২৭ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কলসিন্দুর বিদ্যালয়ে আগুন

বাংলাদেশের নিরন্তর অগ্রযাত্রায় নারীরা আজ দৃপ্ত পদচারণায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার অংশীদারিত্ব বজায় রাখছে। ফুটবল-ক্রিকেটের মতো যে খেলার মাঠে এক সময় পুরুষের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল সেখানেও নারীদের সময়োপযোগী ভূমিকা তাদের অনন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। ময়মনসিংহের কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল এ্যান্ড কলেজের সাহসী এবং উদ্দীপ্ত মেয়েরা ফুটবলের মতো একটি কঠিন খেলাকে নিজেদের আয়ত্তে এনে সম্মাননা জেতার কৃতিত্ব অর্জন করে। বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা তিনবার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে জিতে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। দেশ ও জাতির জন্য গৌরবের এই বিদ্যালয়টিতেই ঘটেছে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুন লাগানোর ঘটনা। ১৪ মে সকালে স্কুল ঘর খোলার পর দেখা যায় অফিস কক্ষে মেয়ে ফুটবলারদের অর্জিত সনদপত্র, সম্মাননা সবই আগুনে পুড়ে মেঝের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। প্রতিপক্ষ কোন উন্মত্ত দুর্বৃত্ত গোষ্ঠী এমন অপকর্ম ঘটিয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ মনে করছে। দুর্বৃত্তরা তালা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে অনেক প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ক্ষুদে নারী ফুটবলারদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর প্রশংসনীয় সনদপত্র ও মেডেল আগুনে পুড়িয়ে দেয়। একটি কম্পিউটারকেও আগুনের শিকার হতে হয় বলে জানা যায়।

কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল এ্যান্ড কলেজটি বর্তমানে জাতীয়করণের প্রক্রিয়া চলছে। সেটার কারণেও কেউ ষড়যন্ত্রমূলক এমন অগ্নিসংযোগের কাজটি ঘটাল কিনা, তা তদন্তে বের হয়ে আসবে। রহস্যজনক এই আগুন লাগানো কাজটির জন্য প্রধান শিক্ষক রতন মিয়া সন্দেহভাজন হিসেবে কাউকে চিহ্নিত করেননি। তবে স্থানীয় ওসি আলী আহমদ জানান ঘটনাটির তদন্ত চলছে। অপরাধীরা নিশ্চয়ই বের হয়ে আসবে ও ধরা পড়বে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এমন অবাঞ্ছিত ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের উদ্দেশ্য কি তা বোঝা না গেলেও মেয়েদের কৃতিত্ব যে সব থেকে বেশি কাজ করেছে তা ভাবতে বোধ হয় সময় লাগে না। ফুটবলের মতো একটা আলোড়নকারী খেলার জগত ক্ষুদে কিশোরীরা দাপটের সঙ্গে মাতিয়ে বেড়াচ্ছে তা বোধ হয় অনেকেই ভাল চোখে দেখেনি। সেই রকম কোন ক্ষোভ থেকে এমন অনাকাক্সিক্ষত আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে কিনা তা জানতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। সারাদেশে মেয়েদের ওপর যে মাত্রায় অত্যাচার, নিপীড়ন চালানো হচ্ছে এটাও তার সহযোগী কোন কাজ কিনা তা নিশ্চয়ই খতিয়ে দেখবে তদন্ত কর্মকর্তারা। তবে কাজটি ন্যক্কারজনক এবং প্রতিহিংসামূলক। কিছুটা নারী বিদ্বেষের ব্যাপারও আছে বৈকি। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।