১৫ মে ২০১৯

কিংবদন্তির বিদায়...

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের হলিউডের পর্দা কাঁপানো সঙ্গীতশিল্পী এবং অভিনেত্রী ছিলেন ডরিস ডে। তখনকার আমলে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। একটি গান তাকে নিয়ে গিয়েছিল সফলতার চূড়ায়। গানটি ছিল কু সারা সারা..(যা হবার তাই হবে)।

গানের রচয়িতা জে লিভিংস্টোন ও রে ইভান্সের নাম ছাপিয়ে গানটি বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছিল। ১৯৫৬ সালে গানটির মুক্তির পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। সেই ষাটের দশকের জনপ্রিয় হলিউড অভিনেত্রী, সঙ্গীতশিল্পী ডরিস ডে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। গত সোমবার ডরিস ডে এ্যানিমাল ফাউন্ডেশনের তরফে এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়। তারা আরও জানায় বয়স হিসাবে তাঁর স্বাস্থ্য যথেষ্ট ভাল ছিল, তবে শেষ কয়েকদিন নিউমোনিয়ায় ভুগে কষ্ট পাচ্ছিলেন ডরিস। মৃত্যুর সময় তার পাশে ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা।

বেশকিছু কারণে ভক্তদের হৃদয় কাড়তে পেরেছিলেন ডরিস। ডরিসের নিষ্পাপ মুখ, মিষ্টি হাসি আর সুরেলা কণ্ঠস্বরে মোহিত হয়েছেন পঞ্চাশ, ষাটের দশকের ভক্তনুরাগীরা। সবচেয়ে বড় কথা হলো নায়ক রক হাডসনের সঙ্গে তাঁর জুটি বক্স অফিসে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছিল। খুব সাদা সিদে মিষ্টি হাসির ডরিস আনকোরা সেক্স এ্যাপিল মিশিয়ে দিতে তিনি বিশেষ দক্ষ ছিলেন। খুব তাড়াতাড়ি মানুষের হৃদয় জয় করার বিশেষ এক ক্ষমতা ছিল এ হলিউড সুন্দরীর। যে তখন তাকে দেখত এক নজরে চেয়ে থাকত তার দিকে। যেন প্রেমময় এক নতুন কাব্যের সন্ধান।

ডরিস কোন একাডেমিক পুরস্কার না পেলেও তাঁর অভিনয় আর গানের জন্য শ্রোতাদর্শকের মন পেয়েছেন। তবে সারা জীবনের কীর্তির জন্য ২০০৪ সালে তিনি ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম’ সম্মানে ভূষিত হন। জনপ্রিয় এ হলিউড অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবরে গোটা বিশ্বে এখন শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

ষাটের দশক কাঁপানো ডরিস আশির দশকেই অবসরে যান। তখন তিনি পশু অধিকার আন্দোলনে যোগ দেন। শেষ পর্যন্ত এসব নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন তিনি। অবশেষে নিজ বাস ভবনে ৯৭ বছর বয়সী ডরিস মৃত্যুর কাছে মাথা নত করেন। যেন অনেকটা সুরের আকাশে সূর্যাস্তের মতোই।