১৬ মে ২০১৯

‘জঙ্গী সনাক্তকরণ’ বিজ্ঞাপনটি সম্প্রীতি বাংলাদেশের নয় ॥ পীযূষ

‘জঙ্গী সনাক্তকরণ’ বিজ্ঞাপনটি সম্প্রীতি বাংলাদেশের নয় ॥ পীযূষ

অনলাইন ডেস্ক ॥ আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেস 'গাহি সাম্যের গান' স্লোগানে সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সম্প্রীতি বাংলাদেশের নামে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত ‘জঙ্গী সনাক্তকরণ’ বিজ্ঞাপনটি নিজেদের নয় বলে দাবি করেছে সম্প্রীতি বাংলাদেশ।

সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, অসত্য তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে দেশের সরলপ্রাণ মানুষদের নানাভাবে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টার অংশ এই অপপ্রচার। গত ১২ মে দেশের কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় প্রচারিত বিজ্ঞাপনটির সঙ্গে কোনো পর্যায়েই সম্প্র্রীতি বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই। সম্প্রীতি বাংলাদেশের নামে প্রচারিত বিজ্ঞাপনটি নিয়ে যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে তা অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। প্রকাশিত জঙ্গী সনাক্তকরণ বিজ্ঞাপনটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যসহ বিভিন্ন সভা সমাবেশে সম্প্রতি বাংলাদেশের নামে প্রচারিত জঙ্গী সনাক্তকরণের বিজ্ঞাপনটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।

পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ১২ মে দেশের বেশকিছু জাতীয় পত্রিকায় প্রচারিত বিজ্ঞাপনটির সঙ্গে কোনো পর্যায়েই আমাদের প্রিয় সংগঠন সম্প্রীতি বাংলাদেশের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

সম্প্রীতি বাংলাদেশ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী এবং সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি সামাজিক সংগঠন। দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করতেই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি এমন অপপ্রচার চালিয়েছে। সম্প্রীতি বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই।

তিনি বলেন, সম্প্রীতি বাংলাদেশ সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে অসাম্প্রদায়িক জাতিসত্বার পক্ষে কাজ করে চলেছে। সম্প্রীতি বাংলাদেশ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী এবং সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি সামাজিক সংগঠন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পীযুষ বন্দোপাধ্যায় বলেন, সম্প্রীতি বাংলাদেশ সব মহলের সক্রিয় সহযোগিতায় সব ধরণের উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও ঘৃণ্য সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সব সময় সক্রিয় রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। সম্প্রীতি বাংলাদেশের সঙ্গে যারা আছেন তারা সবাই দেশের সব দুর্যোগ মোকাবেলায় বারংবার অকুতভয় চিত্তে সক্রিয় থেকেছেন।

তিনি বলেন, এই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সতেজ ও সক্রিয় থেকে দেশ, সমাজ ও মানুষের ভাল কাজটি করে যাবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, সম্প্রীতি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের পর থেকে এ পর্যন্ত সমাজের মানবিক বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সুন্দর এক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশে থাকবে আন্তঃধর্ম সুসম্পর্ক। থাকবে না কোনো প্রকার বৈষম্য, থাকবে না কোনো নিপীড়ন-নির্যাতন।

পীযুষ বলেন, সমাজের যে সকল শুভবাদী মানুষের প্রতিনিয়ত সহযোগিতা পেয়েছি এবং পাচ্ছি তাদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।

তিনি বলেন, একই সঙ্গে ধন্যবাদ জানাই গণমাধ্যমে কর্মরত সকল বন্ধুদের, যাদের সহমর্মিতা ও সহযোগিতা আমাদের কার্যক্রমকে গতিশীল ও ত্বরান্বিত করেছে।

সংগঠনের আহ্বায়ক পীযুষ বন্দোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ডা. মামুন আল মাহতাবের (স্বপ্নীল) উপস্থাপনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী সিকদার, সাবেক সংস্কৃতি ও তথ্যসচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, ইসলামী ঐক্যজোট চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী, খ্রিস্টান অ্যাসোয়িশনের সভাপতি উইলিয়াম প্রলয় সমাদ্দার, দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক আলী হাবিব।