২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মৌসুমি অপরাধীরা কোণঠাসা

শংকর কুমার দে ॥ পুলিশের ভাষায় ‘মৌসুমি অপরাধ’। রমজান মাসের শুরুতেই দেখা যায়, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অজ্ঞান পার্টি, মলমপার্টি, ভুয়া ডিবি বা র‌্যাব, প্রতারক চক্রের তৎপরতা। রমজানের শুরুতেই এই ধরনের অপরাধীদের তৎপরতা শুরু হয় এবং ঈদ ঘনিয়ে এলেই এই ধরনের অপরাধীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে এবারের রমজানের শুরু থেকেই মৌসুমি অপরাধের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা শুরু করেছে। পবিত্র রমজান মাস ও ঈদের পর প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযান অব্যাহত থাকে। পুলিশের উচ্চপর্যায় সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

পুলিশ সদর দফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন, রমজানের শুরুতে রাজধানী ঢাকায় তেমন কোন বড় ধরনের অপরাধের ঘটনা সংগঠিত হয়নি। কারণ আগে থেকেই সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি জেলায় গ্রেফতার হয়েছে জেএমবির কয়েকজন জঙ্গী ও আবিষ্কৃত হয়েছে জঙ্গীগোষ্ঠীর গোপন আস্তানা। খোদ রাজধানীর বসিলায় দুই জঙ্গীর আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনাটি রমজান মাসের জন্য সতর্কতা বয়ে এনেছে। অন্য বছরের রমজান মাসের মৌসুমি অপরাধ দমনের চেয়ে এবারের অপরাধ দমনের ধরন পাল্টে গেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার মুখে মৌসুমি অপরাধীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিবছর কেবলমাত্র রমজান মাসেই রাজধানী ঢাকাতেই মলম পার্টি ও অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে থাকেন অন্তত দুই শতাধিক মানুষ। রাজধানীর অন্তত ৩ শতাধিক স্পটে ছিনতাইকারীরা ছিনিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা, যা উদ্ধার হওয়ার ঘটনা নেই বললেই চলে। দেদার চাঁদাবাজি করে সন্ত্রাসীরা। প্রতিবছর রমজান মাস শুরু হলেই ঈদ সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে ওঠে এই ধরনের মৌসুমি অপরাধীরা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, এবারের রমজানের শুরুতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার মুখে মৌসুমি অপরাধীরা উধাও। এই ধরনের অপরাধ এখনও তেমন ঘটার খবর পাওয়া যায়নি। মৌসুমি অপরাধীদের পাকড়াও করতে মাঠে নেমেছের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

ডিএমপি সূত্র জানায়, এবারের রমজান মাসে ও ঈদকে সামনে রেখে অতীতের মতো অজ্ঞান পার্টি যাতে অভিনব উপায়ে নানা কৌশলে পথচারী, যাত্রীদের কিছু খাইয়ে বা মুখে রুমাল ধরে অজ্ঞান করে সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে যেতে না পারে সেজন্য জনগণ, পথচারী, যানবাহন আরোহীসহ সর্বস্তরের মানুষজনকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের যে ধরনের অপরাধীর দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে তার মধ্যে ছিনতাইকারীরা যাতে রাস্তার পথচারীদের নির্জন বা সুবিধাজনক স্থানে ছিনতাই করতে না পারে বিশেষ করে মোটরসাইকেল, বেবিট্যাক্সি, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসের মাধ্যমেও ছিনতাই করতে না পারে সেই দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারণ ছিনতাইকারীদের কাছে ছিনতাইয়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে মহিলাদের ভ্যানিটি ব্যাগ এবং মোবাইল ফোন ও রিক্সারোহী মহিলা যাত্রীদের স্বর্ণালঙ্কার হচ্ছে ছিনতাইকারীদের বড় টার্গেট।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগের উপ-কমিশনার মোঃ মাসুদুর রহমান বলেন, রমজান ও ঈদ সামনে রেখে ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, অজ্ঞানপার্টির অপরাধীদের তৎপরতাও বেড়ে যায়। রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, বেবিট্যাক্সি স্ট্যান্ড, লঞ্চ টার্মিনাল, ফুটপাথ ইত্যাদি স্থানে ওঁৎ পেতে থাকা নানা ধরনের অপরাধীদের খোঁজ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, রাজধানীর থানাগুলোতে যেসব জিডি হয়েছে সেইসব জিডির সূত্র ধরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে ডাকাত দলের প্রায় ৩০ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা র‌্যাব, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টা করছিল। গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, রাজধানীতে এই ধরনের বেশ কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় আছে। তবে অস্ত্র চোরাচালানি চক্র, মাদক ব্যবসায়ী ও জঙ্গীগোষ্ঠী যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং বড় ধরনের নাশকতা ঘটাতে না পারে সেই দিকেই সর্বাধিক সতর্ক দৃষ্টি রেখে অভিযান জোরদার করা হয়েছে, যা গোটা রমজান মাস ও ঈদের পরও অব্যাহত থাকবে।

নির্বাচিত সংবাদ