২৭ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘ছেলেধরা’ গুজব, বিপাকে মানসিক প্রতিবন্ধীরা

‘ছেলেধরা’ গুজব, বিপাকে মানসিক প্রতিবন্ধীরা

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ ছেলেধরা বা রোহিঙ্গা গুজবে সবচেয়ে বেশি বিপদের মধ্যে রয়েছে চারপাশে ঘুরেবেড়ানো মানসিক প্রতিবন্ধীরা। তাদের কোন নির্দিষ্ট কোন গন্তব্য নেই। এক স্থানে তারা বেশিদিন অবস্থানও করে না। রাষ্ট্রীয় সীমারেখা তাদের আটকাতে পারে না। প্রতিদিন নিত্য নতুন স্থানে ছুটেচলা পাগলরা গণধোলাইয়ের শিকার হচ্ছে। নিরীহ আগুন্তকরাও বাদপড়ছে না গুজব বিশ্বাসীদের আক্রশ থেকে। ফলে এখনো ঘটছে সহিংস ঘটনা।

যশোরে পাগল বা পাগল প্রকৃতির মানুষ দেখলেই রোহিঙ্গা বা ছেলেধরা সন্দেহে গণধোলাই দেওয়া হচ্ছে। আইন নিজের হাতে না নিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে আহবান করেছেন যশোরের জেলা প্রশাসন। তারপরও কেউ প্রশাসনের কথা শুনছে। পাগল প্রকৃতির মানুষ দেখলেই তাকে গণপিটুনি দিচ্ছে। যশোরের বিভিন্ন এলাকায় ছিন্নমূল, বাস্তহারা, পাগল বা পাগল প্রকৃতির মানুষ দেখলেই তাদের উপর চড়াও হয়ে ব্যাপক মারপিট শুরু করছে স্থানীয় কিছু মানুষ। এমনও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে রোহিঙ্গা বা পাগল ধোয়াতুলে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক আক্রোশে প্রতিপক্ষের উপর জনতা লেলিয়ে দিচ্ছে। অভয়নগরের সুন্দলী ইউনিয়নসহ পৌরসাভার কয়েকটি ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে এ ধরনের ধটনা ঘটেছে। গত সোমবার রাতে বাক প্রতিবন্ধী এক বৃদ্ধাকে সুন্দলী বাজারে রোহিঙ্গা ও ছেলেধরা সন্দেহে মারপিট করে আহত অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়। পরে সুন্দলী ইউনিয়নের একজন ইউপি সদস্য রাতেই আহত ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। গত মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই বাক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধাকে পাওয়া যায়নি। ভোরে সে হাসপাতাল থেকে চলে যায় বলে সেবিকারা জানায়। এসময় চিকিৎসা নিতে আসা বুইকারা গ্রামের বৃদ্ধ আলতাফ হোসেন ক্ষোভের সুরে বলেন, নোংরা পোশাক পরা বা পাগল প্রকৃতির মানুষ মত দেখলেই তাদের বিপদ। আমি নিজেও একজন বৃদ্ধ এবং গ্রামের সাধারণ কৃষক। আমার পোশাক তেমন ভালো না। আমি নিজেই এখন রোহিঙ্গা ও ছেলেধরা আতঙ্কে ভুগছি। জানিনা আমাদের মত মানুষের কপালে কি আছে?

গত শুক্রবার ও শনিবার নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪ ও ৬নং ওয়ার্ডে পাগল পিটিয়ে এলাকা ছাড়া করার অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন এলাকায় অপপ্রচার বা মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে অপরাধী বানানো হচ্ছে। রোহিঙ্গা বা ছেলেধরার কল্প কাহিনী বানিয়ে সমাজ বিরোধী একটি চক্র ফাইদা লুটছে।

অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর হোসেন আইনের প্রতি সকলকে শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, অভয়নগর উপজেলা ও পৌর এলাকায় রোহিঙ্গা বা ছেলেধরা বলে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে অতি উৎসাহী এক ধরণের মানুষ এ ধরণের অপরাধি কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে।