২৭ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সেতু রক্ষণাবেক্ষণের দাবি এলাকাবাসীর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সেতু রক্ষণাবেক্ষণের দাবি এলাকাবাসীর

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর সংলগ্ন মহানন্দা নদীর উপর নির্মিত শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর বীরশ্রেষ্ঠ সেতু। তৃতীয় বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী এই সেতুটি ১৯৯০ সালে নির্মাণ শেষ হয়েছে। এরপর পার হয়েছে ২ যুগের অধীক সময়। ২৯ বছর বয়স এখন এ সেতুটির। বয়সের সাথে সাথে যেমন চীন-মৈত্রী সেতুটি জীর্ণ হয়ে পড়েছে ঠিক তেমনি সড়ক জনপথ বিভাগ প্রতিবছর ইজারা দিচ্ছেন সেতুটির ব্যয় উঠিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেবার লক্ষে। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যারা ইজারা নিচ্ছেন তারা বিভিন্ন যানবাহন পারাপারে অর্থ (টোল) আদায় করছেন ২৪ ঘন্টা। হিসেব অনুযায়ী এতদিনে এ সেতুটি নির্মাণে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা উঠে যাবার পরেও বন্ধ হয়নি ইজারা, বন্ধ হয়নি টোল আদায়। এ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চাপা ক্ষোভ আর হতাশা। এরই মাঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টোল আদায় বন্ধে সোচ্চার হতে দেখা গেছে অনেককেই।

টোল আদায়কে কেন্দ্র করে হরহামেশাই বাকবিতন্ডা, হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। যার সর্বশেষটি ঘটেছে কয়েকদিন আগে শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের বহরে থাকা নেতাকর্মী সমর্থক ও সংশ্লিষ্ট সেতু ইজারাদার টোল আদায়কারীদের সাথে। সেতু পারাপারে টোল (অর্থ) চাওয়াকে কেন্দ্র করেই ঘটছে একেরপর এক সব অনাকাঙ্খিত ঘটনা।

সেতুর নির্মাণ ব্যয় উঠে গেলেও বন্ধ হচ্ছে না টোল আদায়। তবে দুঃখ্যের বিষয় সেতুটি থেকে কোটি কোটি টাকা আয় হলেও সেতুটির রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না। যে সেতু থেকে এত সঞ্চয় সে সেতুর হচ্ছে না কোন প্রকার সংস্কার। অযতেœ দিন দিন স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে জীর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ সেতুর কোন সংস্কার না হবার কারণে সেতুটির দু’দিকের লোহার রেলিং মরিচা ধরে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া সেতুর উপরে প্রত্যেকটা বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে লাগানো বৈদ্যুতিক বোর্ডের ঢাকনা চুরি হয়ে যাবার ফলে খোলা অবস্থাতেই রয়েছে। সেতুর দুই পাড়ের দু’দিকের সিঁড়ির নিচের অংশে মাটি সরে গিয়ে সিঁড়িগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। বারঘরিয়া অংশে এর ব্যাপকতা বেশি দেখা গেছে। এছাড়া বর্ষাকালে পুরো সেতুর উপর বৃষ্টির পানি নামার জন্য যে সব ছিদ্র করা আছে সেগুলোতে ময়লা জমে বন্ধ হয়ে গেছে। অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনের কারণে ৪৪৮.৩০ মিটার সেতুটির উপর অসংখ্য ছোট বড় ফাটল ধরেছে।

১৯৯০ সালের সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনামসজিদ স্থলবন্দরকে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহরের সঙ্গে সংযোগ সাধণ করে এই সেতুটি। সেতুটি প্রতিষ্ঠাকালীন টার্গেট ধরা হয়েছিল এটি শত বছর স্থায়ী হবে। কিন্তু ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত লোড নিয়ে যাববাহন চলাচল করার কারণে স্থায়িত্বকাল নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ২৫ থেকে ৩০টন ধারণ ক্ষমতা হলেও পাথর বহনকারী ট্রাক অনেক ক্ষেত্রেই ৪০ থেকে ৫০ টন পাথর নিয়ে চলাচল করছে।

স্থানীয়রা জানায়, আগে পাথর বোঝাই ট্রাক বা বাস পার হলে সামান্য সেতু দুলত কিন্তু বর্তমানে অতিরিক্ত ভার বহন ট্রাক বা বাস সেতুর উপর উঠলে আগের চেয়ে অনেক বেশি দোল খায়। এরফলে সেতুর পিলারের উপর যে স্প্রিং বসানো আছে তা ক্ষয় হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সোনামসজিদ এলাকায় ওজন পরিমাপক যন্ত্রটি সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উদ্বোধন করার কিছুদিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এ জেড এম ফারহান দাউদ সর্বশেষ ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে জানিয়েছিলেন, ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর বীরশ্রেষ্ঠ সেতুটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং দেশের ৭টি বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সেতু রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে ইতোমধ্যেই চীনের নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রধান কার্যালয়ের মাধ্যমে পত্র দেয়া হয়েছে। অবিলম্বে কাজ শুরু হতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন। স্থানীয় প্রত্রিকাতে সে সময় সংবাদও প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে ১ বছরের অধীক সময় পার হয়ে গেলেও রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কারের কোন কাজ শুরু হতে দেখা যায় নি।

ওপারের মানুষের জন্য শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর বীরশ্রেষ্ঠ সেতুর গুরুত্ব অনেক বেশি। শুধু ওপার নয় দু-পারের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে এ সেতু। কাজেই কালক্ষেপণ না করে অচিরেই সংস্কার করে এ সেতুটির স্থায়ীত্ব দীর্ঘ করা খুব বেশি জরুরী হয়ে পড়েছে। সে সাথে টোল আদায় বন্ধের জন্যও সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জোর আহবান জানিয়েছেন। সবার এখন একটাই দা্বি দ্রুততার সহিত সেতুর টোল (অর্থ) নেয়া বন্ধ করে সেতুটি রক্ষণাবেক্ষণ করা হোক।