১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন অভিনেত্রী মায়া ঘোষ

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন অভিনেত্রী মায়া ঘোষ

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর ॥ প্রায় দুই শতাধিক সিনেমা ও নাটকে অভিনয় করেছেন। মঞ্চ নাটক, টিভি ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে ছিল সরব উপস্থিতি। দুর্দান্ত অভিনয়ে তুলে ধরেছেন হাসি, কান্না, আনন্দ। মন জয় করেছেন হাজারো মানুষের। সেই অভিনেত্রী মায়া ঘোষ (৭০) এখন হাসপাতালের শয্যায় দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এই মানুষটির চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে বিপাকে পড়েছে পরিবার। ব্যয়বহুল চিকিৎসায় হিমশিম খাচ্ছে স্বজনরা। তবুও হাল ছাড়েননি তারা। যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

১৯৪৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর যশোরের মণিরামপুর উপজেলার প্রতাপকাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মায়া ঘোষ। তার বাবার নাম শংকর প্রসাদ গাঙ্গুলি। পরবর্তীতে একই উপজেলার মাছনা-খানপুর গ্রামের দিলীপ ঘোষের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৮৪ সালে তারা ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এর আগে ১৯৮১ সালে ‘পাতাল বিজয়’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় শুরু করেন। সর্বশেষ ২০১৬ সালে এটিএন বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ডিবি’ অভিনয় করেছেন।

মায়া ঘোষের ছেলে দীপক ঘোষ জানান, ২০০০ সালে মায়া ঘোষের শরীরে ক্যান্সার ধরে পড়ে। ২০০১ সালের ফেব্রুুয়ারিতে কলকতার সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হয়। ধারাবাহিকভাবে চলে চিকিৎসা। ২০০৯ সালের দিকে অনেকটা সুস্থ্য হয়ে ওঠেন। এরপর কিডনি, লিভার ও হাটুর সমস্যা দেখা দেয়। তার চিকিৎসা চলছিল। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে আবারও ক্যান্সার ধরা পড়ে। পুনরায় কলকাতার সরোজগুপ্ত ক্যান্সার হসপিটালে নেওয়া হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে।

সেখান থেকে ফিরে পুনরায় মার্চে যাওয়ার কথা বলা হয়। ১৩ মার্চ শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এরপর ২২ মার্চ কলকাতায় নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার খুব বেশি উন্নতি হয়নি। মায়া ঘোষও দেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। এক পর্যায়ে গত ১৫ এপ্রিল তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় যশোর কুইন্স হসপিটালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন।

দীপক ঘোষ বলেন, মায়ের চিকিৎসায় প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। মায়ের কাছেই আছি দুই ভাই। তেমন কাজ করতে পারছি না। আবার খরচ করতে গিয়েও হিমশিম খাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ্য। কয়েক দফায় সহযোগিতা পেয়েছি। মায়ের অবস্থা ভাল না। শেষ চেষ্টা করে যাচ্ছি। মায়ের চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে আমরা ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছি।