২১ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইংল্যান্ডে বাস্তবতা টের পাচ্ছে পাকিস্তান

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ হালে পানি পাচ্ছে না পাকিস্তান। ৩৫৮ রান করেও তৃতীয় ওয়ানডেতে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে গেছে সরফরাজ আহমেদের দল। বিফলে গেছে ইমাম উল হকের ক্যারিয়ারসেরা ১৫১ রানের ইনিংস। অনেকে বলছেন, এবার রান-বন্যার বিশ্বকাপ দেখবে ক্রিকেটবিশ্ব। এই সিরিজে যেন তারই রিহার্সেল হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১২ রানের হারের আগে ৩৭৩/৩-এর জবাবে ৩৬১/৭ করে ফেলেছিল সফরকারীরা। পরশু ব্রিস্টলে ৯ উইকেটে ৩৫৮ রান করেও সরফরাজের দল হার মেনেছে ৫ ওভার ১ বল আগে। ম্যাচের নায়ক জনি বেয়ারস্টোর ৯৩ বলে ১২৮ রানের ম্যারাথন ইনিংসে ভর করে আয়েশী জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। নিশ্চিত হয়ে যায় সিরিজ হারছে না ইয়ন মরগানের দল। প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। এ নিয়ে টানা আট ওয়ানডেতে হারল পাকিস্তান, চলতি বছর ১২ ম্যাচের ১০টিতেই হার! নটিংহ্যামে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডে।

গত মার্চে আরব আমিরাতে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাঁচ ওয়ানডের কোন সিরিজে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবেছিল পাকিস্তান। দলটির লক্ষ্য ছিল ইংল্যান্ড সফরে এই সিরিজে ঘুরে দাঁড়নো, বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুত করে তোলা। কিন্তু একমাত্র টি২০’র পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডে হারে একটি বিষয় নিশ্চিত যে, সিরিজটা আর তাদের জেতা হচ্ছে না বরং পরের দুটি ম্যাচ সরফরাজদের জন্য টিকে থাকার লড়াই। অথচ টসে হেরে ব্যাটিং পাওয়া পাকিস্তানকে এদিন চ্যালেঞ্জিং স্কোর এনে দিয়েছিলেন ইমাম উল হক এবং আসিফ আলী। ইমাম-উল হকের সেঞ্চুরি ইংলিশদের বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় রানের ইনিংস গড়েছিল পাকিস্তান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৫১ রান করেন ইমাম। ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের মাটিতে কোন পাকিস্তানী ব্যাটসম্যানের এটাই সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। তার সঙ্গে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন আসিফ আলী। শেষদিকে ৯ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ১৮ বলে অপরাজিত ছিলেন হাসান আলী।

ইংল্যান্ডের মাটিতে এর আগে পাকিস্তনের কোন ব্যাটসম্যান হিসেবে সর্বোচ্চ ১৩৮ রান করেছিলেন। সেটা অবশ্য পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয়টিতেই করেছিলেন ফখর জামান। তিনি ১৯৯৯ সালে করা ইজাজ আহমেদের ১৩৭ রানের রেকর্ড ভেঙ্গে ১৩৮ করেছিলেন। পরশু তার রেকর্ডটি ভেঙ্গে দিয়েছেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইমাম-উল-হক। অবশ্য এটা ইমাম-উলের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসও। এর আগে ওয়ানডেতে তার ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস ছিল ১২৮ রানের। গত বছর জুলাইয়ে তিনি জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে করেছিলেন। ১৩১ বলে ইমাম এদিন তার ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১৬ চার ও ১ ছক্কা দিয়ে। ৩৫৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই ১৫৯ রানের জুটি গড়ে দলের জয়ের পথ সহজ করেন ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে যাওয়া জেসন রয় ফেরেন ৫৫ বলে ৮টি চার ও চারটি ছক্কায় ৭৬ রান করে। এরপর তিনে ব্যাটিংয়ে নামা জো রুটকে সঙ্গে নিয়ে ফের ৭৫ রানের জুটি গড়েন বেয়ারস্টো। এই জুটি গড়ার পথে ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি করেন বেয়ারস্টো। মাত্র ৯৩ বলে ১৫টি চার ও পাঁচটি ছক্কায় ১২৮ রান করে আউট হন তিনি। তবে সাজঘরে ফেরার আগে ঠিকই ইংল্যান্ডের জয়ের পথটি তৈরি করে দিয়ে যান তিনি। ম্যাচসেরাও হন বেয়ারস্টো।

৩৬ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৪৩ রানের কার্যকর একটি ইনিংস খেলেন টেস্ট অধিনায়ক জো রুট। এরপর মঈন আলীকে সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৪৬ রানের জুটি গড়তেই আউট বেন স্টোকস। ফেরার আগে ৩৮ বলে ৩৭ রান করেন তিনি। ছয় নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে মঈন আলীর সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৩৫ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন অধিনায়ক ইয়ন মরগান। ব্যক্তিগত ৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন মঈন আলী। ১৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন সেনাপতি ইয়ন মরগান।