২১ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মংলায় সচ্ছলরাও পাচ্ছেন গৃহহীন প্রকল্পের ঘর

নিজস্ব সংবাদদাতা, মংলা, ১৫ মে ॥ সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক আশ্রয়ণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ‘জমি আছে ঘর নেই, নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর অধীনস্থ এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মানা হয়নি যথাযথ নিয়ম। এ প্রকল্প নিয়ে জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগীদের মধ্যে রয়েছে নানামুখী ক্ষোভ। গৃহনির্মাণের অনিয়মের বিষয়টি গত মাসে অনুষ্ঠিত বাগেরহাট জেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন (স্থানীয় সংসদ সদস্য) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার।

এদিকে এ অনিয়মের বিষয়ে তদন্তে নেমেছেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাহিন হোসেন। তিনি বলেন, দুই এক জায়গায় টয়লেট হয়েছে। তবে বেশির ভাগ জায়গাতেই টয়লেট নির্মাণ হয়নি। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতাধীন এ ঘর শুধু অসহায় ও দুস্থ যাদের জমি আছে, গৃহনির্মাণের সামর্থ্য নেই তাদের পাওয়ার কথা। গত ২০১৬-১৭ইং ও ২০১৭-১৮ইং অর্থবছরে মংলা উপজেলায় ৪৮৫টি ঘর নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এ প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণকারী ও উপকারভোগীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায়ও রয়েছে অস্বচ্ছতা। এছাড়া প্রকল্পের যে নিদের্শনা রয়েছে তাও দেখভাল করার দায়িত্বে নিয়োজিতরা হরিলুট করেছেন এ প্রকল্পের লাখ লাখ টাকা। যারা ঘর পেয়েছেন তাদের অনেকেরই ঘরের অবস্থা নাজুক ও নিম্নমানের, বসবাসের উপযোগী হিসেবে নির্মাণ করা হয়নি অধিকাংশ ঘর। এ প্রকল্পে ঘরের সঙ্গে টয়লেট নির্মাণের কথা থাকলেও সেখানেও হয়েছে পুকুর চুরি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ নাহিদুজ্জামান বলেন, সরকারী পরিপত্র অনুযায়ী এ প্রকল্প বাস্তবায়নে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সভাপতি ও তিনি সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা রয়েছে। কিন্তু সদস্য সচিব হিসেবে তার দায়িত্ব নামেই কাগজ কলমে ছিল। কিভাবে দুস্থদের তালিকা তৈরি ও গৃহর্নিমাণ হয়েছে তার কিছুই জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে মংলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জমি আছে ঘর নেই, প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ হরিলুট হয়েছে।