১৫ মে ২০১৯

ঈদের আগেই মেঘনা গোমতী ও কাঁচপুর সেতু খুলে দেয়া হবে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নতুন নির্মিত দ্বিতীয় মেঘনা, গোমতী ও কাঁচপুর সেতু ঈদের আগেই খুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, এর ফলে ওইসব এলাকায় ঈদের সময় যানজট কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ের সময় এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আগামী ঈদের আগেই এ তিনটি ব্রিজ আমরা উদ্বোধন করতে পারব এবং এসব ব্রিজ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে যান চলাচল করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই আশা পোষণ করেছেন যে, তিনি এগুলো উদ্বোধন করবেন।’ তিনি বলেন, ‘আশা করি, আপাত ওই পয়েন্টে যানজট থাকবে না। ব্রিজগুলো উদ্বোধন না করার জন্য যে যানজট হতো সেটা আর হবে না।’ ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে আর কিছুদিন পর রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এই পথে বিপুল যাত্রীর বাড়িযাত্রা শুরু হবে। সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীরা বলছেন, নতুন সেতুগুলো চালু হলে যানজটের তীব্রতা কমবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াতে কমে যাবে প্রায় দেড় ঘণ্টা। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন সড়ক ও জনপথ অধিদফতর এই তিন সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। আসন্ন বাজেটে বিড়ি-সিগারেটের দাম বৃদ্ধি হবে এমনটি শোনা যাচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাজেট নিয়ে আজকে আলোচনা নেই। বজেটে কোন জিনিসের দাম বাড়বে কোনটার দাম কমবে। এটাতো এ মুহূর্তে বলা ঠিক হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে সমস্ত আইটেম অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে সেগুলো আমরা বাজেট সংসদে দেয়ার আগে বলতে পারিনা। এটা আইনে কভার করেনা।’

২৩০২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন ॥ ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি ওয়েট প্রসেস থেকে ড্রাই প্রসেসে রূপান্তরিত হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবসহ মোট ৬টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে দুই হাজার ৩০২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ক্রয় প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কেমিকাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড-এর উৎপাদন পদ্ধতি ওয়েট প্রসেস থেকে ড্রাই প্রসেসে রূপান্তরকরণ (সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সিমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৬৬৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। বৈঠকে সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) এর মতামতের আলোকে সিসিজিপে কর্তৃক অনুমোদিত ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০০টি এমজি যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ’ শীর্ষক ক্রয় প্রস্তাবের দরদাতার নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সিসিজিপি এর গোচরিভূতকরণের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটিতে ব্যয় হবে ৮৩২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দি কাঁচপুর, মেঘনা, গোমতি সেকেন্ড ব্রিজেস কন্সট্রাকশন এ্যান্ড এক্সিসটিং ব্রিজেস রিহ্যাবিলাইশন প্রজেক্ট’ শীর্ষক প্রকল্পের ভেরিয়েশন-২ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পে অতিরিক্ত ৭৮ কোটি ২ লাখ টাকার কাজ বেশি হয়েছে। তা অনুমোদনের জন্য কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হলে কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশ আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন প্রকল্প-১ (চট্টগ্রাম, ঢাকা, আশুগঞ্জ ও সংযুক্ত নৌ-পথ খনন এবং টার্মিনালসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন কাজের পরামর্শক নিয়োগের চুক্তিমূল্য অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছিল। প্রস্তাবটি আরও পর্যালোচনা করার জন্য প্রস্তাবকারী মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ভোলা ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুত কেন্দ্রের গ্যাস টারবাইন ইউনিট-১ ও ২ এর পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খুচরা যন্ত্রাংশ এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ সেবা সংগ্রহের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ইউনিট-১ এ ব্যয় হবে ২০৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং ইউনিট-২ এ ব্যয় হবে ৩৭১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। মেসার্স জেনারেল ইলেক্ট্রিক প্রকল্পটি দুটি বাস্তবায়ন করবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ‘পল্লী বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণের মাধ্যমে ১৫ লাখ গ্রাহক সংযোগ (১৯ দশমিক ৫ লাখ গ্রাহক সংযোগের সংস্থানসহ ১ম সংশোধন) শীর্ষক প্রকল্পের একটি প্যাকেজ ১৬ হাজার মিটার কন্ডাক্টর, এসিএসআর ও বেয়ার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হবে ১৪৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। তিনি বলেন, কনসোর্টিয়াম অব আনলিমা টেক্সটাইল লিমিটেড এ্যান্ড জিই ক্যাপিটাল গ্লোবাল এ্যানার্জি ইনভেস্টমেন্ট বিভি কর্তৃক নারায়ণগঞ্জ জেলার মেঘনাঘাটে ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাস/আরএনএলজি ভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব শর্ত সাপেক্ষে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বিল্ডওন অপারেট পদ্ধতিতে বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্রটি গড়ে উঠবে। উদ্যোক্তা সংস্থা ২২ বছরের জন্য এটি স্থাপন করবে। তবে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর চুক্তি রিভিউ করা হবে। পাটকলগুলোকে ১০ বছরে ৭ হাজার কোটি টাকা দেয়া হয়েছে ॥ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোকে গত ১০ বছরে ৭ হাজার কোটি টাকা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘পাটকলে আর কত দিন অর্থায়ন করব। গত ১০ বছরে তো আমরা ৭ হাজার কোটি টাকা দিয়েছি। এটা অনেক বড় টাকা। অনেক দিনের বেতন বকেয়ার জন্য পাটকল শ্রমিকরা আন্দোলন করছে এ বিষয়ে সরকার কি করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এখন দেশেই রয়েছেন। আমি তাদেরকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছি। আমার বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর এটার কোন না কোন সমাধান বের করতে পারবেন। তাদেরকে প্রধানমন্ত্রীর নিকট যেতে হবে। তিনি বলেন, ‘পাটকলে আর কত দিন অর্থায়ন করব। গত ১০ বছরেতো আমরা ৭ হাজার কোটি টাকা দিয়েছি। এটা অনেক বড় টাকা। ফ্যাক্টরি চলেনা বন্ধ, বেতন দিতে পারছে না, আমি জানি না এটা কিভাবে সমাধান হবে। প্রধানমন্ত্রীই এটার সমাধান করতে পারবেন।’ তিনি বলেন, ‘আমি যেহেতু সরাসরি এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নই। তাই এ বিষয়ে আমার কথা বলা ঠিক হবে না। কারণ ওই মন্ত্রণালয়ে দুইজন মন্ত্রী রয়েছেন। তারা হয়তো শ্রমিকদের কোন কোন কমিটমেন্ট দিয়েছেন। কিন্তু আমি এ বিষয়ে কোন কমিটমেন্ট করতে পারব না।’ গত কয়েক ধরে বকেয়া বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করছে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা। সরকারের জুট মিল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) অধীনে ২৩টি পাটকলে প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। অধিকাংশ শ্রমিক গত ৬ থেকে ১৩ সপ্তাহ পর্যন্ত কোন বেতন পাচ্ছেন না।