২৬ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

৪০ নদী এখন মরা খাল

 ৪০ নদী এখন মরা খাল
  • বাগেরহাটে ২৩ আর শেরপুরে ১৭ নদী বিলীন হতে চলেছে ;###;ঘটেছে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ;###;হারিয়ে যাচ্ছে দেশী মাছ ও জলজপ্রাণী

বাবুল সরদার, বাগেরহাট/ রফিকুল ইসলাম আধার, শেরপুর ॥ সুন্দরবন সংলগ্ন ২৩ নদী বিলীন হতে চলেছে। চলতে পারছে না লঞ্চ-স্টিমার, কার্গো ভেসেল। যে দুই-চারটার অস্তিত্ব আছে তা ভাটার সময় হাঁটুপানিও থাকে না। অন্যদিকে মেঘালয়ঘেঁষা তুরা পাহাড় পাদদেশীয় ১৭ নদী কালের থাবায় বিলীন। বাড়ছে পরিবেশ বিপর্যয়। হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী।

সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে বিলীন হতে চলেছে ২৩ নদী। এর অধিকাংশই মৃতপ্রায়। এখন আর লঞ্চ-স্টিমার ও কার্গো ভেসেল চলতে পারছে না। যাও দুই/চারটার অস্তিত্ব আছে, তার অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে ভাটার সময় হাঁটুপানিও থাকে না। শুকিয়ে যাওয়া এসব নদী দেখে এ জনপদের মানুষ এখন শুধু দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন। স্মৃতিতে খুঁজে ফেরেন উত্তাল-প্রমত্তা এসব নদ-নদীর অতীতের কথা। এ জেলায় পলি জমে মরে যাওয়া ২৩ নদী হচ্ছে পুটিমারী, বিশনা, দাউদখালী, মংলা, ভোলা, ঘষিয়াখালী, কালিগঞ্জ, খোন্তাকাটা, রায়েন্দা, বলেশ্বর, ভৈরব, তালেশ্বর, ভাষা, বেমরতা, দোয়ানিয়া, কুচিবগা, ছবেকী, রাওতি, বেতিবুনিয়া, কলমী, দোয়ানিয়া, যুগীখালী, কুমারখালী, কালীগঙ্গা ও চিত্রা । এছাড়া অতিরিক্ত পলি জমে এবং অবৈধ বাঁধের কারণে মরে গেছে বাগেরহাটের দুই শতাধিক ছোট-বড় খাল।

এসব নদী শুকিয়ে যাওয়ায় একদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নৌবন্দর মংলার সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। চলছে না ঢাকা-খুলনা স্টিমার ও ঢাকা-বাগেরহাট লঞ্চ সার্ভিস । অন্যদিকে নদী,খাল শুকিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা চাষাবাদ করতে শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছেন না। আর বর্ষায় সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ জলবদ্ধতা। প্রতিবছরই কৃষকের ফসল, রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছে। বাড়ছে পরিবেশ বিপর্যয়। মরে যাচ্ছে গাছপালা, হারিয়ে যাচ্ছে সবুজ প্রকৃতি।

এ জেলায় লাখ লাখ হেক্টর ফসলি জমি ও খালে বেড়িবাঁধ দিয়ে অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষের ফলে ফসলি জমিতে স্বাভাবিক জোয়ারের পানি উঠতে পারছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পাঁচটি পোল্ডারের ১৬৫ টি স্লুইসগেটে সরকারী পর্যায়ে কোন লোকবল নিয়োগ না থাকায় ভাটার পানি নামার সময় ফাপগেট (স্লুইসগেটের নিচের অংশ) গুলো সব সময় বন্ধ থাকায় ভরাট হয়েছে নদী। অন্য দিকে ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে এসব নদীতে উজানের পানি না আসার ফলে দীর্ঘসময় ধরে জোয়ারের পানি স্থির হয়ে থাকায় অতিরিক্ত পলি জমেও ভরাট হয়ে গেছে নদী-খাল। এ কারণে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি দ্রুত ভাটায় নেমে গিয়ে ফসলি জমিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়ছে। হ্রাস পাচ্ছে ফসলি জমির উর্বরতা শক্তি। প্রকৃতি ও কৃষিতে বিবর্ণতার ছাপ পড়েছে। বাগেরহাটে অতিরিক্ত পলি জমে শুকিয়ে যাওয়া নদী ড্রেজিং ও খননের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাঈনুদ্দিন, জানান মংলা বন্দর থেকে ঘষিয়াখালী চ্যানেল হয়ে বন্দরের সঙ্গে সহজ যোগাযোগের রুটটি সচল রাখতে রামপাল সদর হয়ে দাউদখালী নদীতে এবছর ড্রেজিং করা হয়েছে। জুনে চ্যানেলটি খুলে দেয়া হবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, নদী-খাল ভরাট হওয়ায় দেশী প্রজাতির মাছ উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। অপরদিকে সমুদ্রের লোনা পানি বদ্ধ হয়ে দেশী সরপুঁটি, পাবদা, শিং, মাগুর, ফোলই, খৈলশা, গজাল, চুচড়া, চাঁন্দা, রয়নাসহ এ অঞ্চলের অর্ধশত প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে। জেলা কৃষি অধিদফতরের উপ পরিচালক আফতাব উদ্দিন জানান, সেচ মৌসুমে নদী-খালে পানি না থাকায় এবং জলাবদ্ধতায় কৃষিক্ষেত্রে আশানুরূপ সাফল্য মিলছে না। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস জনকণ্ঠকে বলেন, নদী-খাল আমাদের জীবন ও সভ্যতার সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। জনস্বার্থে মরতে বসা নদী-খাল দ্রুত পুনর্খননের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ইতোমধ্যে রামপাল-মংলা বৃহত্তর ড্রেজিং ও পুনর্খননের মাধ্যমে মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলের নাব্য ফিরিয়ে আনা হয়েছে। জেলাব্যাপী এ চেষ্টা অব্যাহত। শেরপুর ॥ ‘পাহাড় নদী ধান, খুদে জেলা শেরপুরের প্রাণ’- এ প্রবাদই একসময় ভারতের মেঘালয়ঘেঁষা গারো পাহাড়ের পাদদেশের শেরপুরের প্রাকৃতিক পরিচয় ছিল। কিন্তু আধুনিক উৎকর্ষে কৃষিসমৃদ্ধ এ অঞ্চলে ধান টিকিয়ে রাখা সম্ভব হলেও কালের পরিক্রমা আর মানুষ সৃষ্ট নানা সমস্যায় এখন নদী ও পাহাড় যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। এ অঞ্চলে একসময়ে বয়ে যাওয়া ২৫ নদীর মধ্যে বর্তমানে কালের সাক্ষী হয়ে কোনমতে টিকে আছে মাত্র ৮ নদী। ১৭ নদীই এখন বিলুপ্ত। টিকে থাকা নদীগুলোও নাব্য হারিয়ে ক্ষীণকায় শীর্ণ জলধারায় পরিণত হয়েছে। গারো পাহাড় এলাকায় নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস আর পাহাড়ী টিলা খুঁড়ে পাথর উত্তোলন, নদীতে স্থানে স্থানে অপরিকল্পিত বাঁধ, স্লুইসগেট নির্মাণ, অপরিকল্পিত বালি ও খনিজ সম্পদ আহরণ, দখল-দূষণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হয়ে নদীর অস্তিত্ব দারুণ সঙ্কটে। নদীর বুকে এক সময় পালতোলা নৌকা চলত এখন চলছে আবাদ। কোথাওবা নির্মাণ করা হয়েছে ঘর-বাড়িসহ নানা স্থাপনা, যা পানির প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে। জেলার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নদ-নদী বিলীন। বাকিগুলোও অস্তিত্ব সঙ্কটে। নদী ঘিরে একদা ছিল বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবিকা। এখন তারা আয়ের পথও হারাচ্ছেন। কৃষিসেচ সুবিধার ক্ষেত্রে বেড়েছে বাড়তি খরচ। এ অবস্থায় ‘নদী বাঁচলে বাঁচবে প্রাণ, আসুন নদী সুরক্ষায় সচেতন হই’ স্লোগানে নদ-নদী রক্ষায় করণীয় নির্ধারণে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন-পবাসহ নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগ গোলটেবিল বৈঠক, স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচী চালিয়ে গেলেও বড় ধরনের কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তবে জেলায় ছোট নদী, খাল-বিল ও জলাশয় পুনর্খননে ছয়টি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে মৃগী নদীর শেরপুর সদর ও নকলা অংশে প্রায় ১৫ কিলোমিটার জুড়ে পুনর্খনন কাজ শুরু হয়েছে।

শেরপুরের ভৌগোলিক ও নদ-নদীর ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে এ অঞ্চলে একমাত্র ব্রহ্মপুত্র নদ ছাড়া সব নদীর উৎপত্তি ঘটে। ওসব নদীই ভারত থেকে গারো পাহাড় হয়ে শেরপুর দিয়ে মিশত অন্যান্য নদীতে। দেশ স্বাধীনের আগ পর্যন্ত রেলপথবিহীন শেরপুরের সড়কপথে যোগাযোগ ছিল একেবারেই সীমিত। তখন পাট ও ধান উৎপাদন কেন্দ্র করে শেরপুর অঞ্চল ব্যবসা-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ থাকায় যাতায়াত ও যোগাযোগ অনেকটাই ছিল নদীনির্ভর। ইতিহাস বলে- নদীপথে শেরপুরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও হতো। হাজারও মানুষের জীবিকার অন্যতম অবলম্বন ছিল ওসব নদী। প্রায় দেড় শ’ বছর আগের ইতিহাসে এ অঞ্চলে ষোলোটি প্রধান নদী ও নয়টি খুদে নদীর কথা উল্লেখ রয়েছে। প্রাচীন ঐতিহাসিক গ্রন্থে যে ১৬ প্রধান নদীর নাম আছে সেগুলো হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র, মালিঝি, সোমেশ্বরী, মৃগী, নেত্রবতী, মহাঋষি, থলঙ্গ, ভোগবতী, খারুয়া, দর্শা, ভুরাঘাট, বলেশ্বরী, সুতি, মরাখড়িয়া, বৃদ্ধ ভোগবতী ও খড়িয়া। কালের বিবর্তনে জেলার বেশ কয়েকটি প্রধান নদীর নামেও পরিবর্তন হয়েছে। এগুলোর মধ্যে মরা বা আধামরা হয়ে আটটি নদী এখনও কালের সাক্ষী হয়ে কোন রকমে বেঁচে রয়েছে। এর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র, মৃগী, সোমেশ্বরী ও মালিঝি নদী আগের নামেই এখনও পরিচিত হলেও অন্য চারটির নাম পরিবর্তন হয়েছে। ভোগবতী থেকে ভোগাই, মহাঋষি থেকে মহারশি, থলঙ্গ থেকে চেল্লাখালী ও নেত্রবতী থেকে নেতাই নদী হয়ে গেছে। বিলুপ্তি ঘটেছে বাকি ৮ নদীর। অন্যদিকে ‘দশানি’ নামে নতুন একটি নদীর সৃষ্টি হয়েছে।

