১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

১১ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিএসটিআইর মামলা

 ১১ প্রতিষ্ঠানের  বিরুদ্ধে  বিএসটিআইর  মামলা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিম্নমানের পণ্য বিক্রি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি এবং ওজন যন্ত্রের ভেরিফিকেশন সনদ গ্রহণ না করার অপরাধে ১১ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। বুধবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে এসব মামলা দায়ের করা হয়। বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স গ্রহণ না করে পণ্য বিক্রি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পাউরুটি-বিস্কুট উৎপাদন করার অপরাধে রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় তুর্য ব্রেড এ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরি ও লাইসেন্স না থাকায় যাত্রাবাড়ীর বিক্রমপুর ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভান্ডার, ধামরাইয়ের বেইজ পেপারস লিমিটেড, উত্তরার লা বামবা লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ করার অপরাধে ফকিরাপুল এলাকার আল ইমাম রেস্টুরেন্টকে ৩০ হাজার টাকা, এশিয়া গার্ডেন রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার টাকা, গাউসিয়া হোটেল এ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ৩০ হাজার, আব্দুল কুদ্দুস ভূইয়া স্টোরকে ২০ হাজার টাকা এবং আরামবাগের ঘরোয়া রেস্টুরেন্টকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ভেরিফিকেশন সনদবিহীন ডিজিটাল স্কেলের ব্যবহার ও পণ্যের মোড়কে ওজন, মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ এবং পণ্যের পরিচিতি উল্লেখ না করায় মিরপুরের মেসার্স রওজাত জেনারেল স্টোর এবং মেসার্স মুসলীম সুইটস এ্যান্ড বেকারির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওজনযন্ত্রে ভেরিফিকেশন সনদ না থাকায় সিলেটের কালিঘাট রোডের আখি স্টোর ও আলী স্টোরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া মানহীন পণ্য বিক্রি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির অপরাধে সুবিদবাজার এলাকার মিতালী রেস্তরাঁকে ১০ হাজার টাকা, মধুফুলকে ২ হাজার টাকা, মোহনা সুপার স্টোরকে ২ হাজার টাকা ও ডেইলি শপকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পচা খেজুর বিক্রি করার অপরাধে রাজশাহীর সাহেব বাজার এলাকায় রিপনের খেজুরের দোকানকে ১ হাজার ৫০০ টাকা ও অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ করার অপরাধে মেসার্স সেলিম হোটেল এ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স গ্রহণ না করে দই বিক্রির অপরাধে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার মেসার্স সৌদিয়া হোটেল এবং ভেরিফিকেশন সনদ ছাড়াই ওজনযন্ত্রের বাণিজ্যিক ব্যবহার করার অপরাধে মেসার্স স্বর্ণালী সুইটস কনফেকশনারি এ্যান্ড স্টেশনারি ও মেসার্স দেব জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দইয়ের পাত্রে ওজন ও মূল্য উল্লেখ না থাকায় বগুড়ার সোনাতলা এলাকার মেসার্স সবুজ এ্যান্ড মামুন দধি ভা-ারকে ২ হাজার টাকা ও সিএম লাইসেন্স না থাকায় মেসার্স অদিতি দধি ভান্ডারকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

৭ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল, স্থগিত ১৮ ॥ নিম্নমানের পণ্য হিসেবে চিহ্নিত ৫২টি খাদ্যপণ্যের মধ্যে সাতটির উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি ১৮টি প্রতিষ্ঠানের পণ্য স্থগিত করেছে জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন)। বুধবার বিএসটিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

লাইসেন্স বাতিল হওয়া কোম্পানিগুলোর তালিকায় ড্রিংকিং ওয়াটারের মধ্যে আল সাফি ড্রিংকিং ওয়াটার, শাহারী এ্যান্ড ব্রাদার্সের নারজান ড্রিংকিং ওয়াটার, মর্ন ডিউ পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার এবং আর আর ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার রয়েছে। কেরানীগঞ্জে শান্তা ফুড প্রডাক্টসের টেস্টি, তানি ও তাসকিয়া এবং কামরাঙ্গীরচরের জাহাঙ্গীর ফুড প্রডাক্টসের প্রিয়া ব্র্যান্ডের সফট ড্রিংক পাউডারেরও লাইসেন্সও বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া মিরপুরের বনলতা সুইটস এ্যান্ড বেকারির বনলতা ব্র্যান্ডের ঘি’র লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

লাইসেন্স স্থগিত হওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে সরিষার তেলে সিটি অয়েল মিল-গাজীপুর (তীর), গ্রীন ব্লিসিং ভেজিটেবল অয়েল-নারায়ণগঞ্জ (জিবি), শবনম ভেজিটেবল অয়েল-নারায়ণগঞ্জ (পুষ্টি), বাংলাদেশ এডিবল অয়েল-নারায়ণগঞ্জ (রূপচাঁদা), সুপেয় পানির মধ্যে আররা ফুড এ্যান্ড বেভারেজ (আররা), ডানকান প্রডাক্ট (ডানকান), দীঘি ড্রিংকিং ওয়াটার (দীঘি), প্রাণ এ্যাগ্রো লিমিটেডের প্রাণ ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, হলুদের গুঁড়ার মধ্যে ড্যানিশ, প্রাণ ও ফ্রেশ। কারি পাউডারের মধ্যে প্রাণ ও ড্যানিশ, আয়োডিনযুক্ত লবণের মধ্যে এসিআই ও মোল্লা সল্ট, ধনিয়া গুঁড়ার মধ্যে এসিআই পিওর, নুডলসের মধ্যে নিউজিল্যান্ড ডেইরির ডুডলস এবং চিপসের মধ্যে কাশেম ফুডের সান ব্র্যান্ড রয়েছে। মানোন্নয়ন করে আবার লাইসেন্স গ্রহণের আগে এসব পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ এমনকি খুচরা বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি এর সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক প্রচার বন্ধ করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।