচিশ মিনিট। ইউটিউব, নেটফিক্স, কিংবা অন্য কোন ওয়েবে এই সিনেমা দেখা যাবে? রিপন, আপাতত দেখা যাবে না। কারণ সিনেমাটি অন্যান্য ফিল্ম ফ্যাস্টিভ্যালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বিশেষ করে গেল সপ্তাহে ‘বস্টন ফিল্ম ফ্যাস্টিভ্যাল’-এর জন্য ‘এই শহরে’ পাঠানো হয়েছে। অনেক চলচ্চিত্র বোদ্ধারা শর্ট ফিল্মকে ফিল্ম বলতে বা স্বীকৃতি দিতে নারাজ। এর পেছনে অনেক শক্ত যুক্তিও তারা দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে তারা বলেন, ‘এই ফিল্ম মানুষের জন্য নয় পুরস্কারের জন্য নির্মত হয়।’ এর সঙ্গে সাধারণের কোন সম্পর্ক এখনও তৈরি হয়নি। একজন শিল্পী হিসেবে বিষয়টা আপনি কীভাবে দেখেন। রিপন, দেখেন এই প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তরে আমি যাব না। শুধু দু-একটা কথা বলব। প্রথমত, কনটেন্ট। সিনেমা নাটক বা অন্য কোন শিল্পকর্ম- যাই বিবেচনা করা হোক না কেন তার কনটেন্ট আসল। এটা যদি ভাল হয় বা মানুষকে আলোড়িত করতে পারে তবে তার গ্রহণ যোগ্যতা সর্বত্র। আর শর্ট ফিল্ম, চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ শর্ট ফিল্ম ‘নরসুন্দর’ করে আমাদের পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন কনটেন্ট ঠিক রেখে স্বল্প সময়ে কিভাবে গভীর প্রণোদনা সৃষ্টি করা যায়। আসলে কনটেন্ট বা বিষয় মূল কথা। আপনার পরিচালিত নাটকের কথা বলুন, আমার ডিরেকশনের প্রথম কাজ শিবু কুমার শীলের গল্পে ‘রোধের অর্কেস্ট্র।’ নাটকটি চারুনীড়মে বিশেষ সম্মানে ভূষিত হয়েছিল এরপর ‘আমি অভিনেতা’, ‘কবিতার কর্মশালা’ পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয় করেছি অনেক নাটকে। দাদা সাহেব ফালকের মতো আন্তর্জাতিক ফ্যাস্টিভ্যালে সেরা অভিনেতার পুরস্কার, অভিনয়ের প্রতি নিশ্চয়ই আরও দায়িত্ব বাড়িয়েছি। রিপন, তা ঠিক। লোকে বলে আমি নাকি অভিনয় ভাল করি। কিন্তু আমি চাই উভয় দিকে ভাল করতে। বলতে পারেন এটা আমার ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ। পুরস্কারপ্রাপ্তি সম্পর্কে বলুন। ভীষণ আবেগের। যখন দেখলাম আমার নামের পাশে বাংলাদেশ শব্দটি লেখা ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম, আর একটা কথা পুরস্কারটি আমার মেয়ে ‘অদিতি জয়ী’কে উৎসর্গ করেছি।