হিমালয় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ চীন ও ভারত হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে জামালপুর ও সিরাজগঞ্জ হয়ে শেরপুর, জামালপুর সীমারেখায় প্রবহমান। শেরপুর-জামালপুর অংশে ব্রহ্মপুত্র পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নাম ধারণ করেছে। ব্রহ্মপুত্রই একসময় শেরপুর-জামালপুর জেলার বিশাল চরাঞ্চলের আশীর্বাদ ছিল। কালের আবর্তে আজ এটি একটি ছোট খালে রূপ নিয়েছে। প্রতিবর্ষায় এটি এখন অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। ব্রহ্মপুত্র আগ্রাসী রূপ ধারণ করে চরাঞ্চলকে বন্যায় ভাসিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে। মেঘালয় রাজ্যের তুরাপাহাড় থেকে কংশ নদীর জন্ম হয়ে শেরপুরের হাতিপাগার এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারতে এর নাম কংশ হলেও শেরপুরের নালিতাবাড়ীর হাতিপাগারে এসে এ নদীর নাম হয়েছে ভোগাই। নালিতাবাড়ীর ৫ কিলোমিটার ভাটিতে দিংঘানা, চেল্লাখালী, মহারশি, মালিঝি ইত্যাদি নামে উপনদীর নাম ধারণ করে আবার ভোগাই নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ওই ভোগাই নদী ময়মনসিংহের ফুলপুরের খড়িয়া নদীর সঙ্গে মিশে গেছে। খড়িয়া নদী ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে মিশেছে। দীর্ঘদিনের দখল আর নানা উৎপাতে ওসব নদী আজ বিলীন হয়ে গেছে। আর নকলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সুতি নদী ঘিরে ব্রিটিশ আমলে চন্দ্রকোনায় গড়ে উঠেছিল বিশাল বন্দর। সেই সুতি এখন প্রভাবশালীদের মৎস্য খামারে পরিণত হয়েছে। এখন নদীগুলো পরিমাপ করার মতো অবস্থাও নেই। এছাড়া এক সময়ের শেরপুর পৌর শহরের শান্তস্নিগ্ধ মৃগী নদী এখন আধুনিক পৌর শহরের বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। শহরের বিশাল ড্রেন নামিয়ে দেয়া হয়েছে মৃগী নদীতে। বিলীন হয়েছে নদীর সুস্বাদু মাছ। মৃগীর পানি এখন পূতিগন্ধময় বিষাক্ত।

এ অঞ্চলে একদার বিখ্যাত নেতাই নদী এখন নেতাই খালে রূপান্তরিত হলেও পরে তা একেবারেই হারিয়ে গেছে। নতুন প্রজন্ম এ নদীর নামও আর জানে না। অথচ ওই নেতাই সাবেক শেরপুর পরগনার মধ্যে ৪৩ মাইল দীর্ঘ নদ ছিল বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। এ ছাড়া মৃগী নদীর দৈর্ঘ্য ২৯ মাইল, ব্রহ্মপুত্র নদ সাড়ে ১০ মাইল, মালিঝি সাড়ে ৩৫ মাইল, চেল্লাখালী ১২ মাইল, সোমেশ্বরী সাড়ে ১৮ মাইল, মহারশি ১৫ মাইল ও ভোগাই নদী ১৬ মাইল দীর্ঘ ছিল।

‘শেরপুর টাউনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস’ ও ‘নাগ বংশের ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থের তথ্যমতে, ১৮৮৫, ১৮৯৭ ও ১৯১৮ সালে এ অঞ্চলে প্রবল ভূমিকম্প হয়। ওসব ভূমিকম্পে শেরপুরের বেশকিছু নদী, খাল-বিলের গতি পরিবর্তন ও ভরাট হয়ে যায়। এ ছাড়া উন্নয়ন ও উৎপাদন বাড়াতে ব্রহ্মপুত্র, মহারশি, সোমেশ্বরী, ভোগাই, চেল্লাখালী নদীর স্থানে স্থানে অপরিকল্পিত বাঁধ, স্লুইস গেট নির্মাণের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে আস্তে আস্তে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে চর জেগে উঠেছে। কিন্তু নদী খননের কার্যকর কোন উদ্যোগ-আয়োজন না থাকায় নাব্য হারিয়ে সব নদীই আজ প্রবহহীন। জেগে ওঠা চর চলে যায় প্রভাবশালীদের হাতে। নদীর বুকে চলে চাষাবাদ, গড়ে ওঠে বসতবাড়ি। নানা বিবর্তনে প্রাকৃতিক, অপ্রাকৃতিক ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নাব্য হারানো নদীগুলো এখন পরিণত হয়েছে সামান্য জলাধারে। নদী তার প্রাকৃতিক গতি হারানোয় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজপ্রাণী। নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালী নদী শুষ্ক মৌসুমে শুকিয়ে জেগে উঠেছে বিস্তীর্ণ চর। নদীর বুকে চলছে চাষাবাদ। খননকাজ না করায় দিন দিন নদীটি নাব্য হারাচ্ছে।