২৬ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মানুষের ভালবাসাই তার শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ॥ সুবীর নন্দী স্মরণসভা

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়’, ‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’, ‘পাহাড়ের কান্না দেখে’, ‘দিন যায় কথা থাকে’, ‘বন্ধু হতে চেয়ে তোমার শত্রু বলে গণ্য হলাম’, ‘কতো যে তোমাকে বেসেছি ভালো’, ‘আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি’সহ অসংখ্য কালজয়ী গানে শ্রোতার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন নন্দিত সঙ্গীতশিল্পী সুবীর নন্দী। সবাইকে শোকে ভাসিয়ে গত ৭ মে চিরবিদায় নেন একুশে পদকপ্রাপ্ত আধুনিক বাংলা গানের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী। তার প্রয়াণে কেঁদেছে অগণন ভক্তের অন্তর। সদ্যপ্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী সুবীর নন্দী স্মরণে এক শোক সভা হয় রাজধানীর হোটেল রাজমণি ঈশাখাঁয় বুধবার বিকেলে। বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশন (বিসিআরএ) আয়োজিত এ স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সংগঠনের সভাপতি অভি চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সুবীর নন্দীর স্মৃতিচারণ করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী সংসদ সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ এমপি, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, এসডি রুবেল, বাসসাস সভাপতি আবদুর রহমান, সঙ্গীত পরিচালক শেখ সাদী খান প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, গুণীদের যে সমাজ সম্মান করে না, সে সমাজে গুণী তৈরি হয় না। সুবীর নন্দীর মতো আপাদমস্তক একজন গুণী শিল্পীর সম্মান যদি আমরা না করি, আমাদের দেশে কখনওই গুণী শিল্পীর জন্ম হবে না। তিনি বলেন, শিল্পী সুবীর নন্দীর চলে যাওয়া মানে সঙ্গীতাঙ্গনের একটি নক্ষত্রের পতন। তার শূন্যস্থান পূরণ হওয়ার নয়। তার সৃষ্টির মধ্যেই তিনি বেঁচে থাকবেন।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, সুবীর নন্দী সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। এত বড় মাপের শিল্পী চলে যাওয়ায় আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে শূন্যতার সৃষ্টি হলো। এ শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। তার গায়কী, পরিমিতি বোধ এত বেশি ছিল যা কারও সঙ্গে তুলনা করা যায় না। তার তুলনা সে নিজেই। তার গানের তো তুলনা নাই। অসাধারণ কণ্ঠ দিয়ে জয় করে নিয়েছে সঙ্গীতপ্রেমী মানুষের হৃদয়। তার বিয়োগ ব্যথায় কাঁদছে গোটা বাঙালী জাতি। তিনি শুধু একজন সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন না, একজন ভাল মনের মানুষও ছিলেন। খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন। দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি তার অগাধ ভালবাসা ছিল। যখন আধুনিকতার নামে সঙ্গীতাঙ্গনে যাচ্ছে তাই অবস্থা চলে, সুবীর তখন তীক্ষ্ন হয়ে কাজ শুরু করেছেন। এ জন্য জাতি তাকে চিরদিন স্মরণ করবে। সুবীর নন্দীর মতো শিল্পী আর আসবে না। তিনি আমাদের যে গান উপহার দিয়ে গেছেন, তার মধ্যেই বেঁচে থাকবেন। আমার অনুরোধ তার গান যেন পরবর্তিতে কোন রকম বিকৃত না হয়। তিনি সব রকম পুরস্কার পেয়েছেন কিন্তু মানুষের ভালবাসাই তার শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। তিনি অর্থের পেছনে না ছুটে আজীবন শিল্পের পেছনে ছুটেছেন। সত্যিকার শিল্পী বলতে যা বোঝায়, সুবীর নন্দী ছিলেন তাই। সুরের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে রাখতেন। এ রকম শিল্পী খুব আছে। সংস্কৃতিতে তার অবদান অন্যতম। তার কালজয়ী গানের সংখ্যা অনেক। তিনি বেশ কিছু গান পরবর্তিতে করেছেন যেগুলো আজও রিলিজ হয় নাই। কিভাবে এ গানগুলো রিলিজ করা যায় সে বিষয়ে সবার এগিয়ে আসা উচিত। তিনি নিজেই সুবীর নন্দী হয়ে উঠেছেন। তার তুলনা একমাত্র তিনি নিজেই। সুবীর নন্দী একটি প্রতিষ্ঠানের নাম। তাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের আধুনিক গানের ইতিহাস লেখা যাবে না। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নতুন বাংলাদেশের স্বতন্ত্র সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিচয় গড়ে তুলতে যে শিল্পীরা অবদান রেখেছেন, তাদের মধ্যে কণ্ঠের জাদুকর সুবীর নন্দী অগ্রগণ্য। তার গান আগামীর প্রজন্মকে ধারাবাহিকভাবে অনুপ্রাণিত করে যাবে।

এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দুলার খান ও অনুষ্ঠান আহ্বায়ক কণ্ঠশিল্পী এসডি রুবেল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক মাজহারুল ইসলাম।