১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও টাইগারদের দাপুটে জয়

  • ত্রিদেশীয় সিরিজ

শাকিল আহমেদ মিরাজ ॥ আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করা বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজে লীগ পর্বের শেষ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ উইকেটের দাপুটে জয় পেয়েছে। বুধবার ডাবলিনের ক্যাস্টল এ্যাভিনিউয়ে পল স্টার্লিংয়ের (১৩০) সেঞ্চুরি ও উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের (৯৪) হাফ সেঞ্চুরির সৌজন্যে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৯২ রানের ‘চ্যালেঞ্জিং’ স্কোরই গড়েছিল স্বাগতিক আইরিশরা। কিন্তু দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে জয় পেতে কষ্ট হয়নি টাইগারদের। ওপেনিংয়ে ১৬.৪ ওভারে ১১৭ রান যোগ করেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। ৫৩ বলে ৯ চারে ৫৭ রান করে আউট হন তামিম। ৬৭ বলে ৯ চার ও এক ছক্কায় লিটনের ব্যাট থেকে আসে ৭৬ রান। ৫১ বলে ৪ চারে ৫০ রান করার পর লেফট-হিপের চোটে পড়ে মাঠ ছাড়েন সাকিব আল হাসান (রিটায়ার্ড হার্ট)। মুশফিকুর রহীম আউট হন ৩৫ রান করে। এরপর মোসাদ্দেক হোসেন ব্যক্তিগত ১৪ রানে ফিরলেও সাব্বির রহমানকে (৭*) সঙ্গী করে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ২৯ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদুল্লাহ। ৪ উইকেটের বিনিময়ে ৪৩ ওভারেই আসে দাপুটে জয়। শুক্রবার ম্যালাহাইডের ফাইনালে টাইগারদের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালই করেছিল আয়ারল্যান্ড। পল স্টার্লিং আর জেমস ম্যাককালাম দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। রুবেল হোসেন এবং আবু জায়েদকে দিয়ে বোলিং ওপেন করান ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। অভিজ্ঞ রুবেল ব্রেক থ্রু এনে দেন। দলীয় ৪৪ রানে রুবেলের বলে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়েন জেমস ম্যাককালাম (৫)। অভিষেকে ফ্লপ আবু জায়েদ এদিন নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট পেয়ে যান। এ্যান্ড্রু বালবির্নির (২০) ব্যাটে লেগে বল চলে যায় উইকেটের পেছনে। সেখানে থাকা মুশফিক বাজপাখির মতো সেই বল গ্লাভসবন্দী করেন। পরপর দুই বলে দুবার জীবন পাওয়া স্টার্লিং ১২৭ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত ১৪১ বলে ৮ চার এবং ৪ ছক্কায় গড়া তার ১৩০ রানের ইনিংস থামে আবু জায়েদের বলে লিটনের তালুবন্দী হয়ে। পরে ২৫ বছর বয়সী পেসার পকেটে পোড়েন আরও ৩ উইকেট। শিকার করেন কেভিন ও’ব্রায়েন (৩), উইলসন (১২) এবং উলিয়াম পোর্টারফিল্ডকে।

১০৬ বলে ৭ চার ২ ছক্কায় ৯৪ করা প্রতিপক্ষ অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের ‘হিট দ্য উইকেট’ আউটটা অবশ্য দুঃখজনক। ৯ ওভারে ৫৮ রানে ৫ উইকেট নেন আবু জায়েদ। সাইফউদ্দিনের শিকার ২ ও রুবেলের একটি। আবু জায়েদের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হবে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচে নেমেছিলেন। নিজেকে প্রমাণের পাহাড়সম চাপ ছিল মাথার ওপর। আগের ম্যাচেই অভিষেকে আলো ছড়াতে পারেননি, ব্যাটসম্যানদের ধন্দে ফেলতে পারেননি, অনেকটাই বিবর্ণ ছিলেন পুরোটা সময়। বিশ্বকাপে তার জায়গাও তাই সুতোর ওপর ঝুলছিল। এমন পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় ম্যাচে হয়তবা শেষ সুযোগই পেয়েছিলেন। আর সেটা যেভাবে কাজে লাগিয়েছেন, তাতে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তার জায়গা নিয়ে এখন প্রশ্ন তোলাই কঠিন। ওয়ানডে তো বটেই। লিস্ট-এ ক্যারিয়ারেও এর আগে কখনও ইনিংসে ৫ উইকেট নেয়া হয়নি তার। অনেক উইকেট হাতে থাকায় স্লগ-ওভারে দ্রুত রান তোলার তাড়ায় বড় শট খেলছিলেন আইরিশ ব্যাটসম্যানরা।

ওই সময়ও উইকেট পেতে লাগে তালিম। আবু জায়েদ উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডকে ওয়াইডলেন্থে বল করে টেনে মারতে বাধ্য করেন এক্সটা কভারে, ক্যাচ বানান বুদ্ধির জোরেই। কেভিন ও’ব্রায়েন তার স্লোয়ার পিক করতে না পেরেই ছোট মাঠেও বল সীমানা ছাড়া করতে না পেরে হয়েছেন কুপোকাত। সেঞ্চুরিয়ান পল স্টার্লিংও একই ভুলে ডিপ মিড উইকেটে বন্দী। গ্যারি উইলিসন কাট করতে গিয়ে সোজা দিয়েছেন পয়েন্ট ক্যাচ। ৫ উইকেট নিয়েও বাঁধনহারা উল্লাস করেননি। তবু নিশ্চিতভাবেই চেহারায় মিলেছে একটা স্বস্তির হাওয়া। মূলত তার বোলিংয়েই আইরিশদের তিন শ’র নিচে আটকাতে পারে বাংলাদেশ। এমন দুর্দন্ত পারফর্মেন্সের পর আবু জায়েদকে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়াটা কঠিনই হবে।